ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকারের দেড় মাসের প্রায় সব কাজই অত্যন্ত ইতিবাচক মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের মুখপাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
রবিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ক্ষমতায় গেলে অনেকেই অতীত ভুলে যায়। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। সরকার প্রধান হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণভাবে জীবনযাপন করছেন। কোনো দম্ভ-অহংকার তার মাঝে দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। কিন্তু তার চলাফেরা অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো। রাস্তায় দাঁড়িয়েও তার সঙ্গে সাধারণ মানুষ কথা বলতে পারছেন। সকাল ৮টার মধ্যে অফিসে চলে যাচ্ছেন, কাজ করছেন রাত পর্যন্ত। যেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। একইসঙ্গে সরকারের দেড় মাসের প্রায় সব কাজই অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চিরতরে অবসানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সত্যিকার অর্থেই একটি প্রতিহিংসা ও জিঘাংসামুক্ত নতুন বাংলাদেশ পাবে।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করব। তবে এমন কোনো সমালোচনা করা রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে না, যে সমালোচনার কারণে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হলে দেশে কী পরিস্থিতি হয় সেটি ইউনূস সরকার দেখিয়ে দিয়ে গেছে।
বিগত ১৮ মাসে ইউনুস সরকারের অপকর্মগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ মাস শিশুদের কেন হামের টিকা দেওয়া হলো না? আজকে হামের টিকা না দেওয়ার কারণে কতগুলো শিশুকে জীবন দিতে হলো। এই শিশু মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই ইউনূস সরকার এড়াতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশেও হয়তো জ্বালানি সংকট হতে পারে। সরকার চেষ্টা করছে জ্বালানি সংকট নিরসন করার জন্য। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। জ্বালানি ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়া দরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রধান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র কো. চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, গোলাম সারোয়ার মিলন, শাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টুসহ জাতীয় পার্টি এনডিএফের শীর্ষ নেতারা।
বিডি প্রতিদিন/কেএ