সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

আরও ১০৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার চিকিৎসা আর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের চিকিৎসা এক হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে নির্মাণাধীন ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৫ জন। এর মধ্যে রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তি ১০২ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৬০ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি ছয়জন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭৯ জন। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছেন। নন কভিড রোগীর চিকিৎসা, করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা, টেস্ট, টিকা সব মিলিয়ে একসঙ্গে করতে হচ্ছে। তাই আমরা আজকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিত করেছি, যেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেব। কারণ, যেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা হয়, সেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি আরও  বলেন, ‘যেসব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করা হবে সেগুলো হচ্ছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,  টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আপনারা ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নেবেন।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সারা দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি না মানাই সংক্রমণ বাড়ার বড় কারণ। গ্রামের চিত্র আশঙ্কাজনক। আক্রান্তদের ৭৫ শতাংশই গ্রাম থেকে আসা, যাদের সবাই বয়স্ক, টিকাও নেন নি। যে হারে রোগী আসছে, বেডের সংকট দেখা দিতে পারে। আগামী শনিবার বিএসএমএমইউ ফিল্ড হাসপাতাল উদ্বোধন করে রোগী নিতে পারব। হাসপাতালে চাপ কমাতে সংক্রমণ কমাতে হবে। সংক্রমণ বেড়ে গেলে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া যাবে না। কিন্তু মানুষ যেভাবে ঘুরছে, তাতে সংক্রমণ রোধ করতে আরও সময় লেগে যেতে পারে।