বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য পঞ্চগড়ে

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়

কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য পঞ্চগড়ে

শীতের ভোরে পঞ্চগড়ের মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেন সুপেয় পানির ঠিকানা বরফের পাহাড় কাঞ্চনজঙ্ঘা। শরৎ, হেমন্ত ও শীতকালে দেখা মেলে শ্বেতশুভ্র এই পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের। তারপর ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টিয়ে অপার সৌন্দর্যের বিস্তৃতি ঘটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। দেখে মনে হয় হাসছে পাহাড়। তার শরীর ঘেঁষে চলে গেছে বিস্তৃত হিমালয়। সবুজ আর কালো রং মেখে হিমালয়ও হয়ে ওঠে অপরূপ। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কমলা, হলুদ ও পরে সাদা রং ধারণ করে। এক সময় হঠাৎ হারিয়ে যায়। মেঘের আঁচলে লুকিয়ে পড়ে। মেঘ সরে গেলে আবার উঁকি দেয়। লুকোচুরির খেলা চলে সারা দিন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ জেলার যে কোনো প্রান্ত থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখতে বর্তমানে প্রতিদিন ভিড় করছে হাজারো পর্যটক। পর্যটকদের বিষয়টি মাথায় রেখে নানা উদ্যোগ নিয়েছে  জেলা প্রশাসন। কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে রয়েছে নানা লোককাহিনী। এর আশপাশের অঞ্চলটিকে বলা হয় পর্বত দেবতার বাসস্থান। দেবতার নাম কাঞ্চনজঙ্ঘা ডেমন। এটি এক প্রকার রাক্ষস। অনেকে বিশ্বাস করে অমরত্বের রহস্য লুকানো আছে এই শ্বেতশুভ্র শৃঙ্গের নিচে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় এবং হিমালয় পর্বতমালায় দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। কাঞ্চনজঙ্ঘার উচ্চতা প্রায় ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট বা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। এটি ভারতের সিকিম রাজ্যের সঙ্গে নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবস্থিত। কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে চারটি নদীর উৎপত্তি ঘটেছে। নদীগুলো বাংলাদেশেও প্রবাহিত হয়। পঞ্চগড় হিমালয় পর্বতমালার সমতল অঞ্চল। তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার । তাই এই জেলাকে  বলা হয় হিমালয়ের কন্যা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, পর্যটকদের আনন্দকে আমরাও উপভোগ করছি। তাই তাদের নিরাপত্তা, থাকা, খাওয়ার বিষয়গুলোকে উপজেলা প্রশাসন থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোসহ পর্যটন স্থানগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই আয়োজন চলমান আছে।

সর্বশেষ খবর