সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

ডেঙ্গু হচ্ছে ভয়াবহ

প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত, আরও ২২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু হচ্ছে ভয়াবহ

রাজধানীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গুজ্বর। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২১১ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৯৪৬ জন। ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৯০০ জন আর অন্যান্য বিভাগে সর্বমোট রোগী ভর্তি আছেন ৪৬ জন। এর আগে গত শনিবার ২০৪ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন, শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন, বিএসএমএমইউতে সাতজন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে ৬১ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি ১৫০ জন। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৯ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৯ জন,  সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৩ জন, কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১০ জন, খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালে ১৩ জন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

গত ৬ আগস্ট ২১৪, ৫ আগস্ট ২১৮, ৪ আগস্ট ২৩৭, ৩ আগস্ট ২৬৪ ও ২ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৫৪৩ জন। তাদের মধ্য থেকে একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৮৭ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর এখনো কোনো মৃত্যুর পর্যালোচনা শেষ করেনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জুনের শুরুতে আমরা দেখেছি, এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। সেই অনুযায়ী জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার কথা বলা হয়েছিল, বেড়েছেও। এ সংখ্যা আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আরও বাড়বে। লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ না হওয়ায় সেগুলো মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করায় রোগী আরও বাড়বে। খোলা জায়গা, বাসার ছাদ ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় কীটনাশক ছিটানো ও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু রোগী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। গতকাল এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।        তিনি বলেন, ১০টায় ১০ মিনিট প্রতি শনিবার, নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ এই স্লোগানটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজেদের বাসাবাড়িতে ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, চিপসের খোলা প্যাকেটে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিন দিনে এক দিন, জমা পানি ফেলে দিন। অব্যবহৃত এই জিনিসগুলো ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে জমাদানকারীকে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে জমা দেওয়া প্রতিটি অব্যবহৃত কমোড ও টায়ারের জন্য ৫০ টাকা এবং প্রতিটি ডাবের খোসা, রঙের কৌটা ও চিপসের প্যাকেটের জন্য ৫ টাকা হারে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো জোবায়দুর রহমান এবং স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর