শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২১ ২৩:৩৭

অষ্টম কলাম

করোনায় মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে মোদি সরকারকে

প্রতিদিন ডেস্ক

Google News

ভারতে করোনাভাইরাসে মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মোদি সরকারকে। এমন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সূত্র : ডয়েচে ভেলে, ইন্ডিয়া টুডে।

করোনাকে মহামারী ঘোষণা করার পর যতজন এই ভাইরাসে মারা গেছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কারণ ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি আইনে তা বলা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে। তবে কত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তা জতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাদের নির্দেশিকা তৈরি করে ফেলতে হবে বলে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলা আইনেই বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাই যখন থেকে করোনাকে বিপর্যয় আইন অনুসারে মহামারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তারপর থেকে মৃতের পরিবারকে এককালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করোনায় মৃতের

 পরিবারকে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তীব্র বিরোধী ছিল। তারা আদালতকে জানিয়েছিল, করোনায় মৃতের পরিবারকে যদি ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, তা হলে তো সরকারের হাতে বিপর্যয় মোকাবিলার কোনো টাকাই থাকবে না। এমনিতেই করোনার কারণে স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর অর্থ দিতে হচ্ছে। তার ওপর রাজস্ব আদায় অনেক কম হচ্ছে। তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না। মোদি সরকারের যুক্তি ছিল, ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে এরকম কোনো কথা আইনে নেই। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, আইনে বলা হয়েছে, জাতীয় বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিত্রাণ দিতে সরকার দায়বদ্ধ। ক্ষতিপূরণ এই পরিত্রাণের মধ্যেই পড়ে।

বিচারপতিরা বলেছেন, ‘ন্যূনতম পরিত্রাণের ব্যবস্থা করাটা তাই কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অনেক দিন কেটে গেছে, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। তারা দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ করোনাকে জাতীয় বিপর্যয় আইনের আওতায় নিয়ে আসার পর প্রায় ৪ লাখ মানুষ মারা গেছে। ফলে তাদের পরিবারকে এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ক্ষতিপূরণ কত দিতে হবে, সে ব্যাপারে তারা কোনো নির্দেশ দেবে না। এটা জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। তারা বিচার করে দেখবে, পরিবারগুলোকে কত টাকা দেওয়া উচিত। সেই মতো তারা নির্দেশিকা প্রকাশ করবে।