শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০

প্রতিমন্ত্রীর জন্য তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা

প্রচণ্ড গরম ও তাপদাহে যখন অতিষ্ঠ সারা দেশের মানুষ। ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ঠিক এমনই সময়ে গাজীপুরের একটি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত থাকবেন বলে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীকে তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘ চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এসেছেন বেলা ১১টায়। অনুষ্ঠান চলেছে ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু সকাল ৮টা থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় প্রচণ্ড গরম ও খরতাপ উপেক্ষা করে চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠের দৃশ্য এটি।

জানা গেছে, গতকাল থেকে রাজবাড়ী মাঠে তিন দিনব্যাপী ৩৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৪ শুরু হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এমপি জাহিদ আহসান রাসেল উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত হননি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের পরিচালক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবীর বিন আনোয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল হাদী শামীম, বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রফিজ উদ্দিন রফিজ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সকাল ৮টা থেকেই জয়দেবপুর রানী বিলাসমণি বালক উচ্চবিদ্যালয় ও জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে হয়। সাড়ে ৯টার দিকে তারা ক্লাসে চলে গেলেও তাগিদ দিলে আবার এসে যোগ দেয়। এতে চার ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড রোদ ও খরতাপের মধ্যে কাটাতে হয়। প্রতিমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী আর ক্লাসে ফিরে যায়নি। এ সময় তারা প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সত্ত্বেও কেন শিক্ষার্থীদের চার ঘণ্টা রাখা হলো- এ প্রসঙ্গে জয়দেবপুর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী আযীযী বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম জানান, ওপর নির্দেশে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানায়, 'প্রচণ্ড গরমে মন্ত্রীর জন্য এভাবে অপেক্ষা করতে হবে জানতাম না। আগে জানলে আজ স্কুলেই আসতাম না।'


আপনার মন্তব্য