Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০১৯ ২১:২৬

তরুণ বিজ্ঞানী এম এ হান্নান

জাপানে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য

শনিবারের সকাল ডেস্ক

জাপানে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য

জাপানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভ্রুণ স্থানান্তরের মাধ্যমে ঘোড়ার বাচ্চা প্রসব করানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানী সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমল সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষা ছুটিরত সহকারী অধ্যাপক মিনহাজ এ হান্নান। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গরু ও মহিষের উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বাড়াতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে...

 

দেশে-বিদেশে বাংলাদেশি তরুণদের জয়জয়কার চলছে। খেলাধুলা, রাজনীতি কিংবা নাসার প্রতিযোগিতা প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলছে সমান তালে পৃথিবীর সঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করলেন তরুণ বাংলাদেশি বিজ্ঞানী এম এ হান্নান। তার নেতৃত্বে জাপানে প্রথমবারের মতো ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘোড়ার বাচ্চা প্রসব করানো হয়েছে। জাপানের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও এ সংক্রান্ত খবর ছাপা হয়েছে। তিন বছর ধরে ঘোড়ার প্রজনন নিয়ে গবেষণায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানী এম এ হান্নান।

বিজ্ঞানী এম এ হান্নান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যৌথ প্রোগ্রামে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পরে তিনি জাপানের ওসাকা প্রিফেকচার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এবং বাংলাদেশে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা ছুটিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক হিসেবে জাপানে কর্মরত আছেন। তার গবেষণায় ইউরোপীয় একটি ঘোড়ার শুক্রাণু দিয়ে জাপানি মাদি ঘোড়ার (ঘুড়ি) কৃত্রিম প্রজনন করানো হয়। সেখান থেকে ভ্রুণ সংগ্রহ করে অন্য একটি ঘুড়ির গর্ভে তা রাখা হয়। ১০ এপ্রিল ঘুড়িটি একটি সুস্থ বাচ্চা প্রসব করেছে। এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উন্নত জাতের গরু, মহিষ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জাপানের অবিহিরো ইউনিভার্সিটি অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াসুও নামবোর তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি সম্পন্ন করেছেন তরুণ বিজ্ঞনী এম এ হান্নান। গবেষণাটি ভবিষ্যতে গবাদি পশু উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নাল দ্য জার্নাল অব ভেটেরিনারি মেডিসিন সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে। তিন বছর ধরে এ প্রযুক্তির ওপর গবেষণা করার পর অবশেষে সাফল্য এসে ধরা দিল।

এবারই সফলভাবে প্রথম একটি ঘুড়ি সুস্থ বাচ্চা প্রসব করল। এর আগে গর্ভে থাকা অবস্থায় এক থেকে আড়াই মাসের মধ্যে বাচ্চা মারা যেত।  বিজ্ঞানী এম এ হান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভ্রুণ স্থানান্তরের মাধ্যমে জাপানে ঘোড়ার যে প্রজনন আমরা করেছি, তা বাংলাদেশে গরুর ক্ষেত্রে আমি করতে চাই। বাংলাদেশে উন্নত মানের গরুর সংকট আছে। এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উন্নত জাতের বেশি মাংস ও দুধ দিতে পারে, এমন গরুর উৎপাদন সম্ভব। আমি এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরে আসছি, বাংলাদেশ গরু ও মহিষের এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা যাবে।’ জাপানে ওই গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তিতে বাচ্চা উৎপাদনে বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে গবাদি পশু বছরে একটি করে বাছুর জন্ম দিতে পারবে। কিন্তু ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তিতে প্রতিবছর একই গবাদিপশুর অনেক বাছুর পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গরুর জাত উন্নত করা ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বড় ধরনের সাফল্য আনতে পারবে।


আপনার মন্তব্য