শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:০০
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:০২
প্রিন্ট করুন printer

চুক্তির মেয়াদ শেষেও টিকিট বিক্রি করছে সিএনএস

অনলাইন ডেস্ক

চুক্তির মেয়াদ শেষেও টিকিট বিক্রি করছে সিএনএস

টানা ১৪ বছর ধরে রেলের টিকিট বিক্রি করে আসছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেডের (সিএনএস)। যদিও গত মার্চেই রেলের সঙ্গে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তখন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সহজ লিমিটেডকে টিকিট বিক্রির জন্য মনোনীত করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দরপত্রে সহজের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি দরদাতা হয়েও উচ্চ আদালতে মামলা করে চুক্তি কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছে সিএনএস।

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সহজ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করতে না পারায় সিএনএসকে দিয়েই টিকিট বিক্রি করাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে তারা আগের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী টাকা পাবে। তবে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চুক্তি হলে টিকিটপ্রতি সহজকে রেলের পরিশোধ করতে হতো ২৫ পয়সা। সিএনএস আগের চুক্তিতে কমিশন নিত ২ টাকা ৯৯ পয়সা। সে হিসাবে সহজের চেয়ে সিএনএসকে ২ টাকা ৭৪ পয়সা বেশি দিতে হচ্ছে। রেলে মাসে গড়ে টিকিট বিক্রি হয় ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার। নতুন চুক্তি না হওয়ায় রেলওয়ের কাছ থেকে মাসে গড়ে ৯১ লাখ ৩২ হাজার ৪২০ টাকা বেশি নিচ্ছে সিএনএস। অথচ নতুন দরপত্রেও টিকিটপ্রতি তারা প্রস্তাব করেছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেকটাম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দর ছিল ৫৮ পয়সা।

চুক্তি ছাড়া টিকিট বিক্রি করা যায় কি না জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন জানান, আমরা তো দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে চুক্তি করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম। এখন তো সেটা করতে পারছি না। ওরা (সিএনএস) ২০০৭ সাল থেকে কাজ করে আসছে। এজন্য বর্ধিত সময়ে ওরাই কাজ করছে। আমাদের তো আর বিকল্প নেই। আর আমাদের সেই সক্ষমতা নেই বলেই তো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এটা করাচ্ছি।

রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০০৭ সালে টিকিট বিক্রির জন্য সিএনএসের সঙ্গে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকায় পাঁচ বছর মেয়াদে চুক্তি করে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে ট্রেনের সংখ্যা, কোচ, আসন এবং স্টপেজ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে মেয়াদ শেষে চুক্তির মূল্য দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। মেয়াদ ফুরালে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করে রেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানতে পেরে সরকারে বিভিন্ন মহলে সিএনএস দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। পরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিয়ে চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। এরপর ২০১৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হলে আবারও ৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকা মূল্যে পাঁচ বছরের জন্য কাজ পায় সিএনএস। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষে আবারও ট্রেনের সংখ্যা, কোচ, আসন স্টপেজ বৃদ্ধিসহ নানা অজুহাতে চুক্তিমূল্য ৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা করা হয়।

মেয়াদ ফুরানোর নির্দিষ্ট সময়ের আগে দরপত্র আহ্বান ও নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সুযোগে আবারও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে এক বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে রেলওয়ে। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মতামত দেয়, চুক্তির ক্ষেত্রে মেয়াদের পরিবর্তে মূল্য বিবেচনা করতে হবে। এতে চুক্তিমূল্য ৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ৪২ মাস তথা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে গেছে। তাই চুক্তিমূল্য সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ তথা ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার আনুপাতিক চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতে বর্ধিত চুক্তির মূল্য দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে অবশিষ্ট চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। বর্ধিত এ চুক্তিমূল্য দিয়ে আর মাত্র ছয় মাস চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো যায় বলে মতামত দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর মার্চে। এরপর রেলওয়ে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেনি। সিএনএসের মেয়াদও বাড়ায়নি। চুক্তি ছাড়াই এখন টিকিট বিক্রি করছে সিএনএস।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন করে দরপত্র আহ্বান, বাছাই এবং সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরিতে লম্বা সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বান প্রাক-কমিটির সভা ডাকে ২৩ জানুয়ারি। আর দরপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ২৩ মার্চ। অথচ মার্চ মাসেই সিএনএসের সঙ্গে রেলের বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া ওই দরপত্রে এমন একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যা দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব না। যদিও দরপত্রটি ছিল আন্তর্জাতিক। দরপত্রে বলা হয়, ‘আবেদনকারীকে অবশ্যই বছরে ৫০ লাখ টিকিট বিক্রির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।’

রেলওয়ে থেকে প্রাপ্ত নথি ঘেঁটে দেখা যায়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রাথমিকভাবে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত ঘোষণা করে। তাদের মধ্যে সহজ লিমিটেডও ছিল। এককভাবে সহজ লিমিটেড দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে না পারায় সিনেসিচ আইটি লিমিটেড ও ভিনসেন্ট কনসালটেনসি (পিভিটি) লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নেয়। তারা সবচেয়ে কম দর অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ২৫ পয়সা প্রস্তাব দেয়। দরপত্রে সহজ লিমিটেড ৪০ লাখ টিকিট বিক্রির প্রমাণ জমা দেয়। প্রাথমিকভাবে মনোনীত হওয়ার পর সহজের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের কাছে আরও টিকিট বিক্রির প্রমাণ আছে কি না। এরপর সহজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এনা পরিবহনের টিকিট বিক্রি করে। এর প্রমাণ তারা মূল্যায়ন কমিটির কাছে জমা দেয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কারিগরি প্রস্তাবনা মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে সহজ লিমিটেড ৭১ দশমিক ৯৩ নম্বর পেয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম স্থান অধিকার করে এবং শতভাগ নম্বর পায়। সর্বনিম্ন দরদাতা ও আর্থিক সক্ষমতার বিচারে সহজের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য গত ১৮ নভেম্বর সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রাক্কলনে (সম্ভাব্য দর) বলা হয়, বর্তমানে কম্পিউটার টিকিটিং পরিচালনার জন্য যাত্রীপ্রতি ২ টাকা ৯৯ পয়সা দেওয়া হয়। এ সার্ভিস চার্জকে ভিত্তি হিসেবে ধরে গত ছয় বছরের মুদ্রাস্ফীতি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্টারগেটিক টিকিটিং সিস্টেমের (বিআরআইটিএস) কর্মপরিধি বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলোচ্য দরপত্রে যাত্রীপ্রতি প্রদেয় প্রাক্কলিত সার্ভিস চার্জ ৪ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করে কমিটি। প্রতি মাসে গড়ে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টিকিট বিক্রির হিসাবে বিআরআইটিএসের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬০ মাসের ব্যয় ৮৭ কোটি টাকা।

মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে বলা হয়, ‘সহজ লিমিটেড সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত হয়েছে। তাদের আর্থিক প্রস্তাবনা যাত্রীপ্রতি ২৫ পয়সা, যা প্রাক্কলিত সার্ভিস চার্জ ৪ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা ১০ পয়সা বা ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। এতে প্রতি মাসে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টিকিট বিক্রির হিসাবে ৬০ মাসে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এতে সরকারের প্রাক্কলনের তুলনায় ৮৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এরপর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সহজ লিমিটেডের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা নিলে আদালতে যায় সিএনএস। তাদের দাবি, সহজ লিমিটেড দরপত্রে ৪০ লাখ টিকিট বিক্রির তথ্য দিয়ে পরে বাকি তথ্য সংযুক্ত করেছে। অথচ পিপিআর-২০০৮-এর ৯৮ (১৬) ধারায় বলা হয়েছে, ‘দরপত্র দলিলে উল্লেখ করা হয় নাই এরূপ অতিরিক্ত কোনো তথ্য দরপত্রে সংযোজন করা হইলেও উহা মূল্যায়নে বিবেচিত হইবে না।’ কিন্তু ওই ধারা লঙ্ঘন করে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে এসব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ না করে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে এ দাবি নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে সিএনএস। আদালত শুনানি শেষে চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর গত ২৩ ডিসেম্বর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে রেল ও সহজ কর্তৃপক্ষ। চেম্বার জজ আদালতও স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।

এ বিষয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান জানান, আমি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে ছিলাম। সর্বনিম্ন দরদাতা, কারিগরি দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ যুক্তিসংগতভাবেই সহজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এ প্রকল্পে কাজ দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এখানে কোনোভাবেই আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি।

সহজ লিমিটেডের দরপত্রের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ভিনসেন্ট কনসালটেনসি লিমিটেডের পরিচালক নাগির আহমেদ অপূর্ব জানান, আমরা চাই কম লাভে দেশের সেবা করতে। এজন্য সবচেয়ে কম রেটে আমরা দরপত্র জমা দিয়েছি। মূল্যায়ন কমিটি যোগ্য মনে করেছে বলেই আমাদের সঙ্গে চুক্তির জন্য সুপারিশ করেছে। 

সূত্র: দেশ রূপান্তর

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:০৫
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:০৭
প্রিন্ট করুন printer

মার্চে কালবৈশাখী, এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড়-তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস

এপ্রিলে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক

মার্চে কালবৈশাখী, এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড়-তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস
ফাইল ছবি

শীতকাল শেষ। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে তাপমাত্রা। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এসে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি ছাড়াল। মার্চেই তা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যাওয়ার আভাস। এপ্রিলে ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে, দেশে বয়ে যেতে পারে তীব্র তাপপ্রবাহ।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এই আভাস দেওয়া হয়েছে। অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই পূর্বাভাস ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে পাঠানো হয়েছে।
 
মার্চের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ‘মার্চে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুই দিন মাঝারি অথবা তীব্র কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় এবং দেশের অন্যত্র দুই থেকে তিনদিন হালকা অথবা মাঝারি কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে প্রথমে ৩৬ ডিগ্রি পরবর্তীতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৩৮ ডিগ্রিতে ঠেকতে পারে।

স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এপ্রিলেও হতে পারে। তবে এক থেকে দুইটি নিন্মচাপের আভাস আছে। ফলে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চলে দুই থেকে তিনদিন বজ্রসহ মাঝারি অথবা তীব্র কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় এবং দেশের অন্যত্র চার থেকে পাঁচ দিন হালকা অথবা মাঝারি কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় হতে পারে।
 
এপ্রিলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে) এবং অন্যত্র এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি) অথবা মাঝারি (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ 

 
 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:৫০
প্রিন্ট করুন printer

মুশতাকের মৃত্যুর দায় সরকার-প্রশাসন এড়াতে পারে না: জাসদ

অনলাইন ডেস্ক

মুশতাকের মৃত্যুর দায় সরকার-প্রশাসন এড়াতে পারে না: জাসদ

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, কারাবন্দি অনলাইন লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু সমগ্র রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর দায় সরকার ও প্রশাসন এড়াতে পারে না।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা থাকলেও আইন অনুযায়ী তার জামিন পাওয়ার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা ছিল না। সাজ্জাদ হোসেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক সকল সাংবাদিক ও লেখকের জামিন প্রদান করার দাবি জানান।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:০০
প্রিন্ট করুন printer

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নত দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করায় শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার বিকাল ৪টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্তে ভার্চুয়ালি প্রেস কনফারেন্স যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বের হতে দ্বিতীয় দফায় জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এলডিসিগুলোর জন্য ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা বৈঠক করে। সিডিপি দ্বিতীয় দফায় এলডিসি থেকে বের হওয়ার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড বাংলাদেশ পূরণ করতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৪
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:১৯
প্রিন্ট করুন printer

মুশতাকের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে: ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক

মুশতাকের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ছবি)

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মুশতাক লুটপাটকারী কিংবা কালোবাজারি, সন্ত্রাসী ও ডাকাত ছিলেন না, বরং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের মেধাবী ছাত্র মুশতাক আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গিয়ে অকালে তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেয়া হলো।

আজ দুপুরে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুবরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগতি-অসংগতি, নিয়ম-অনিয়ম, কীর্তি-অপকীর্তি ইত্যাদি বিষয়ে স্বাধীনচেতা মানুষের অভিমত, বিশ্লেষণ ইত্যাদি প্রকাশের সুযোগ আজ গণতান্ত্রিক বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকার তাদের অপকর্ম ও ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সমালোচনা যাতে প্রকাশ না হয়ে পড়ে সেজন্য নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য লেখা বা পোস্টকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করছে না। যারা স্বাধীনভাবে উক্ত গণমাধ্যমে নিজের মতপ্রকাশের চেষ্টা করছে তাদের জীবনে নেমে আসছে এক ভয়ঙ্কর দুর্বিষহ পরিণতি। হয় তাদের গুমের শিকার হতে হচ্ছে নতুবা সরকারি হেফাজতে প্রাণ দিতে হচ্ছে। তার সর্বশেষ নির্মম শিকার হলেন মুশতাক আহমেদ।

তিনি বলেন, মুশতাকের এই নির্ভিক আত্মদানের মধ্য দিয়েই দেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠবে এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক স্বাধীনতাসহ সুশাসন ও আইনের শাসন ফিরে আসবে। মুশতাক একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন, তিনি চিরদিন অধিকারহারা মানুষের নিকট প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর প্রার্থনা, চেতনা ও অনুভবে চিরদিনের জন্য বিরাজ করবেন। দেশে আইন-কানুন, সুষ্ঠু বিচারিক ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এক শ্বাসরোধী পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মুশতাকের এই মৃত্যুতে সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে-বেদনায় ফেটে পড়েছে। মুশতাকের মতো একজন অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিজস্ব চিন্তায় স্বায়ত্বশাসিত ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার লেখকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর সাথে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত। কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি মুশতাক আহমেদের কারান্তরীণ অবস্থায় মৃত্যুতে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি করছি। মুশতাক আহমেদের শোকাহত পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:২২
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

নিজে থেকে ফোন করে কখনওই মেয়ের খোঁজখবর নিত না তামিমা: রাকিবের মা

অনলাইন ডেস্ক

নিজে থেকে ফোন করে কখনওই মেয়ের খোঁজখবর নিত না তামিমা: রাকিবের মা

বর্তমানে ক্রিকেটার নাসির ও বিমানবালা তামিমা সুলতানার বিয়ে চলছে তোলপাড়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী রাকিব হাসানকে তালাক না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন রাকিবের মা সালমা সুলতানা। তিনি বলেন, ১০-১২ বছর আগে রাকিবের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করায় আমরা প্রথমে তামিমাকে মেনে নেইনি।

রাকিবের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নে। নাসির-তামমিরা বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই জানতে পারেন তিনি। এরপর তিনি রাকিব অভিযোগ করেন, বিবাহবিচ্ছেদ না করেই নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা।

এদিকে, রাকিব-তামিমার মেয়ে রাফিয়া হাসান তুবা টেলিভিশনে মায়ের বিয়ে দেখেছে গণমাধ্যমে। এরপর দাদির গলা জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদেছে।

তামিমার এই বিয়েতে অবাক হয়েছেন রাকিবের মা (তুবার দাদি)। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, রাকিবের বউ থাকা অবস্থায় তাম্মি (তামিমা) যে আবার বিয়ে বসবে সেটা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। তুবাই প্রথম টেলিভিশনে দেখে আমার কাছে এসে গলা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে আর বলে যে মা আবার বিয়ে করেছে।

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা তাকে মেনে নেইনি। কিন্তু তুবার জন্ম হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। শুরু থেকেই তাম্মির আচরণ কিংবা স্বভাব কোনওটাই ভালো ছিল না। তবুও আমরা ছেলে আর নাতনির মুখ চেয়ে কখনও কিছু বলিনি।

তুবার দাদি বলেন, গত ২৬ আগস্ট ছিল তুবার জন্মদিন। সেদিন আমরা কেক কেটেছি, তুবা অনুষ্ঠানে নাচ করেছে। ভিডিও কলে তাম্মিকে সব দেখিয়েছি আমরা। সেও আনন্দ পাওয়ার অনেক ভান করেছে সেদিন। কিন্তু তখনও ঘুর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি যে সে এরকম একটা কিছু করবে। তাম্মি নিজে থেকে ফোন করে কখনওই তুবার কোনও খোঁজখবর নিত না। তুবা মাকে ফোন করে কথা বলতে চাইলেও নানা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে লাইন কেটে দিতেন তামিমা।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর