রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪ ০০:০০ টা

হেসে উঠে দাঁত দেখায় আদুরী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

হেসে উঠে দাঁত দেখায় আদুরী

ঈদুল আজহা সামনে রেখে খামারের গরু প্রদর্শনীতে বিশেষ চমক এখন লক্ষ্মীপুরে। যে কোনো লোকের কথায় হেসে দাঁত দেখায় আদুরী নামের একটি গরু। শুধু তাই নয়, মায়ের যত্নে সন্তানের মতো লালনপালন করা আদুরী ছাড়াও এখানে সুন্দরী ও পাঠান নামের বিশাল আকৃতির গরুও উঠতে বসতে বললে শ্রমিকদের কথা শোনে। এতে শিশু-কিশোরদের                 পাশাপাশি ওই খামারে এখন উৎসুক জনতার ভিড়। ঘটনাটি জেলা সদরের সাহেববাজার এলাকার সিক্স ফার্মার খামারে।

সরেজমিনে সদর উপজেলার সাহেববাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে স্থানীয় সিক্স ফার্মার খামারের গরু প্রদর্শনী চলছে। যেখানে ৩৫৫ কেজি ওজনের লাল রঙের নেপালি গীর জাতের একটি গরু নিয়ে হইচই মানুষের। গরুটিকে ঘিরে শিশু-কিশোর সবার আগ্রহ। নাম রাখা হয়েছে আদুরী। দাঁত দেখাতে বললেই হেসে দাঁত দেখায় গরুটি। খামারিদের পক্ষ থেকে এ গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর পাশেই রয়েছে শাহিওয়াল জাতের ৫২৫ কেজি ওজনের সুন্দরী- যার মূল্য ৫ লাখ টাকা ও ৪৮০ কেজি ওজনের পাঠান- যার মূল্য চাওয়া হচ্ছে ৪ লাখ টাকা। প্রদর্শনীতে অন্যান্য জাতের ছোটবড় ৭০টি গরু রয়েছে। ৪-৫ জন শ্রমিক এসব গরুর সেবা-যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ গোসল করাচ্ছেন, কেউবা খাবার (খড়, ঘাস, খৈল, ভুসি ও পানি) দিচ্ছেন। শ্রমিকরা জানান, এসব গরু সন্তানের মতো লালনপালন করেছেন তারা। তাই এসব গরু এখন মানুষের মতো আচরণ করে। শুতে, বসতে, উঠতে বললে তারা কথা শোনে। এর মধ্যে আদুরী দাঁত দেখাতে বললে হেসে দাঁতও দেখায়।

খামারি বেলাল ও রাজীব বলেন, এবার আমাদের খামারে কোরবানি ঈদ টার্গেট করে ৭০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ছোট দেশি গরু ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও বড় শাহিওয়াল এবং নেপালি গীরসহ নানা জাতের গরু বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকায়। এ পর্যন্ত ২৬টি গরু বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হয়ে যাবে আশা করি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬৬ হাজার ৯১৫টি, স্থানীয় বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত পশুর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬৯৪টি।

 বাকি চাহিদার গরু অন্যান্য জেলা থেকে সংগ্রহ করা হবে। জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান ও পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ জানান, জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে অর্ধশতাধিক পশুর হাট বসবে। এসব হাটকে ঘিরে কোনোভাবেই সড়কে যানজট সৃষ্টি যেন না হয়, মলম পার্টি ও ছিনতাই রোধে জনগণের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করবে।

সর্বশেষ খবর