শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০১:১৩

মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় হট্টগোল বিশৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায় ‘কমিটি গঠনের ক্ষমতা’ নিয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার সামনেই বাহাস, হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা হয়েছে। ‘দেখিস কি-ধর ওদের, দেখে নেব’- এমন হুমকির ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। গতকাল রাতে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ইউনিট কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আট টিমের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। ইউনিট কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছ ধারণা দিতেই এ বৈঠক ডাকা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে কমিটি গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নুরুল আমিন নরুল, ডা. দিলীপ রায়, সরফুদ্দিন সেন্টু, শহিদ সেরনিয়াবাদ, আওলাদ হোসেন, সাজেদা চৌধুরী, হাজী সাঈদ, আবদুস সাত্তার মাসুদ এবং গোলাম সরোয়ার কবির। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সভায় সহসভাপতি সরফুদ্দিন সেন্টু বলেন, আমরা যে এলাকায় বাস করি, তাদের সে এলাকায় না দিয়ে অন্য এলাকায় কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার এলাকা লালবাগে কমিটি গঠনের সময় আমাকে ডাকা হয় না। যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা অনেকেই এ এলাকার নেতাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন না। আবার আমরাও যেখানে দায়িত্ব পেয়েছি, সেখানকার নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে বেশি তথ্য জানি না। যে নেতারা যে এলাকায় থাকেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি করা উচিত। সেন্টুর এ কথার সমর্থন জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আনিস আহমেদ, সদস্য জসিম উদ্দিন আজম উচ্চৈঃস্বরে কথা বলেন। এ সময় মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির তাদের জোরে কথা বলতে নিষেধ করেন। সরফুদ্দিন সেন্টু হুমায়ুন কবিরকে কটাক্ষ করে কথা বলেন বলে অভিযোগ হুমায়ুন কবিরের অনুসারীদের। এতে হুমায়ুনের অনুসারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে হুমায়ুন কবির তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোরা দেখিস কী? ধর ওদের, কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না’। এ বক্তব্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়পক্ষের লোকজন আসন থেকে উঠে পড়লে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে মহানগরের নেতা ডা. দিলীপ রায়, মোর্শেদ কামাল উত্তেজিত নেতাদের শান্ত করেন। 

মহানগর নেতাদের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সবাই নেতা। কেউ কর্মী নন। আপনারা এমন আচরণ করতে পারেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করবেন। আওয়ামী লীগের নিয়ম অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয় না। তাহলে তো আমাকে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হতো, ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে রাখা হতো না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, জামালপুরে-ময়মনসিংহে কোনো অনুষ্ঠান হলে আমি দাওয়াত পাব না- এমন নয়। সবার মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠিত হবে। দল করতে হলে সবাইকে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর সবাই শান্ত হন।

এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির এবং সরফুদ্দিন সেন্টুর ফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইউনিট কমিটি গঠন নিয়ে গতকাল রাতে বৈঠক ডাকা হয়। এ সময় সামান্য কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে, এরচেয়ে বেশি কিছু নয়। তদন্ত কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করেন তিনি। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে এর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ডেমরার শারুলিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা আজিজ প্রধান, শাহাদৎ হোসেন, জয়নাল হাজারীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হাসানকে শোকজ নোটিস পাঠানো হবে। একই অপরাধে ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম শাওনকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়।