বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

বিএনপি নেতার ছেলে চান নৌকা

প্রতিদিন ডেস্ক

শেরপুরে বিএনপি নেতার ছেলে চান নৌকা প্রতীক আর ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি থেকে আসা রোমান বাদশা পেয়েছেন নৌকা।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে চান জহুরুল হক। এতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল ক্ষুব্ধ। কারণ জহুর হলেন ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম আবুল হোসাইনের ছেলে। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন। তখনো স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেছে কিন্তু কাজ হয়নি।

জানা গেছে, জহুর ১৫ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি শেষে ১৯৯৯ সালে অবসরে যান। গত ইউপি নির্বাচনের আগে তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন।

কাংশা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আতাউর রহমান জানান, জহুরুল হকের বাবা আবুল হোসাইন ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আমৃত্যু এই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক হান্নানের সঙ্গে কথা হয়; হান্নানও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জহুরুল হকের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম এখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতান্ডকর্মীরা জানান, কাংশা ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার  পরই জহুর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। দাপুটে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর জমা হলেও কিছুই হয়নি তার। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিলের ১০ টাকা কেজি দরের চাল তছরুপ, তৎকালীন ইউপি সচিব সৈয়দ জামানকে প্রাণনাশের হুমকি, গ্রামপুলিশ সাদা মিয়াকে পিটিয়ে পঙ্গু করা এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদ সদস্যদের একযোগে একাধিকবার অনাস্থা প্রস্তাব তোলা- এসব বিষয়ে অভিযোগ দিলেও তিনি পার পেয়ে যান। ফলে তার বিরুদ্ধে এখন আর কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা সইতে না পেরে প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা প্রচার করে। আমি শেখ হাসিনার উন্নয়নের সঙ্গে ছিলাম তাই এবারও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে আসা রোমান বাদশা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়ন পরিষদে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতান্ডকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ইউনিয়নের নেতান্ডকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

জানা গেছে, আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোমান বাদশা এর আগে দুবার বিএনপির হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রোমান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দ্রুত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বনে যান। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী হিসেবে ইউপি নির্বাচন করেন। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত আওয়ামী লীগে ১ হাজার ৬০০ অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় ঠাকুরগাঁও জেলার ২ নম্বরে তার নাম।

২০১৯ সালের আগে আট বছর আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন রেজাউল ইসলাম। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেলে রোমান বাদশা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন।

রেজাউল বলেন, ‘আমি গতবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছি। রোমান বাদশা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ও তার লোকজন আমার বিপক্ষে নির্বাচন করায় আমি হেরে গেছি। এবার চতুর্থ ধাপে এ জেলায় নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও গতবার হেরে যাওয়া প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আমার ক্ষেত্রে কেন ভিন্নতা এলো বুঝলাম না।’

রোমান বাদশা বলেন, ‘আমি এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। বিএনপির নীতি ভালো না লাগায় অনেক আগেই আমি আওয়ামী লীগে এসেছি। আমি এবার নির্বাচনে জিতে একটি মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়তে চাই।’

সর্বশেষ খবর