শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৩

সরকারের আশীর্বাদ পেতে মরিয়া হেফাজতের শফী-বাবুনগরী গ্রুপ

নাশকতার মামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

Google News

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে হেফাজতে ইসলামের বিবদমান দুই গ্রুপ। প্রয়াত আমির আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী এবং বর্তমান আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর

নেতৃত্বাধীন কমিটির নেতারা মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ২০১৩ সালের দায়ের হওয়া নাশকতার মামলাগুলোর চার্জশিট থেকে রক্ষা পেতে সরকারের আর্শীবাদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। তাই সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা। হেফাজতে ইসলামের একাধিক নেতা বলেন, ‘২০১৩ সালে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় দায়ের হওয়া নাশকতা মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ মামলাগুলোতে মূলত আসামি করা হচ্ছে- হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের। চার্জশিট থেকে নিজেদের এবং নেতা-কর্মীদের রক্ষা করার জন্য দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতারা তৎপরতা শুরু করেছে। তাই সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দুই গ্রুপের নেতারা। জানা যায়, প্রয়াত আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুকে ঘিরে হেফাজতে ইসলামে বিভক্তি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এরপর অনলাইন-অফলাইনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন দুই গ্রুপের অনুসারীরা। এরই মধ্যে গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির সফরকে ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বিবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তান্ডব চালায় আল্লামা বাবুনগরীর অনুসারী নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সংঘের্ষ ১৭ জন নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাসহ কয়েকশ জনকে গ্রেফতার করা হয়। নাশকতার ঘটনার পর পদত্যাগের হিড়িক পড়লে ভেঙে দেওয়া হয় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি। কয়েক দিনের মধ্যেই ফের জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে গঠন করা হয় কমিটি। কিন্তু পদ প্রত্যাখ্যান করে বসেন আল্লামা শফীপুত্রসহ কয়েকজন নেতা। নেতা-কর্মীদের সংগঠন বিমুখের কারণে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে নাজুক অবস্থায় পড়ে বাবুনগরীর হেফাজতে ইসলাম। অভিন্ন অবস্থা আল্লামা শফী অনুসারীদেরও। প্রয়াত আমিরের মৃত্যুর পর একাধিক বার পাল্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেন তারা। কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় এখনো ঘোষণা করা যায়নি শফী অনুসারীদের পাল্টা কমিটি। দুই গ্রুপের একাধিক নেতা বলেন, হেফাজতে ইসলামের দুই গ্রুপের কারোর সাংগঠনিক অবস্থা ভালো নেই। তবে উভয় গ্রুপ পুরনো অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে।