বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

কোন্দল নিয়ে বিপাকে মাঠ কর্মকর্তারা

সহিংসতা চলছেই, সিইসি বললেন ইউপি ভোট সফল

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোন্দল নিয়ে বিপাকে মাঠ কর্মকর্তারা

কোন্দলের কারণেই চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতা বাড়ছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় আসন্ন ইউপি ভোটে সংঘাতের শঙ্কা রয়েছে। গতকাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসির বৈঠকে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন বলছে, মাঠ কর্মকর্তাদের থেকে দ্রুত তথ্য না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। ইউপি ভোটের অন্যান্য ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব নির্বাচনী সহিংসতা রোধের। একটাও সহিংস ঘটনা হবে না, মারামারি হবে না এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না।’

সূত্র জানিয়েছেন, বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন নির্বাচনী সংঘাতের মূল কারণ কোন্দল। অনেক এলাকায় এমপিরা একই উপজেলায় দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। এজন্য বিরোধ আরও তুঙ্গে ওঠে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রিটার্নিং অফিসার হচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা। তারা কীভাবে এমপি-মন্ত্রীদের আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন? তাই নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে তারা ইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গতকাল আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, কয়েকজন সচিব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

ইউপি ভোট ‘সফল’, দাবি সিইসির : গোলযোগ-সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চলমান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক ও সফল’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশান কে এম নূরুল হুদা। সেই সঙ্গে আগামী নির্বাচনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশনের ‘আরও শক্ত অবস্থান’ থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিশেষ সভায় সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন সফল হয়েছে। অল্প বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে; দুর্ঘটনা ঘটেছে, হতাহত ঘটেছে। যেগুলো কিছুতেই কাম্য নয়। তবু নির্বাচনের মানদন্ড যদি ভোট প্রদান হয় তাহলে আমি বলব, দুই ধাপের নির্বাচনে গড়ে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি সিইসির : আগামী নির্বাচনগুলোয় সহিংসতা রোধে আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। এ লক্ষ্যে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সকালে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি। আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন কে এম নূরুল হুদা। এলাকায় অবস্থান করে দু-চার জন সংসদ সদস্যের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত চলছে। সতর্কতার পরও আচরণবিধি না মানলে অতীতের মতো এবারও মামলার হুঁশিয়ারি দেন সিইসি। তিনি জানান, এমপি-মন্ত্রীর অধিকাংশই আচরণবিধি অনুসরণ করেন। দু-চার জন মানছেন না বলে অভিযোগ এসেছে। তাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার জন্য। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে অতীতে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আগামীতেও প্রয়োজনে মামলা হবে। প্রথম দুই ধাপের ভোটে সহিংসতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় পাহারা দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা অসম্ভব। তাই নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রাখতে সবার সহযোগিতা চান সিইসি। আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতা ঘটতে পারে এমন পকেটগুলো চিহ্নিত করে আগাম গোয়েন্দা তথ্য নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে। সেই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সিইসি বলেন, অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককে গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে। এলাকার মাস্তান যারা বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে তাদের আগাম গ্রেফতারের জন্য ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি।

সর্বশেষ খবর