শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৫

কুমিল্লায় আদালতে হত্যা

বিস্ময় কাটছে না নাগরিক সমাজের

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

বিস্ময় কাটছে না নাগরিক সমাজের

কুমিল্লায় আদালতে হত্যাকান্ডে বিস্মিত কুমিল্লার নাগরিক সমাজ। কুমিল্লার শহর-গ্রাম সর্বত্র একই আলোচনা। আদালতের মতো নিরাপদ স্থানে কীভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তাও আবার বিচারকের খাসকামরার ভিতরে! এদিকে কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হলেও বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। কুমিল্লার প্রবীণ সাংবাদিক খায়রুল আহসান মানিক বলেন, ‘আদালত কক্ষে হত্যাকা- দেশবাসীকে হতবাক করেছে। একই সঙ্গে ভাবিয়েও তুলেছে। আমরা কতটুকু নিরাপদ এমন প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কী করণীয় তা ঠিক করার সময় এসেছে।’

নাট্যব্যক্তিত্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে এ ধরনের হত্যাকা- বেড়েই চলেছে। এখন আমরা নিজেকে সময় দিতে পারছি না। মানুষ সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে দূরে চলে গেছে।’

মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নোমান বলেন, ‘এ বিষয়টা নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আদালতের নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে।

পুলিশ প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতি একসঙ্গে বসে নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’

ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক আহসানুল কবির বলেন, ‘আমাদের দেশে আইন আছে। এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। মূল্যবোধ বাড়াতে হবে।’

এনজিও সংগঠক মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আজকে বাংলাদেশে ঠিকভাবে বিচার না হওয়ার ফলে রাহাজানি বেড়ে গেছে। ধর্ষণ, হত্যা, মারামারি কাটাকাটি চলতেই থাকবে যদি বিচার না হয়।’ কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘কুমিল্লায় আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। আশা করছি এতে সবার আতঙ্ক কেটে যাবে।’

কুমিল্লা আদালতের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিম হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের ১৫ জুলাই হাজিরার দিন ধার্য ছিল। মামলার আসামিরা আদালতে প্রবেশের সময় ৪ নম্বর আসামি ফারুককে ছুরি নিয়ে তাড়া করে ৬ নম্বর আসামি হাসান। এ সময় জীবন বাঁচাতে ফারুক বিচারকের খাসকামরায় প্রবেশ করেন। সেখানে প্রবেশ করে হাসান টেবিলের ওপর ফেলে ফারুককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। আহত ফারুক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

 


আপনার মন্তব্য