শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২৩:০৫

নতুন ঘর ৫৩ হাজার মানুষের

মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার উপহার

রফিকুল ইসলাম রনি

নতুন ঘর ৫৩ হাজার মানুষের
Google News

‘মুজিব শতবর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় মুজিববর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্তের দিন এ  ঘোষণা দিয়েছিলেন টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এ প্রতিশ্রুতি শুধু মুখের কথা নয়, এটি দৃশ্যমান। ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ভূমিহীন মানুষকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবারকে দেওয়া হবে নতুন ঘর। আগামী ডিসেম্বর মাসেও এক লাখ পরিবারকে বিনা মূল্যে জমিসহ ঘর দেওয়া হবে। ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর উদ্যোগে মোট ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ স্লোগানে সারা দেশে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ, একটি করে বারান্দা, রান্নাঘর, গোসলখানা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণা অনুযায়ী ভূমিহীনদের দুর্যোগ-সহনীয় ওই ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় ৯ লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতির পিতার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।

আগামী রবিবার নতুন করে ৫৩ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবারকে ঘর দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী রবিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পরিবারকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিনা মূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে দেশে দুই ধরনের মানুষকে ঘর করে দিচ্ছে সরকার। প্রথমত, যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন। আরেক ধরনের মানুষ আছেন, যাদের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত জমি আছে, কিন্তু ঘর নেই কিংবা থাকলেও একেবারে জরাজীর্ণ। গত বছরের জুন পর্যন্ত এই দুই ধরনের মানুষের তালিকাও করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। অন্যদিকে অল্প জমি আছে, কিন্তু ঘরহীন বা থাকলেও জরাজীর্ণ এমন পরিবার আছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি।

সূত্র আরও জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫১৪টি। দ্বিতীয় ধাপের এ বরাদ্দ হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ৯১২টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার ৪৪৮টি। ময়মনসিংহ বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১৪০টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার ৩৭২টি। চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৪০১টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৯ হাজার ১৬১টি। রংপুর বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১২ হাজার ৩৯১টি। রাজশাহী বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৫৬৮টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫ হাজার ৬০৪টি। খুলনা বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ৮১২টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৩ হাজার ৯৯টি। বরিশাল বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ৭ হাজার ৬২৭টি। সিলেট বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ২২৩টি, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১ হাজার ৭৫৬টি।

সূত্র জানায়, উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

এত মানুষকে বিনা মূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন : গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, আগামী রবিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব পরিবারকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিনা মূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনা মূল্যে জমিসহ ঘর দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। একসঙ্গে এত মানুষকে বিনা মূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন মন্তব্য করে আহমদ কায়কাউস বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির থাকলেও ভূমিহীন-গৃহহীনদের ডেকে তাদের বাড়ি-ঘর দেওয়ার এমন নজির আর নেই।

মুখ্য সচিব বলেন, অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াকে ‘অন্তর্ভুক্তি উন্নয়নে শেখ হাসিনার মডেল’ বলা যায়। বিশ্বে এটা নতুন মডেল। আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি। সরকার অসহায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়মের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্প খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ১৯টি বহুতল ভবনে ৬০০টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে একটি করে ফ্ল্যাট দেন।

খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ করে আরও ৩ হাজার ৮০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান মুখ্য সচিব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি।