শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৯

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

প্রতিদিন ডেস্ক

Google News

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিনে উজান অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে উপরোক্ত এলাকায় বন্যার শঙ্কা রয়েছে। সূত্রটি উল্লেখ করেছে, দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বেড়ে আগামী সাত দিনে সতর্কসীমায় পৌঁছবে। কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। আগামী ১২-৬০ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পশ্চিমাঞ্চলের গঙ্গা নদীর পানি আগামী সাত দিনে বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা নেই। অপরদিকে মধ্যাঞ্চলের পদ্মা নদীর পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। তবে বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আগামী সাত দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জুন মাসের শেষ ও জুলাইয়ের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ এবং উজানের অববাহিকার অনেক স্থানে বৃষ্টিপাতসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ছে, তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।’ আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে উজানের অববাহিকার অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর ফলে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি  পেতে পারে।’

এদিকে পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ও উজানের অববাহিকায় ভারতের অরুণাচল, আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে আগামী সাত দিনে অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষণীয় হতে পারে। এর ফলে এ সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী অববাহিকার পানি বেড়ে সতর্কসীমায়  পৌঁছতে পারে এবং কোথাও কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে।

 

অপরদিকে আগামী ১২ থেকে ৬০ ঘণ্টায় হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে তিস্তা এবং ধরলা নদীর পানি সমতল কতিপয় স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে এবং বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহে দেশের উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তর প্রদেশ এবং নেপালের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে গঙ্গা নদীর পানি আগামী সাত দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা উভয় নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সপ্তাহে  দেশের মধ্যাঞ্চলের পদ্মা নদীর পানি সমতলও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কোথাও কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে।

মেঘনা অববাহিকার উজানের প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে দেশের উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সাত দিনে সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা অববাহিকার উজানের অন্যান্য নদ-নদীর (সারিগোয়াইন, যদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংস, মনু, খোয়াই) পানি সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী সাত দিনে দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হতে পারে। এর ফলে এই অববাহিকাভুক্ত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি  পেতে পারে এবং কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।