শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩১

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা

সার্কের স্বার্থেই রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা- সার্কের স্বার্থেই রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার করতে হবে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে শিগগিরই এ অঞ্চলে বিভিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক জঙ্গি ও মৌলবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, যা থেকে বাংলাদেশ, ভারত বা পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ বাদ পড়বে না। একাত্তরের গণহত্যা, হলি আর্টিজানে হামলা ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের মধ্যে যোগসূত্র আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। গতকাল সকালে রাজধানীতে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ১৯৭১-এর গণহত্যা, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। দুই দিনব্যাপী এ সেমিনারে ভারত, ইতালি, তুরস্ক, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য থেকে ৫০ জন বিশেষজ্ঞ গবেষক যোগ দিয়েছেন। এছাড়া সারা দেশ থেকে এসেছেন শতাধিক গবেষক। প্রথম দিনে ছয়টি কর্ম অধিবেশনে ২৮ জন গবেষক তাদের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। এছাড়া বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী হাশেম খান, ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, লেখক ও গবেষক শামসুজ্জামান খান, ভারতের লেখক ও সাংবাদিক হিরন্ময় কার্লেকার, জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জয়তি শ্রীবাস্তব, সেন্টার ফর স্টাডিস ইন সোশ্যাল সায়েন্সের চেয়ারম্যান জহর সরকার, মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী খিন জ উইন, তুরস্কের লেখক, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক ফেরহাত আতিক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিচার করতে পারলে আজ হয়তো রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা ঘটত না। ’৭১-এর গণহত্যা, হলি আর্টিজানে হামলা, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া একই সূত্রে গাঁথা। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বেশিদিন বাংলাদেশে অবস্থান করলে তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়বে। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে পাকিস্তানের আইএসআই, আল-কায়েদা ও আইএস এ অঞ্চলে জঙ্গি কর্মকান্ডের ক্ষেত্র প্রসারিত করবে। যার অভিঘাত থেকে বাংলাদেশ, বার্মা, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন, রাশিয়া কেউই মুক্ত থাকবে না। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। রোহিঙ্গা ইস্যু দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপপ্রয়োগ করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর