শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০২১ ২৩:৪৫

বিরল প্রজাতির ধূসর বর্ণের লক্ষ্মী পেঁচা উদ্ধার

দিনাজপুর প্রতিনিধি

বিরল প্রজাতির ধূসর বর্ণের লক্ষ্মী পেঁচা উদ্ধার
Google News

ঝড়ের কবলে পড়া দিনাজপুরে বিরল প্রজাতির ধূসর বর্ণের লক্ষ্মী পেঁচা উদ্ধার হয়েছে। বুধবার বিকালে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামে সম্রাট নামে একজনের বাড়িতে পাখিটি আছড়ে পড়ে। ঠিকমতো উড়তে পারে না। এ সময় তাকে ধরে রাখা হয়। পরে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার ঝড়বৃষ্টিতে ফুলবাড়ীর কাঁটাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও শাহ্ মখদুম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাটের বাড়ির উঠানে আছড়ে পড়ে পেঁচাটি। এরপর অসুস্থ পাখিটির ওপর এক ঝাঁক কাকও আক্রমণ করে। সম্রাট বিষয়টি দেখে এগিয়ে গেলে তিনিও আক্রমণের শিকার হন এবং পেঁচাটি উদ্ধার করেন। সম্র্রাট বলেন, কাকের চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি অসুস্থ পেঁচাকে আক্রমণ করেছে এক ঝাঁক কাক। উদ্ধার করে খাঁচায় রেখে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়। হুতোম পেঁচাকে কেউ পেঁচা, কেউ ধু-ধু, আবার কেউ লক্ষ্মী বলে থাকে।

গ্রাম বাংলাসহ সব জায়গাতেই ‘হুতোম পেঁচা’ দেখা যেত। মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও বিরল প্রজাতির লক্ষ্মী পেঁচা এখন বিলুপ্তির পথে। এরা রাতে বিচরণ করে বলে নিশাচর পাখি বলা হয়। সন্ধ্যা কিংবা রাতে এ পাখির ডাক শোনা যায়। গুরুগম্ভীর ডাক শুনে অনেকেই পেঁচাকে অশুভ প্রতীক বলে মনে করেন। আবার অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পূজনীয় একটি পাখি এ পেঁচা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে লক্ষ্মী পেঁচাকে শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। উদ্ধার করা পাখিটি আসলে ধূসর বর্ণের। এদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য হলো- বড় বড় গোল চোখ আর তীক্ষè দৃষ্টি। মাথা ঘুরিয়ে এরা পেছনের দিকেও তাকাতে পারে। তীক্ষ্ম দৃষ্টির কারণে রাতের অন্ধকারেও শিকার ধরতে অসুবিধা হয় না। এ কারণেই লক্ষ্মী পেঁচা এক জায়গায় চুপচাপ বসে চারদিকে নজর রাখতে পারে। এ ছোট পেঁচার চোখের পুরো অংশটি সাদা। পিঠের দিক ধূসর। মধ্যে কালো চিহ্ন। এছাড়া চাকতির মতো এদের মুখমন্ডল। খুব সূক্ষ্ম শব্দের প্রতিধ্বনিও এদের কানে পৌঁছে।

 এ জাতীয় লক্ষ্মী পেঁচা বড় বড় গাছের কোঠরে থাকে। এরা বাসা বানাতে পারে না। পরিত্যক্ত গাছের কোঠরই বেছে নেওয়া তাদের পছন্দ। তাই এদের কাক, বিড়াল, বেজীর আক্রমণের শিকার হতে হয়। বড় গাছ যেহেতু এখন কমে গেছে তাই লক্ষ্মী পেঁচার দেখা মেলে না। এদের প্রজনন কাল নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে। এ সময় এরা গাছের ফোকরে বা পুরনো বাসায় ৩-৪টি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে প্রায় ৩৫ দিন লাগে। সামাজিক বনবিভাগ মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, খাদ্যের অভাবে হয়তো পেঁচাটি ফুলবাড়ী শহরে এসে ঝড়বৃষ্টির শিকার হয়েছে। বনবিভাগ থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। পেঁচাটি উদ্ধার করে অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। সুস্থ হলে অবমুক্ত করা হবে।