শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জুন, ২০২১ ১২:১০
প্রিন্ট করুন printer

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কোথায়?

ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কোথায়?
Google News
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বাংলাদেশের প্রথম স্বায়ত্ত্বশাসিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালে ব্রিটিশ অক্সব্রিজ শিক্ষা অনুসরণে এটি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু হতে প্রতিতযশা বৃত্তিধারী ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটি প্রাচ্যর অক্সফোর্ড নামে স্বীকৃতি পায়। ঢাবি’র বিশেষত্ব হলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় এ অবদান সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় ঢাবি জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি একটি দেশের অভ্যুদয়, অভ্যুদয় পরবর্তী দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখেছে। বিশেষ করে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলনের নানা কর্মকাণ্ডসহ ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন; ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন; ৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন; ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান; ৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকার ফলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রতিশব্দ হয়ে দাঁড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। দেশের সর্ববৃহৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩ টি অনুষদ; ৮৩ টি বিভাগ; ১৩ টি ইনস্টিটিউশন; ২৩ টি ছাত্রাবাস ও ডরমেটরি; ৫৪ টির অধিক রিসার্স সেন্টার রয়েছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের পদচারণায় মুখর হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; পি জে হার্টস; তাজউদ্দিন আহমেদ; সত্যেন বোস; ডক্টর মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহ; রমেশ চন্দ্র মজুমদার; আবদুর রাজ্জাক; কাজী মোতাহার হোসেন; মুনীর চৌধুরী; বুদ্ধদেব বসু; ড. মুহাম্মদ ইউনূস; সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী; হুমায়ূন আহমেদ; আহমদ ছফাসহ অসংখ্য দেশবরেণ্য বিজ্ঞানী, গবেষক, রাজনীতিক ও গুণী মনীষী। তারা জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছেন এ ক্যাম্পাসে।
 
দেশ সেরা শিক্ষাথী হিসেবে আমরা গর্বিত। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২২ শীর্ষক বিশ্ব সেরা ১৩০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ সনের যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারলি সায়মন্ড (কিউ এস) র‍্যাংকিংয়ে ৮০১-১০০০ তমের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান ১০০১-১২০০ এর মধ্যে। দুবাই ভিত্তিক অন্য একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিডব্লিউইউআর র‍্যাংকিংয়ে ২০০০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাবি ১৮১৬তম (রিসার্স এ অবস্থান হলো ১৭৩৭তম)। র‍্যাংকিং এ বিগত ১০ বছর শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরর এমআইটি; ক্যালটেক; স্ট্যানফোর্ড; হার্ভার্ড; যুক্তরাজ্যে অক্সফোর্ড; ক্যামব্রিজ। ঢাবিকে ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং এ কেন থাকতে হবে? র‍্যাংকিং এর কি কি বিষয় বিবেচনা করা হয় তা জানা জরুরি।
 
র‍্যাংকিং নির্ধারণের বিবেচ্য বিষয় ছয়টি: 
 একাডেমিক খ্যাতি: মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০% নম্বর হলো একাডেমিক খ্যাতি। শিক্ষকতা ও গবেষণার মান নিয়ে ১৩০,০০০ জনেরও বেশি এক্সপার্ট এর মতামতে নির্ধারিত হয় এর পয়েন্ট। ঢাবির এখানে অর্জন মাত্র ১৭.৯%।
 চাকুরির বাজারের সুনাম: এ ধাপে বিবেচ্য পয়েন্ট শতকরা ১০ নম্বর। বিশ্বের নামী ৭৫,০০০+ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মতামতে নির্ধারিত হয়। সর্বাধিক দক্ষ, উদ্ভাবনী ও কার্যকর গ্রাজুয়েট তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরির বাজারে সুনাম কেমন রয়েছে। কর্মসংস্থানের উপযোগী হিসেবে গ্রাজুয়েটগণ প্রস্তুত কি না। এধাপে প্রাপ্তি সর্বোচ্চ ২৯.৯% ।
 শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত: এ ধাপে নম্বর হলো ২০%। র‍্যাংকিং এর জন্য এটি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। সঠিক সংখ্যাতত্ত্বেও যদিও এটি পরিমাপ করা কঠিন, তথাপিও শিক্ষক-ছাত্রদের অনুপাত এর মাধ্যমে শিক্ষার মান নির্ধারিত হয়ে থাকে। কত সহজে ছাত্র-শিক্ষক যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম সেটিও বিবেচ্য। এ ধাপে প্রাপ্তি সর্বোচ্চ ১৪%।
 শিক্ষক প্রতি গবেষণা উদ্ধৃতি: র‍্যাংকিং নির্ধারণে ২০% নম্বরের মধ্যে বিগত ৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক উদ্ভাবিত গবেষণার কি পরিমাণ উদ্ধৃতি করা হয়েছে তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ ধাপটিতে পয়েন্ট দেয়া হয়। এটি করতে ২০১৫-২০২০ সালের ১৪.৭ মিলিয়ন পেপার এর মধ্যে ৯৬ হাজার উদ্ধৃতি হিসেবে দেয়া হয়েছে। এ ধাপে প্রাপ্তি মাত্র ২.৫%।
 আন্তর্জাতিক শিক্ষকের অনুপাত এবং 
 আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনুপাত: বিশ্বজুড়ে অনুষদ এবং ছাত্রদের আকর্ষণ করতে এ ধাপ দু’টির প্রতিটি ৫% করে নম্বর নির্ধারণ করে দেয়া। এর ফলে গ্লোবাল আউটলুক বিকশিত হয়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার প্রচারে ক্ষেত্রে। এ ধাপে বৈশ্বিক পরিবেশে দক্ষতা বৃদ্ধি; উত্তম চর্চা এবং বিশ্বাসসমূহের আদান-প্রদান করা সহজতর হয়। এধাপে প্রাপ্ত পয়েন্ট তলানিতে মাত্র ১.১%। 
 
র‍্যাংকিং এ পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ কি?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কয়েক দশকে যে যশ, খ্যাতি ও সম্মান অর্জন করেছিল, বর্তমানে তার অনেকটাই হারাতে বসেছে। প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছে। পিছিয়ে পড়ার প্রধানতম কারণ:
  ছাত্র-শিক্ষকদের লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি  এবং অর্থ, পদমর্যাদা ও ক্ষমতা অধিগ্রহণের দিকেই বেশি ধাবিত কতিপয় শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা। দলপ্রীতি-স্বজনপ্রীতির কাছে হার মেনেছে নীতি-নৈতিকতা।
  অভিযোগ মেধা ও যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে অযোগ্য/অদক্ষ লোকদের প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়োগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের পাচ্ছে, তবে শিক্ষক হিসেবে মেধাবীরা কি নিয়োগ পাচ্ছে? নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদাহিতার অভাব;
  শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা, গবেষণাকে প্রাধান্য না দেয়া;
  মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আদর্শের অধঃপতন;
  শ্রেণিকক্ষে কিছু শিক্ষকের অনিয়মিত পাঠদান; পরীক্ষা সঠিক সময়ে নেন না, নিলেও সময়মতো ফলাফল প্রকাশ করেন না;
  একশ্রেণির শিক্ষক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নেয়া এবং ব্যবসা/রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা;
  বিদ্যাচর্চা, গবেষণা ও পঠন-পাঠদানের গতিধারাও কমে গেছে আগের তুলনায়। গবেষণায় বাজেট অপ্রতুল। আগ্রহ কম।
 
উত্তরণের উপায় কি?
পরিবর্তিত জীবন দর্শন, বাস্তবতা, উদ্ভাবন ও বিবর্তন বিশ্লেষণ করে জাতিকে দিক নির্দেশনা দেয়ার উপযোগী করা হোক এই বিদ্যাপীঠের প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে। একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বিনির্মাণে একটি যোগ্য ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তুত করা। সেরা মানে বা র‍্যাংকিং এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সেরাদের তালিকায় দেখতে হলে যা করা জরুরি: 
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্রান্ডিংকরণ ও ইতিবাচক প্রচারণা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালুমনাই কর্তৃক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর প্রচারণা। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব র‍্যাংকিং এ ১০০ এর মধ্যে নিশ্চিতকরণের জন্য প্রতিষ্ঠিত অ্যালমনাইদের এমবাসেডর নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। সর্বক্ষেত্রে অ্যালমনাই কর্তৃক ইতিবাচক প্রচারণা জরুরি। ছাত্রদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মোটিভেশন এবং অ্যাওয়ার্ড প্রথা চালুকরণ। ঢাকা শহরের বাহির হতে যে সকল শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তাদের অ্যালমনাই হিসেবে সঠিকভাবে গাইড করা। এর ফলে পড়াশুনার ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবে। এটি গাইডের অভাবে ঝরে পড়া ছাত্রদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে। এটি বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু আছে। এটি র‍্যাংকিং এর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য।
 ক্যারিয়ার প্লানিং এর মাধ্যমে কাজ, চাকুরি ও ইন্টার্নশিপ এর সুযোগ: বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নির্ধারণের অন্যতম উপাদান হলো অ্যালমনাই কত ভালো অবস্থানে রয়েছে (সমাজে অবস্থান)। আবিশ্যিকভাবে অ্যালমনাই হিসেবে জুনিয়র অ্যালমনাইদের কাজ, চাকুরি, ইন্টার্নশিপ এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া। জব ফেয়ার জরুরি। এটি বিশ্বের নামি দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু আছে।
 আর্থিক সহায়তা/ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা: একজন শিক্ষার্থীও যাতে অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে তার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে বৃত্তি/শিক্ষার্থী ঋণের ব্যবস্থা। ধরা যাক, প্রতিবছর ৩০০০ হাজার ছাত্রের লোনের প্রয়োজন ৫০০০ টাকা করে হলে মাসিক দরকার ৫০০০×৩০০০ = ১৫০০০০০০ (দেড় কোটি) টাকা: বাৎসরিক ১৮ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দরকার। এ ঋণ চাকুরি প্রাপ্তির এক বছর পরেই কিস্তিতে শোধযোগ্য। তাহলে টিউশনি/অর্থ সংগ্রহের জন্য অহেতুক সময় অপচয় করতে হবে না। অ্যালমনাই এর মধ্যে ব্যাংকের মালিক/নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের অনেকে হয়ত এ কাজে সহায়তা করতে পারবেন। এটি বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঋণ প্রদানের প্রথা চালু আছে।
 গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা : গবেষণাই হতে হবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। গবেষণা কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। উৎসাহ প্রদানের জন্য হলেও প্রতিটি জার্নালে আর্টিকেল পাবলিকেশনের জন্য গবেষকদের সম্মানির চালু যেমন-জার্নালভেদে এ প্লাস শ্রেণির জন্য ১৫ লক্ষ, এ শ্রেণির জন্য ১২ লক্ষ, বিশেষ শ্রেণির জন্য ১০ লক্ষ, সি শ্রেণির জন্য ০৬ লক্ষ টাকা সম্মানির ব্যবস্থা। এর ফলে শিক্ষকরা এবং ছাত্ররা গবেষণা কার্যে অধিক মনোযোগী হতে পারবে। করোনা ভ্যাকসিন অথবা কিট নিয়ে রিসার্স করে সারা বিশ্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিও সুযোগ ছিল।
 ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়: একটি স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে সকল কার্য সম্পাদন (আবাসিক হল বা ক্যাম্পাসে প্রবেশে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সেবা গ্রহণে অথবা ক্যাম্পাসে সকল ক্রয়সহ যাবতীয় কার্যে একটি কার্ড)। ডিজিটাল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ২৪/৭ প্রবেশাধিকার থাকতে হবে, যখন খুশি একজন শিক্ষার্থী প্রবেশ এবং পড়াশুনা করতে পারবে। সকল বই এর অনলাইন বা সফটকপি সহজলভ্য করা জরুরি। ঢাবি প্রশাসন শতভাগ ডিজিটাল অফিস ব্যবস্থাপনা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতো।
 
 যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন: স্নাতক পর্যায়ে মূল (মেজর) ডিগ্রির পাশাপাশি মাইনর ডিগ্রির প্রদান। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের ডিগ্রি প্রচলন থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূরে এটা সময়ের দাবি। এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের নিয়মিত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় সিম্পোজিয়ামের ব্যবস্থাকরণ। একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রস্তুত এবং মেনে চলা: একই সময়ে ক্লাস শুরু এবং একই সময় শেষ উদাহরণস্বরূপ: ফল সেশন আগস্ট-ডিসেম্বর: স্পিরিং সেশন জানুয়ারি-মে। এর ব্যতয় হলে দায়ীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
 
 শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন: অধিকতর দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের সক্ষমতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনা করে শিক্ষার্থী ভর্তি আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, যথাযথ পরিচিতি না থাকাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ছে না (২০১৯ সনের তথ্য অনুযায়ী ৪৯ জন)। আনুপাতিক হারে বিদেশি ছাত্র ভর্তির কার্যকর উদ্দোগ গ্রহণ।
 
প্রজ্ঞা ও জ্ঞানালোকে সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান ব্রত নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বের ন্যায় দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সবসময় এগিয়ে আসুক এটাই আমাদের আশাবাদ।
 
লেখক : এডিশনাল কমিশনার অব কাস্টমস, কাস্টম হাউস বেনাপোল
 
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা