Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৪৮

বোয়ালমারীতে আলোকফাঁদ

মো. লিয়াকত হোসেন, বোয়ালমারী

বোয়ালমারীতে আলোকফাঁদ

নির্বিঘ্নে আমন আবাদের লক্ষ্যে বোয়ালমারী উপজেলায় আলোকফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার ৩৪টি ব্লকে কৃষকগণ আলোকফাঁদ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন। আলোকফাঁদ প্রযুক্তিটি হচ্ছে, রাতের বেলা ধানখেত হতে সামান্য দূরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। বাতির নিচে একটি বড় পাত্রে ডিটারজেন্ট বা কেরোসিন মেশানো পানি রাখা হয়। পোকামাকড় আলোয় আকৃষ্ট হয়ে বাতির কাছে আসে এবং পাত্রে রাখা পানিতে পড়ে মারা যায়। এভাবে আলোকফাঁদের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১২৪৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ধানে কাইচ থোড় আসবে। কাইচ থোড় আসার সময় থেকে ধানে বাদামি গাছ ফড়িং, সবুজ পাতা ফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। এদের মধ্যে বাদামি গাছ ফড়িং যা কৃষকের ভাষায় কারেন্ট পোকা নামে পরিচিত সবচেয়ে ক্ষতিকর। এ পোকা খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এমনকি পোকার আক্রমণ হলে এক রাতের মধ্যে সব ধানখেত আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যায়। এসব ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কৃষক বর্তমানে আলোকফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের কেষ্ট বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, রাখালতলি গ্রামের মিজানুর রহমান, জাহাঙ্গীর মোল্লা, মহিশালা গ্রামের সোবাহান শেখ বলেন, আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় চিনতে পারছি এবং সে অনুযায়ী খেতে ওষুধ দিচ্ছি। এতে ওষুধ খরচ কম হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা

কৃষিবিদ প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আমাদের দেশের কৃষক সাধারণত পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিশ্চিত না হয়েই বিভিন্ন বিষাক্ত কীটনাশক এলোপাতাড়িভাবে ব্যবহার করে থাকেন। এতে করে একদিকে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আলোকফাঁদ প্রযুক্তি ভালো বিকল্প হতে পারে। ফসল রক্ষায় ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে

কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক যদি এই পদ্ধতির ব্যবহার অব্যাহত রাখেন তবে ধানের উৎপাদন খরচ কমবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বাদামি গাছ ফড়িংয়ের বাচ্চা ও পূর্ণবয়ষ্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস চুষে খায়। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যায়। বাদামি গাছ ফড়িংয়ের তীব্র আক্রমণে গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে যায়, ফলে দূর থেকে পুড়ে যাওয়ার মতো বা বাজ পড়ার মতো দেখায়। এ ধরনের ক্ষতিকে ‘হপার বার্ন’ বলে।


আপনার মন্তব্য