শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০২১ ২৩:৪৫

মামুনুলকে কাশিমপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর প্রতিনিধি

Google News

নারায়ণগঞ্জের ৬টি মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ডে থাকা হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নিজেদের হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে  জেলা পুলিশ। গতকাল সকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. দেলোয়ার জাহান জানান, নারায়ণগঞ্জের মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত ১১ মে রাতে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মামুনুল হকসহ ১৪ জন হেফাজতে ইসলামের নেতাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৬টি মামলা আলাদাভাবে ছয়জন তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত পরিচালনা করছেন। প্রত্যেক মামলায় আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা পৃথকভাবে তিন দিন করে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য পাওয়া যাবে  সেগুলো নথিভুক্ত করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান  জেলা পুলিশ সুপার।

গত ১২ মে সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা দ্বিতীয় স্ত্রীর ধর্ষণ ও সহিংসতার ৪টিসহ পাঁচ মামলায় মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি মামলায় তিন দিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পরে ১৭ মে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি মামলার আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ৩০ এপ্রিল সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন এক নারী। যাকে মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত ৩ এপ্রিল ‘বিকাল ৫টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা রয়েল রিসোর্ট ভাঙচুর করে নারীসহ মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক একটি মামলা দায়ের করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরও ৩টি মামলা দায়ের করেন। ৬টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।