শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৯
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৩
প্রিন্ট করুন printer

ভাঙনের সুর ছাত্র ইউনিয়নে, সম্মেলন চায় একাংশ

নাসিমুল হুদা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ভাঙনের সুর ছাত্র ইউনিয়নে, সম্মেলন চায় একাংশ

ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নে। গত বছরের নভেম্বরে সংগঠনটির ৪০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ‘গঠনতান্ত্রিক ব্যত্যয়ের কারণ দেখিয়ে ‘রিকুইজিশন সম্মেলনে’র দাবি তুলেছেন সংগঠনটির একাংশ। তবে সে দাবি কেন্দ্রীয় সভাপতি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হলেও ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে এ ব্যাপারে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব খোলাখুলি মন্তব্য না করে ‘অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানে’র কথা জানিয়েছেন। 

এর আগে, গত বছরের ১৯ নভেম্বর ৪০তম জাতীয় সম্মেলনে ফয়েজ উল্লাহকে সভাপতি ও দীপক শীলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র ইউনিয়নের ৪১ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হয়। তবে নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, ওই সম্মেলনে একাধিক গঠনতান্ত্রিক ব্যত্যয় ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বিনষ্ট করা হয়েছে। সম্মেলনের এক পর্যায়ে ‘ওয়াক আউটে’র মত ঘটনাও ঘটে। 

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে, এক কাউন্সিল থেকে আরেক কাউন্সিলে যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ পরিষদ হচ্ছে ১৪১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদ। কেন্দ্রীয় কমিটির কোন সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদনও তারাই দেন। কিন্তু গত সম্মেলনে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়নি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। পরে ভোটে যাওয়া হলে সেখানেও ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। 

সম্মেলন দাবি করা অংশের নেতৃবৃন্দ বলছেন, সংগঠন ভাঙতে নয়, বরং ‘গঠনতান্ত্রিক রীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে’ তারা সম্মেলন চাচ্ছেন। গঠনতান্ত্রিক ব্যত্যয়গুলো মেনে নিলে তাহলে রাজপথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি থাকে না। 

এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩০টি সাংগঠনিক জেলার ১১৩ জন প্রতিনিধি নতুন করে সম্মেলন করার পক্ষে সই করেন, যা সংগঠনের মোট প্রতিনিধি ২৬৪ জনের এক চতুর্থাংশেরও বেশি। ছাত্র ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রতিনিধিদের এক চতুর্থাংশ চাইলে কেন্দ্রীয় সভাপতি কর্তৃক সাধারণ সম্পাদককে ২১ দিনের মধ্যে নতুন করে সম্মেলন (রিকুইজিশন সম্মেলন) করতে নির্দেশ দিতে হবে। 

তবে সংগঠনটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, এক চতুর্থাংশেরও বেশি প্রতিনিধির দাবি জানানো সত্ত্বেও সভাপতি ‘রিকুইজিশন সম্মেলনে’র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, যদিও গঠনতন্ত্র অনুসারে তিনি এমন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন না। 

এমন অবস্থায় সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসিতে সংগঠনটির একাংশ প্রতিনিধি সভা করে ৪১তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানাননি তারা। এই অংশের নেতাকর্মীরা নতুন করে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে। 

তবে, সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় পরিষদে এ ব্যাপারে কথা না বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই কিছু বলতে পারছি না। তবে বিষয়টি যেহেতু আমাদের আভ্যন্তরীণ, তাই অভ্যন্তরীণভাবে শীঘ্রই এর সমাধান করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর