শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
বঙ্গমাতার ৯১তম জন্মবার্ষিকী

প্রথমবারের মতো ‘বঙ্গমাতা পদক’ পাচ্ছেন পাঁচ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল রবিবার পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক প্রদান করবেন। তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে অনলাইনে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। অনলাইনে আরও সংযুক্ত থাকবেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক। গতকাল এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এ-সংক্রান্ত কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশপ্রেম,           রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাহসিকতা, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণার উৎস বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিবসকে সরকার ৮ আগস্ট ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস ঘোষণা করেছে। বঙ্গমাতার অবদানকে চিরস্মরণীয় করার লক্ষ্যে এ বছর থেকে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত সর্বোচ্চ জাতীয় পদক ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ পদক প্রদান করা হবে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গমাতা, সংকটে সংগ্রামে নির্ভীক সহযাত্রী’।

এ অনুষ্ঠানে এ বছরই প্রথম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন এবং রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে এই পদক প্রদান করা হবে। এ বছর যারা পদক পাচ্ছেন তারা হলেন, ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মমতাজ বেগম (মরণোত্তর), শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের জয়া পতি (মরণোত্তর), ‘কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন’ ক্ষেত্রে পাবনার কৃষি উদ্যোক্তা মোছা. নুরুন্নাহার বেগম, ‘রাজনীতি’ ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল এবং গবেষণা ক্ষেত্রে নেত্রকোনা জেলার লেখক ও গবেষক নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ)। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের কাছে প্রত্যেককে আঠারো ক্যারেট মানের চল্লিশ গ্রাম সোনা দিয়ে নির্মিত পদক, পদকের রেপ্লিকা, ৪ লাখ টাকার চেক এবং সম্মাননাপত্র তুলে দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নারীদের আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বঙ্গমাতার ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা অনুযায়ী ৬৪ জেলায় ৪ হাজার অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার নারীকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪০ লাখ নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন অনলাইনে বঙ্গমাতার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নগদ অর্থ ও সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। ঢাকায় জাতীয়ভাবে আয়োজনস্থলে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর-সংস্থা বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে আলোচনা সভার আয়োজন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহ বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপন করবে। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বঙ্গমাতার সংগ্রামী জীবন, আত্মত্যাগ, সাহসিকতা, দেশপ্রেম, মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অপরিসীম অবদান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অজানা তথ্য জানতে পারবে।