Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৩

কত রকম লবিং

বউ যখন বাপের এই পাওয়ারফুল কাশি সহ্য করে ফেলে, তখন আমার কাশির চিন্তা ছেড়ে দিয়ে আমাকে ফ্রিজের পানি খাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেয়। লবিংয়ের এই যে প্রক্রিয়াটা, এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাকে কিছু মালপানি খরচ করতে হয়। আর সেটা জর্দার পেছনে। জর্দাটা শ্বশুরকে না খাওয়ালে তার কাশির জোশটা ঠিকমতো আসে না তো!

ইকবাল খন্দকার

কত রকম লবিং
ডায়ালগ ও আইডিয়া : তানভীর আহমেদ

এক বড়ভাইকে ভার্সিটি লাইফে আমরা ‘ফ্যাশন আইকন’ হিসেবে জানতাম, মানতাম। কারণ, তার ফ্যাশন ছিল অন্য যে কারও থেকে আলাদা। বিশেষ করে তার আঙ্গুলের আংটি দেখে আমাদের চমকে যেতে হতো। এত চমৎকার চমৎকার আংটি তিনি পরতেন, আমরা চোখ ফেরাতে পারতাম না। তো দীর্ঘদিনের বিরতির পর কদিন আগে তার সঙ্গে দেখা। কুশল বিনিময় করতে করতে হ্যান্ডশেক করব, এমন সময় তার আঙ্গুলের ওপর চোখ পড়লে রীতিমতো হতাশ হয়ে গেলাম। কারণ, একটা আংটিও নেই। যারপরনাই বিষণ্ন গলায় বললাম, এই কী অবস্থা ভাই? আপনার আংটি কোথায় গেল? এত সুন্দর সুন্দর আংটি! বড়ভাই বললেন, আরে আর বলিস না। জীবনে চলার পথে অনেক কাজের সঙ্গেই যুক্ত করতে হয় নিজেকে। কিন্তু যদি দেখা যায় কোনো জিনিস সেসব কাজে বিঘ্ন ঘটায়, তখন সেই জিনিসটা পরিহার করতে হয়। আর সেই নীতি মানতে গিয়েই আংটি পরা ছেড়ে দিয়েছি। আমি অবাক হয়ে বললাম, আপনি এমন কী কাজ করেন, আংটি পরলে যে কাজে বিঘ্ন ঘটে? বড়ভাই বললেন, প্রমোশনের জন্য লবিংটা মানে তেলবাজিটা একটু করতে হয়। হাতে আংটি থাকলে সমস্যা যেটা হয়, তেল মাখানো, সাবলীলভাবে হাত কচলানো— ইত্যাদি কাজ করতে ঝামেলা হয়। তাই আংটি পরা বাদ তো দিয়েছিই, ভাবছি আগামীতে আর ঘড়িও পরব না। কারণ, তেল লেগে ঘড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার ঘড়ি হাতে থাকলে সমস্যা যেটা হয়, কতক্ষণ তেল মারলাম, সেটা বার বার চোখের সামনে ভাসতে থাকে। কিন্তু আমি চাই নির্দিষ্ট সময় ধরে নয়, বরং আনলিমিটেড সময় ধরে তেল মারতে। অর্থাৎ ঘড়িও থাকবে না, সময়ের হিসাবও থাকবে না। ভালো না? ভালো তো। আমার এক বন্ধু বলল, ছাত্রজীবনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম জীবনে কোনো দিন লবিং করব না। যে কোনো কাজ একদম শতভাগ যোগ্যতা দিয়ে করব। কিন্তু এখন আর সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারলাম না। কারণ, এই সংসারজীবনে এসে আমাকে প্রচুর লবিং করতে হচ্ছে। আমি বললাম, সংসারজীবনে লবিং! কী রকম বল তো? বন্ধু বলল— আমার বিরুদ্ধে বউয়ের অভিযোগ, ঢোলের বাড়ির সঙ্গে আমার কাশির নাকি দৃশ্যত কোনো পার্থক্য নেই। তো এই ঢোল-মার্কা কাশি যেহেতু কদিন পরপরই আমার হয়, তাই সে আমাকে ফ্রিজের পানি খেতে দেবে না। কিন্তু এই গরমের দিকে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খেতে না পারলে কি কলিজা জুড়ায়? তাই তার কাছ থেকে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানির বোতল আদায় করতে হলে আমাকে লবিং করতে হয়। আমি জানতে চাইলাম, কী রকম লবিং? বন্ধুু বলল, এই লবিংটার মাধ্যম হচ্ছে আমার শ্বশুর। মানে যখন আমার কাশির দোহাই দিয়ে বউ আমাকে ফ্রিজের পানি দিতেই চায় না, তখন আমি শ্বশুরকে খবর দিয়ে নিয়ে আসি। কারণ, আমার দশ কাশির সমান শ্বশুরের এক কাশি। ব্যস, বউ যখন বাপের এই পাওয়ারফুল কাশি সহ্য করে ফেলে, তখন আমার কাশির চিন্তা ছেড়ে দিয়ে আমাকে ফ্রিজের পানি খাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেয়। লবিংয়ের এই যে প্রক্রিয়াটা, এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাকে কিছু মালপানি খরচ করতে হয়। আর সেটা জর্দার পেছনে। জর্দাটা শ্বশুরকে না খাওয়ালে তার কাশির জোশটা ঠিকমতো আসে না তো! কদিন আগে একটা বিশেষ কাজে গেলাম আমার এক প্রতিবেশীর কাছে। গিয়ে দেখি প্রতিবেশীর বাসার দরজার সামনে তার যে নেমপ্লেট ঝুলছে, সেখানে তার নামের আগে এটা কী লেখা? ভয়ে ভয়ে কলিংবেল চাপতেই ভদ্রলোক যখন বের হলেন, তখন বললাম, ভাই, আমি তো জানি আপনি ছোটখাটো একটা চাকরি করেন। তাহলে নামের আগে এটা কী লিখলেন? ভদ্রলোক বললেন, দেখেন ভাই, লবিং বলেন আর তেলবাজি বলেন, এটা কিন্তু একটা পেশা হিসেবেই নিয়েছি। নাম যাই হোক, পেশা তদবিরবাজ।


আপনার মন্তব্য