শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

শখের খামারে ঘুরে বেড়ায় উটপাখি এমু হরিণ

আকর্ষণ করছে পর্যটকদের

শাহ দিদার আলম নবেল, সিলেট

শখের খামারে ঘুরে বেড়ায় উটপাখি এমু হরিণ

ছোটবেলা পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে চিড়িয়াখানায় দেখে এসেছিলেন হরিণ, উটপাখি, ময়ূরসহ নানা জাতের পশু-পাখি। এরপর থেকে মনের মধ্যে তৈরি হয় পশু-পাখি পালনের শখ। কিন্তু জীবন বাস্তবতায় এতদিন সেই শখ পূরণ করতে পারেননি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণের কানিশাইল গ্রামের সয়েফ চৌধুরী। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও বদলায়নি পশু-পাখি প্রেম। অবসর জীবনে এসে ছোটবেলার সেই শখ পূরণে বিশাল বাড়িতে তৈরি করেছেন পশু-পাখির অভয়াশ্রম। সেই অভয়াশ্রমে ঘুরে বেড়ায় আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের তৃণভূমি অঞ্চলের বিখ্যাত উটপাখি, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি এমু, ময়ূর, হরিণসহ নানাজাতের দুর্লভ পশু-পাখি।

তিন বছর আগে গড়ে তোলা এই অভয়াশ্রমে এসব প্রাণী দেখতে এখন সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার পর্যটকরাও ভিড় করেন সয়েফ চৌধুরীর বাড়িতে। উটপাখি, এমু, ময়ূর, হরিণ ছাড়াও সয়েফ চৌধুরীর বাড়ির অভয়াশ্রমে রয়েছে টিয়া, ময়নাসহ নানা জাতের পাখি। পশু-পাখির কিচির-মিচির আর সশব্দ বিচরণে মুখর থাকে বাড়িটি। ধীরে ধীরে পুরো বাড়িকে একটি চিড়িয়াখানায় পরিণত করার স্বপ্ন দেখেন পশু-পাখিপ্রেমী মানুষটি। সয়েফ চৌধুরী জানান, ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল হরিণ পালনের। ছবিতে হরিণ দেখতেন। শখ করে অনেককে হরিণ লালন-পালন করতেও দেখতেন। তার চাচাতো ভাইয়েরও একজোড়া হরিণ ছিল। কিন্তু কীভাবে, কোথায় হরিণ পাওয়া যায় সেটা কেউ বলতেন না। এমনকি চাচাতো ভাইও হরিণ নিয়ে অনেক রহস্য করতেন। হরিণ নিয়ে মনের মধ্যে পুষে রাখা সেই দুঃখের অবসান ঘটে তিন বছর আগে। সয়েফ চৌধুরী জানতে পারেন, সরকার ব্যক্তি পর্যায়ে হরিণ লালন-পালনের অনুমতি দিচ্ছে। এই খবর পাওয়ার পরই মৌলভীবাজার বন বিভাগ থেকে তিনি লাইসেন্স নেন। এরপর শ্রীমঙ্গল ও বিশ্বনাথ থেকে ৮০ হাজার টাকা জোড়া করে তিন জোড়া হরিণশাবক কেনেন। এখন তার বাড়ির অভয়াশ্রমে হরিণের সংখ্যাও বেড়েছে। ছোটবেলায় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখে আসা দুর্লভ প্রজাতির পাখির প্রতি বড় হয়েও ঘোর কাটেনি সয়েফ চৌধুরীর। খুলনা থেকে নিয়ে আসেন উটপাখি ও এমু। তবে দুর্লভ এই পাখি পালনে তার উদ্দেশ্য ভিন্ন। শুধু শখ নয়, এর সঙ্গে রয়েছে এলাকার শিশুদের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। এলাকার গরিব শিশুরা ঢাকায় চিড়িয়াখানায় গিয়ে কোনো দিন এসব দুর্লভ পাখি দেখার সুযোগ পাবে না। বইয়ের পাতায় দেখা এসব পাখি কেবল তাদের কল্পনায়ই থেকে যাবে। আফসোস থাকবে শিশুমনে। এই মানসিকতা থেকেই তিনি বাড়িতে নিয়ে আসেন উটপাখি, এমু ও ময়ূরের মতো দামি পাখি। তিন বছর ধরে এসব পাখিরও আশ্রয় হয়েছে তার বাড়িতে। সয়েফ চৌধুরী জানান, দুর্লভ প্রজাতির পশু-পাখি দেখতে পেয়ে খুশি এলাকার মানুষ। বিশেষ করে ছোট শিশুদের মনের খোরাক হয়েছে। এ ছাড়াও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পর্যটকরা আসেন তার এই অভয়াশ্রম দেখতে। আগামীতে এই অভয়াশ্রমে আরও পশু-পাখি যোগ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পশু-পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা ছাড়াও নিজ গ্রামে সয়েফ চৌধুরী ও তার ভাই হাবিল আহমদ চৌধুরী মিলে গড়ে তুলেছেন ‘এবিকে চ্যারিটেবল হসপিটাল’। যেখানে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া এলাকার লোকজনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি বিনামূল্যে দেওয়া হয় ওষুধও। হাসপাতালের একপাশে করা হয়েছে ‘ফ্রি চ্যারিটেবল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার’। এলাকার যুবসমাজ সেখানে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।

সর্বশেষ খবর