শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ জুন, ২০২১ ২৩:১১

১৩ জুনের মধ্যে উপহারের ৬ লাখ টিকা পাঠাতে প্রস্তুত চীন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Google News

দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশকে উপহারের জন্য যে ছয় লাখ টিকা দেওয়ার কথা তা ১৩ জুনের মধ্যে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে চীন। তবে বাংলাদেশ কখন চীনের উপহারের টিকা নেবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকায় চীনের দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সেলর ও ডেপুটি চিফ মিশন (ডিসিএম) হুয়ালং ইয়ান গতকাল সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর হুয়ালং ইয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমকেও তিনি একই কথা বলেন। হুয়ালং ইয়ান বলেন, জুনের ১৩ তারিখের মধ্যে ওই টিকা হস্তান্তরের জন্য আমরা তৈরি রয়েছি। তবে বাংলাদেশ কখন তা নেবে, সেটা এখনো ঠিক হয়নি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’ গত ১২ মে বাংলাদেশকে ৫ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছিল চীন। সিনোফার্মের তৈরি ওই টিকার ৩০ হাজার অবশ্য বাংলাদেশে কর্মরত চীনের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় যে ৬ লাখ টিকা বাংলাদেশকে চীন দিচ্ছে, সেটাও সিনোফার্মের তৈরি।

অন্যদিকে সিনোফার্মের কাছ থেকে যে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার কথা আলোচনা করছে সেখানে টিকার দাম প্রকাশ করা নিয়ে চীনের ‘বিরক্তি’ প্রকাশ করা সংক্রান্ত একটি খবরের প্রতিক্রিয়ায় হুয়ালং ইয়ান নিজের ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, গণমাধ্যমের তথ্য যদি সঠিক হয়, তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কেন শুধু মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে! এটা বলা বাহুল্য প্রথমত, এখন পর্যন্ত সিনোফার্মের সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো চুক্তি হয়নি। দ্বিতীয়ত, এটি চীনা সরকার নয়, বরং এটি সিনোফার্ম এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি। আর আমরা আশা করি যে, আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা আগের (নির্ধারিত) তারিখে প্রয়োজনীয় টিকা পাবেন।

জানা যায়, করোনা সংকট মোকাবিলায় চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে টিকা আনার আলোচনা চলছে। অপ্রকাশযোগ্য চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার জানিয়ে দেন ডোজপ্রতি ১০ মার্কিন ডলারে বাংলাদেশকে দেড় কোটি করোনা টিকা দেওয়ার চুক্তি করেছে চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ-সিনোফার্ম। এতে চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় ক্ষোভ। পরে চীনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হয় বাংলাদেশকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশে সিনোফার্মের টিকার দাম প্রকাশ হওয়ায় চীন বিরক্তি প্রকাশ করেছে। আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তবে এ ঘটনায় আমাদের অবস্থান বেশ খানিকটা খারাপ হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার আর ওই দামে টিকা কিনতে পারবে না। আবদুল মোমেন বলেন, চীন অন্য দেশে যে দামে টিকা বিক্রি করে, সে দামেই এখন আমাদের কিনতে হবে। তা দ্বিগুণ বা তিনগুণও হতে পারে।