বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

২১ জেলায় আতঙ্ক, তিনটিতে স্বস্তি

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৫ হাজার ২৪৯, মৃত্যু ১১৪

শামীম আহমেদ

২১ জেলায় আতঙ্ক, তিনটিতে স্বস্তি

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় অনেকটা স্বস্তির দেখা মিলেছে নওগাঁ, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এই তিন জেলাতেই নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। আরও পাঁচ জেলায় নেমেছে ১০ শতাংশের নিচে। তবে গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় ১৮ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার ছিল ২১টি জেলায়। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জে ছিল ৩৮.৭৯ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাবনায় শনাক্তের হার ছিল ২.৮১ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী টানা তিন থেকে চার সপ্তাহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। সেই হিসাবে তিনটি জেলায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলেও ৬১ জেলা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে আটটি জেলায় শনাক্তের হার একক সংখ্যায় অর্থাৎ ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে এমনটা দেখা গেছে। অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৭০৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ২৪৯ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৫.১২ শতাংশ। এই সময়ে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৯০৭ জন। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৫ হাজার ৫১৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৬৩ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় দেশের গড় শনাক্তের হার ১৫.১২ শতাংশ হলেও ১১টি জেলায় শনাক্তের হার ছিল ২০ শতাংশের ওপরে। ১০টি জেলায় ছিল ১৮ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে। ১০ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে ছিল ৩৫ জেলায়। ৮টি জেলায় শনাক্তের হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৬.৪৫ শতাংশ। ১৮ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার ছিল মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৩৮.৭৯ শতাংশ, ফরিদপুরে ২৭.৭৩ শতাংশ, গাজীপুরে ২১.৭২ শতাংশ, গোপালগঞ্জে ২১.৪৩ শতাংশ, নরসিংদীতে ২৩.১৮ শতাংশ ও মাদারীপুরে ১৯.৩৭ শতাংশ। বিভাগে সর্বনিম্ন শনাক্তর হার ছিল মানিকগঞ্জে ৬.২৬ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৮.৪৭ শতাংশ। ১৮ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার ছিল নেত্রকোনায় ২৩ শতাংশ ও ময়মনসিংহ জেলায় ১৮.৯৬ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৪.৯৮ শতাংশ। ১৮ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার ছিল বান্দরবানে ১৯.২৩ শতাংশ, রাঙামাটিতে ১৯ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ১৯.৫৭ শতাংশ ও নোয়াখালীতে ১৮.২৪ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ৮.২৪ শতাংশ। ১৮ শতাংশের বেশি শনাক্তের হার ছিল বগুড়ায় ১৯.৭২ শতাংশ। এই বিভাগের নওগাঁ জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ ও পাবনায় ২.৮১ শতাংশ। রংপুর বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১১.৫৪ শতাংশ। ১৮ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৯.৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া নীলফামারীতে ৫.৬৯ শতাংশ ও দিনাজপুরে ৯.৭৬ শতাংশ ছিল শনাক্তের  হার। খুলনা বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৪ শতাংশ। ১৮ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার ছিল ঝিনাইদহে ২৪.৩১ শতাংশ ও নড়াইলে ২০.৫৯ শতাংশ। ১০ শতাংশের নিচে শনাক্তের হার ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪.৫৫ শতাংশ, যশোরে ৮.৯২ শতাংশ ও সাতক্ষীরায় ৮.৭০ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৯ শতাংশ। ১৮ শতাংশের বেশি শনাক্তের হার ছিল ভোলায় ২১.১২ শতাংশ, পিরোজপুরে ২৫ শতাংশ, বরগুনায় ২১.৫২ শতাংশ ও বরিশালে ১৮.৭৭ শতাংশ। সিলেট বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৪.৭৩ শতাংশ। ১৮ শতাংশের বেশি শনাক্তের হার ছিল হবিগঞ্জে ১৮.৯০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১১৪ জনের মধ্যে ৫৬ জন ছিলেন পুরুষ ও ৫৮ জন নারী। ১১১ জন হাসপাতালে ও তিনজন বাড়িতে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৪২ জন ঢাকা বিভাগে, ২৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগে, ছয়জন রাজশাহী বিভাগে, ১৩ জন খুলনা বিভাগে, পাঁচজন বরিশাল বিভাগে, নয়জন সিলেট বিভাগে, ছয়জন রংপুর বিভাগে ও চারজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন।

সর্বশেষ খবর