শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৮

এক প্রতারক চক্রের হাতে সারা দেশের সাব-রেজিস্ট্রারদের সিলমোহর

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি চক্রের হাতে সারা দেশের সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসের সিলমোহর পাওয়া গেছে। এসব ব্যবহার করে ঢাকা জজ কোর্টের পেছনে রাজার দেউরী আগরবাতি গলির একটি ঘরে, যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগে এবং পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় তৈরি করা হতো জাল দলিল।

এসব এলাকায় বুধবার পৃথক অভিযানে জাল দলিল চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন শফিকুল ইসলাম খোকন, আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম নজরুল।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক জানান, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তান আমলের প্রায় সহস্রাধিক সরকারি স্ট্যাম্প ও মূল্যবান দলিল জাল করার উপকরণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসের শতাধিক সিল এবং সিলমোহরসহ মূল্যবান স্ট্যাম্প ও জাল দলিল তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সিআইডি নিযুক্ত সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে শফিকুল ইসলাম খোকনকে গ্রেফতার করে আলামত জব্দ করা হয়। শফিকুলের দেওয়া তথ্যে আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়। এরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্ট্যাম্প থেকে বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে লেখা ও চিহ্ন তুলে ফেলে জাল দলিল তৈরি করে নিরীহ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। অব্যবহৃত স্ট্যাম্প অথবা বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে লিখিত দলিলের লেখা বা চিহ্ন তুলে ফেলে টাকার বিনিময়ে তারা চাহিদামতো বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির কাছে কিংবা বিভিন্ন চক্রের কাছে বিক্রি করেছেন এবং হস্তান্তর করেছেন বলে গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন। তিনজনের মধ্যে নুরুল ইসলাম পুরনো দলিল সংগ্রহ করে দলিলের লেখা বা চিহ্ন কেমিক্যাল দিয়ে তুলে ফেলার কাজে বিশেষ পারদর্শী আবুল কালামের কাছে দিতেন। এরপর শফিকুল ইসলাম জাল দলিল তৈরি করতেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে জমিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাবাজদের পক্ষে তৈরি করা দলিল দিয়ে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা করতেন বলেও স্বীকার করেছেন।

শফিকুল ইসলাম খোকনের কাছ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ৮০৪টি স্ট্যাম্প এবং বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিসের সরকারি কর্মকর্তার নামের ১০৫টি সিল জব্দ করা হয়েছে। আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ১ হাজার ৪৫১টি স্ট্যাম্প ও ২০০টি কার্টিজ পেপারসহ দলিলের লেখা ও চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে। আর নুরুল ইসলাম নজরুলের কাছ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ১ হাজার ১৪টি স্ট্যাম্প এবং বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিসের সরকারি কর্মকর্তার নামের ১০৫টি সিল জব্দ করা হয়।


আপনার মন্তব্য