শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জুলাই, ২০২১ ১১:০৯
প্রিন্ট করুন printer

হিংসা ও হানাহানিমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠুক

ডক্টর আবু জাফর সিদ্দিকী

হিংসা ও হানাহানিমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠুক
Google News

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি। ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ পশু কোরবানি। যার সঙ্গে জড়িত ইমানদারদের আদিপিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পবিত্র স্মৃতি। একই সঙ্গে এটি এমন এক উৎসব ও ইবাদত যা মানবজাতির ঐক্য এবং বিশ্বশান্তির পথ দেখাতে পারে। হাজার হাজার বছর আগে সর্বশক্তিমান আল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে তাঁর প্রিয় বস্তু কোরবানির নির্দেশ দেন। আল্লাহর প্রতি সংশয়াতীত আনুগত্যে হজরত ইবরাহিম (আ.) প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন। আপত্যস্নেহ যাতে ঐশী নির্দেশ পালনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তা নিশ্চিত করতে নিজের চোখ বেঁধে প্রিয় পুত্রকে কোরবানির সময় আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইল (আ.)-এর বদলে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। ফেরেশতা হজরত ইবরাহিমকে জানান, আল্লাহ তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়েছেন। স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের এই মহিমান্বিত ঘটনার অনুসরণে মহানবী (সা.)-এর অনুসারীদের মধ্যে ১৪০০ বছর ধরে পালিত হচ্ছে কোরবানির প্রথা। 

কোরবানি নিছক পশু জবাই নয়; মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকে যে অহংবোধের হীনমন্যতা, তা বিসর্জন দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হওয়াই কোরবানির শিক্ষা। এ বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা- পশুর রক্ত বা মাংস নয়, তাঁর কাছে পৌঁছে বান্দার তাকওয়া। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের উৎস মহান আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী জীবন গড়ার মধ্যেই রয়েছে কোরবানির মাহাত্ম্য। তা উপেক্ষা করে কোরবানির নামে অহংবোধের প্রকাশ ঘটালে তা হবে পশু হত্যার নামান্তর। এ মনোভাব ধর্মীয় দৃষ্টিতেও পরিত্যাজ্য। সারা দেশে এখন চলছে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি। কোরবানিতে পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই কোরবানি-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ঈদুল আজহার সঙ্গে মোমিনদের আদিপিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্মৃতি জড়িত। বিশ্বের তিনটি প্রধান ধর্মের অনুসারী মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে হজরত ইবরাহিম (আ.) শ্রদ্ধার পাত্র। সেহেতু হিংসা ও হানাহানিমুক্ত বিশ্ব গড়তে মিল্লাতে ইবরাহিম (আ.)-এর মধ্যে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হলে তা হবে মানবজাতির জন্য এক বড় অর্জন। আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী জীবন গড়ার মধ্যেই রয়েছে কোরবানির আসল মাহাত্ম। তা উপেক্ষা করে কোরবানির নামে অহংবোধের প্রকাশ ঘটলে তা হবে পশু হত্যার নামান্তর। এ মনোভাব ধর্মীয় দৃষ্টিতেও পরিত্যাজ্য। ঈদুল আজহা বা কোরবানির জন্য সারা দেশে এখন চলছে প্রস্তুতি। কোরবানিতে পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্যে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় তা নিশ্চিত করা আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য।

কুরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। কুরবানীদাতারা কুরবানীর পর যদি বর্জ্যগুলো নিজ দায়িত্বে পরিস্কার করেন তাহলে পরিবেশ নষ্ট হবে না। আর এটা না করলে এর জন্য কষ্ট ভোগ করতে হবে আমাদেরকেই। কিন্তু আমরা তো অন্তত নিজের এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা পারি। পশুর যেসব অংশ ফেলে দিতে হবে সেগুলো এভাবে যত্রতত্র ফেলে না রেখে বড় কোনো ব্যাগে ভালভাবে বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে রাখলে তা সমাজের জন্যই মঙ্গল জনক হবে।
পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে পশু কুরবানী করার কারণে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হওয়া নতুন কিছু নয়। পশুর হাট বসা থেকে পশু কুরবানী করা পর্যন্ত রাজধানীতে বর্জ্য জমতে থাকে। এর সাথে ঘর-গৃহস্থালীর আবর্জনা যুক্ত হয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য।
কুরবানীর পশুর চামড়া ও বর্জ্য নিয়েও কিছু করণীয় রয়েছে। কুরবানীর পশু জবেহ করার ফলে যাতে পরিবেশ বিন্দুমাত্রও দূষিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রক্ত আর অন্যান্য বর্জ্যাদি দ্রুত অপসারণ করার জন্যে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার সাথে সহযোগিতা করা দরকার।
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এখনো দেশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণে সচেতন থাকতে হবে। 
এবারের ঈদে করোনা ভাইরাস এক বড় ধরনের আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঈদে যারা রাজধানীতে থাকবেন এবং যারা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন ও যাবেন তাদের সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। নগরীতে পশু কোরবানি-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সিটি কর্পোরেশনকে তৎপর থাকতে হবে। নগরবাসীর প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, তারাও যেন পশু কোরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হন। রাস্তার ওপর বা যত্রতত্র কোরবানি দেয়া অনুচিত। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ ছড়ায়। ঈদের পবিত্রতা সব ক্ষেত্রেই বজায় রাখা প্রয়োজন।

লেখক: লেখক ও গবেষক, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চাইল্ড কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা-ঢাকা।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন