শিরোনাম
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

এগিয়ে চলছে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এনডব্লিউপিজিসিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে রয়েছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল)। একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যখন চুক্তির পাঁচ-সাত বছরেও উৎপাদনে আসতে সক্ষম হচ্ছে না, সেখানে নির্মাণকাজ শুরুর দুই বছরের মাথায় পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাচালিত আলট্রা-সুপার-ক্রিটিক্যাল থারমাল পাওয়ার প্লান্টের প্রথম ইউনিট চালু করে তাক লাগিয়ে দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্য দিয়ে প্রথম আলট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ও যৌথ উদ্যোগে আটটি প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই সব উন্নতির মূল কারিগর জনাব খোরশেদ আলম। তার মতো দক্ষ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ খাতে বিরল। বর্তমান সরকার ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। লক্ষ্য পূরণে জ্বালানিভিত্তিক ২ শতাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালে সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগে বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি করা শুরু হলেও ২০১৬ সালে ইপিসি চুক্তি সম্পন্ন করে সবার আগে উৎপাদনে আসে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নির্ধারিত সময়ের ১১ মাস আগেই গত বছরের জানুয়ারিতে এ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। দ্বিতীয় ইউনিটটির ভৌত অবকাঠামোর কাজও ২০ শতাংশের বেশি শেষ হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে ইউনিটটি চালুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ ইউনিটটিও নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎপাদনে আসবে। পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)। এ কোম্পানিতে দেশের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এনডব্লিউপিজিসিএল ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সমান মালিকানা রয়েছে। এদিকে আগের বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করায় দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনডব্লিউপিজিসিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজে দক্ষতা দেখানোয় বিদ্যুৎ খাতের সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম। ২০০৭ সালের কোম্পানি হিসেবে যাত্রা করে ২০১২ সালেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যায় কোম্পানিটি। এরপর ছয় বছরের মধ্যে ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট, খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন করে কোম্পানিটি। সর্বশেষ দুই বছরের মধ্যে পায়রায় ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম কয়লাবিদ্যুৎ ইউনিট চালু করে তাক লাগিয়ে দেয়। দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ায় এখন বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এনডব্লিউপিজিসিএলকে। পায়রায় যৌথ মালিকানাধীন ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বৃহত্তম এলএনজি টু পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে কোম্পানিটি। এ ছাড়া রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল এবং যৌথ মালিকানায় পাবনা ৬০ মেগাওয়াট সোলার পার্ক, সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক ও পায়রা ৫০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এনডব্লিউপিজিসিএল। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলমের বক্তব্য, শুধু সমন্বয়টা ঠিক থাকার কারণেই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে কোম্পানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৩৬.১৩ মেগাওয়াট। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষমতা ৩ হাজার ৫৭৮ মেগাওয়াট। ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করে দেশের মধ্যে নেতৃত্বশীল বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

সর্বশেষ খবর