শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪১

মাদ্রাসাছাত্র তালহাকে মসজিদেই জবাই করে হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

মাদ্রাসাছাত্র তালহাকে মসজিদেই জবাই করে হত্যা করা হয়

মাদ্রাসাছাত্র হাফেজ তানভীর আবদুল্লাহ তালহাকে (১৩) হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন রংপুর নগরীর ভগিবালাপাড়া জামে মসজিদের খাদেম নাজমুল হক। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিঞা গতকাল এ কথা জানিয়েছেন। ওসি জানান, নাজমুল হককে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় তাকে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দিতে নাজমুল স্বীকার করেন তালহার সত্মায়ের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের জেরে মসজিদ সংলগ্ন রহমানিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ও তালহার বন্ধু আরমান হোসেনের সহযোগিতায় গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তালহাকে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে নাজমুল নিজেই ছুরি দিয়ে তালহার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। মাথাটি লাল কাপড়ে মোড়ানো হয়। নাজমুলের নির্দেশে আরমান মধ্যরাতে তালহার মাথাটি মসজিদের ল্যাট্রিনের ট্যাংকে ফেলে দেয়।

দেহটি পরদিন সুবিধাজনক সময় ল্যাট্রিনের ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ১ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ তালহার মস্তকবিহীন দেহ মসজিদের দোতলা থেকে চটে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করে। ওসি আরও জানান, তালহার সত্মায়ের সঙ্গে নাজমুলের পরকীয়া ছিল। তালহা বিষয়টি জেনে ফেলার কারণেই তাকে হত্যা করা হয় বলে নাজমুল স্বীকার করেছেন। গ্রেফতার আরমানও জিজ্ঞাসাবাদে তালহাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে পরকীয়ার বিষয়টি সত্য কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি বাবুল। 

প্রসঙ্গত, রংপুর নগরীর ভগিবালাপাড়া এলাকার সেনাসদস্য খানজাহান আলীর ছেলে স্থানীয় রহমানিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাফেজ তানভীর আবদুল্লাহ তালহাকে ৩১ জানুয়ারি বিকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাদ্রাসা ভগিবালাপাড়া জামে মসজিদের ল্যাট্রিনের ট্যাংক থেকে তালহার মাথা এবং আগের রাতে ওই মসজিদের দোতলা থেকে তার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাত্র এক বছরেই তালহা কোরআনে হাফেজ হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি পাগড়ি পরিয়ে তাকে হাফেজ স্বীকৃতি দেওয়া কথা ছিল। এ ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি রাতে নাজমুল হক ছাড়াও মসজিদের মুয়াজ্জিন তাজকিরুল ইসলাম, রহমানিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (বড় হুজুর) হাফেজ মেহেদী হাসান, সহকারী শিক্ষক হাফেজ ইমরান হোসেন, ছাত্র আজহার আলী, মানিক মিয়া, রেজাউল করিম, আরমান হোসেন, ফেরদৌস আহমেদকে আটক করে পুলিশ। কোতোয়ালি থানায় নিহতের চাচা জাহিদুল ইসলামের দায়ের করা হত্যা মামলায় সুনির্দিষ্ট করে কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে এখন মামলায় খাদেম নাজমুল ও মাদ্রাসা ছাত্র আরমানকে আসামি করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর