শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০২০ ১২:৫৬
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০২০ ১৬:৪০

অন্যের জমিতে ছবি তুলে কক্সবাজারেও সাহেদের প্রতারণা

অনলাইন ডেস্ক

অন্যের জমিতে ছবি তুলে কক্সবাজারেও সাহেদের প্রতারণা
রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের অপকর্মের ফিরিস্তির যেন শেষ নেই। রিজেন্ট হাসপাতালে করোনাভাইরাসের নমুনা টেস্ট না করে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে ব্যবসা করার পর এবার বেরিয়ে এলো আরেক কাহিনী। অন্যের কয়েক কোটি টাকার জমির সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজের জমি দাবি করে প্রতারণার ফাঁদ বসাতে চেয়েছিলেন আলোচিত এই সাহেদ।

জানা গেছে, পর্যটন নগরীর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ইমামের ডেইল এলাকায় ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ লেখা সাইনবোর্ড লাগানো একটি জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে ছবির পোজ দেন সাহেদ। পরে নিজের ‘সাইট ভিজিট’ বলে ছবিটি ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু রিজেন্ট নামের সাথে মিল থাকলেও এই রিজেন্ট সেই রিজেন্ট নয়। এই রিজেন্ট গ্রুপ এবং ওই জায়গার প্রকৃত মালিক সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাসিন্দা গোলাম আকবর খোন্দকার।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালে। ওই সময় রিজেন্ট গ্রুপের জমির সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা সাহেদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি গোলাম আকবর খোন্দকারের নজরে আসে। তখন (২০১৫ সালের অক্টোবরে) আইনজীবীর মাধ্যমে মোহাম্মদ সাহেদকে আইনি নোটিশ পাঠান তিনি।

ওই সময় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাটপার সাহেদের বাটপারিনামা’ শীর্ষক একটি পোস্ট দেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী।

পোস্টটি ছিল এরকম, ‘মেরিন ড্রাইভ রোডের ইমামের ডেইল এলাকায় বাটপার সাহেদের তোলা ছবিটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটাও একটা বড় বাটপারি। এই জমিগুলোর প্রকৃত মালিক আসল ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ যার অফিস ঠিকানা ডেল্টা ডালিয়া, কামাল আতাতুর্ক রোড, বনানী, ঢাকা। সাহেদের ‘রিজেন্ট’ ২ নম্বর রিজেন্ট। অফিস ঠিকানা উত্তরা, ঢাকা। আসল রিজেন্ট গ্রুপের মালিক সাবেক রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের গোলাম আকবর খোন্দকার। আমার জানা মতে, গোলাম আকবর খোন্দকার সাহেবের ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ নামের কোম্পানিটি ১৯৮৮ সালে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে নিবন্ধনকৃত। দীর্ঘদিন এই কোম্পানি সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ২০১৪/২০১৫ইং দিকে হঠাৎ জনৈক সাহেদ ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ নামে আর একটি কোম্পানির জন্মদান করে। যা বেআইনি ও ফৌজদারি আপরাধ। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে গোলাম আকবর খোন্দকার আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিঃ ডাকযোগে সাহেদের ২ নম্বর ‘রিজেন্ট গ্রুপের’ বরাবরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। কিন্তু শাহেদ ক্ষমতাশালীদের কাছের মানুষ হওয়ায় আইনের তোয়াক্কা না করে ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ নাম দিয়েই অদ্যাবধি তার কুকর্মগুলো চালিয়ে আসছিল। বেটা সাহেদ যে কত বড় বাটপার ও ২ নম্বর আদম তা ইমামের ডেইলে গোলাম আকবর খোন্দকারের আসল ‘রিজেন্ট গ্রুপের’ জমির সাইনবোর্ডকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে তোলা ছবিখানাই তার প্রমাণ। পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল, আপনার বাড়িকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ছবি তুলে আমি কি বাড়ির মালিক হতে পারি?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান জানান, ‘দলীয় পরিচয় সূত্রে গোলাম আকবর খোন্দকার আমাকে নিয়েই জায়গাগুলো কিনেছিলেন। আমি কিছু সময় জায়গাগুলো দেখাশোনাও করেছি। মূলত গোলাম আকবর খোন্দকারের মালিকাধীন রিজেন্ট গ্রুপের জমির সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের জমি বলে জাহির করতে চেয়েছিল মোহাম্মদ সাহেদ। বাটপারি আর কারে বলে!’

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে নমুনা টেস্ট না করেই রোগীদের করোনার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ পায় তারা। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ, এমডি মাসুদ পারভেজসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে ৯ জন গ্রেফতার হলেও সাহেদ এখনও পলাতক। হাসপাতাল দুটি ও রিজেন্ট গ্রুপের অফিস সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাব।

এমএলএম ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা রকম জালিয়াতি-প্রতারণার ডজন ডজন মামলার খবর ঢেকে রেখেছেন সাহেদ। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন তাকে খুঁজছে।

সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন।

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর