বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০২২ ০০:০০ টা

বাজার থেকে চাল কিনে প্যাকেটজাত নয় : খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশের বাজার থেকে চাল কিনে প্যাকেটজাত করে তা আবার বিক্রি করা যাবে না। এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি সার্কুলার জারির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। গতকাল সচিবালয়ের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ মজুদ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর রাজধানীসহ সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন টিম ও প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কিছু বাজারে চালের আড়তে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একই চাল যেটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পড়ছে, সেটা প্যাকেটজাত করে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি করছে। তারা নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মিলারদের আগাম টাকা ও নিজস্ব ব্র্যান্ডের প্যাকেট দিয়ে আসছে। বিপুল পরিমাণ চাল এরা (কোম্পানিগুলো) এভাবে তুলে নিচ্ছে। প্যাকেট করতে লাগে ৩ টাকা, অথচ বিক্রি করছে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে।’ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি, এ সার্কুলার জারি করা যায় কি না, যারা প্যাকেট করে চাল বিক্রি করবে তারা দেশের বাজার থেকে কিনতে পারবে না। তারা ৬৭ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে আমদানি করে প্যাকেট করবে। এটার সামারি রেডি করছি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর জন্য। কৃষি সচিব, খাদ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব ও শিল্প সচিব- এ চারজন মিলে একটি মিটিং করবেন ভোক্তা অধিকার নিয়ে, উপায় বের করার জন্য। এটা এখনো ফাইনাল হয়নি। যাদের নিজস্ব মিল আছে, তারা সেখানে প্যাকেট করতে পারবে। কিন্তু বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করে প্যাকেট করতে দেব না। মিলমালিকরা নিজস্ব প্রডাকশন বিক্রি করতে পারবেন। নিজস্ব মিল থাকলেও লাইসেন্সে যে মজুদের বিধান আছে এর বাইরে মজুদ করতে পারবেন না। মিলের যে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা এর তিন গুণ তিনি মজুদ করতে পারবেন। এর বাইরে থাকলে তা অবৈধ মজুদ।’

দিনাজপুরে দেশের বড় একটি শিল্পগ্রুপের মিল আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেই মিলের যে পাক্ষিক ক্ষমতা দেওয়া আছে সর্বোচ্চ এর তিন গুণ তারা মজুদ করতে পারবে। একটি বাজারে যাবে, একটি উৎপাদনে যাবে, আরেকটি মজুদ থাকবে। সেটার পরও প্রায় ৫ হাজার টন উদ্বৃত্ত ছিল। এটাকে সিলগালা করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করা হয়েছে। তাদের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মহাদেবপুরে আরেকটি গ্রুপ দুটো মিল ভাড়া নিয়েছে। যদি তারা ভাড়া নিয়ে থাকে তাহলে ভাড়ার যে মিলটি আছে সে মিলের ব্র্যান্ডেই কিন্তু চাল বস্তায় ভরতে হবে। সেখানে গিয়ে ওই গ্রুপের বস্তা পাওয়া গেছে, তা জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বড় বড় মিলমালিকদের দিকে নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘যারা একেবারেই ধান ব্যবসায়ী নন, তারাও মজুদ করছেন, ইটের ভাটাওয়ালাও মজুদ করছেন। এটাও আমরা খুঁজে পেয়েছি। এমনকি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকও চাল কিনে মজুদ করছেন। মানুষ মনে হয় হতাশায় ভুগছে যে কী হয় কী হয়। এর জন্য মাসের চাল মাসে না কিনে তিন মাসেরটা একসঙ্গে কিনছে। এটাও কিন্তু (দাম বাড়ার) কারণ। আমি ভোক্তাদের বলতে চাই, একসঙ্গে চার থেকে পাঁচ মাসের চাল কিনে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না।’

এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এও বলেছি এই মজুদদারদের মধ্যে দল-নির্দল কোনো কিছুই দেখার বিষয় নেই। কারণ মজুদদারেরাই একটি ভিন্ন দল। আমি তো নির্দেশ দিয়েছি ১৯৭৪-এর স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে মামলা করতে। সেখানে আমাদের ডিসি সাহেবরা একটু ভয় পান। আমি বলেছি এ অ্যাক্টেই মামলা করেন। তথ্য নিয়ে যদি দেখি, তাহলে আমদানি করব। যদি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে দেখি এদের উচিত শিক্ষা দিতে ট্যাক্স কমিয়ে বর্ডার খুলতে হয়, তা-ই করব। তাহলে শিক্ষা পাবে।’

সিন্ডিকেট সরকারের চেয়ে ক্ষমতাবান নয় জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্যই আমরা গতকাল অভিযান শুরু করেছি। এটাও ঠিক, নির্বাচনের আগমুহূর্তে কেউ কেউ তো আছেন যে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চান। আমরা সচেতন আছি। আমরা অভিযান শুরু করেছি, দেখা যাক। আশা করি এদের কন্ট্রোল করতে পারব।’ সরকার করপোরেট ফাঁদে পড়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কোনো ফাঁদে পড়েনি। ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করছিল।। আমরা রিকভার করছি।’

সর্বশেষ খবর