শিরোনাম
শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ টা
দুই ছিনতাইকারীকে ধরিয়ে দিলেন পুলিশে

পারিশার সাহসিকতা

রাশেদ হোসাইন

পারিশার সাহসিকতা

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরপর দুই ছিনতাইকারীকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারিশা আক্তার। বর্তমান সমাজে যেখানে নারীদের সাহসিকতা নিয়ে এখনো নীচু চোখে দেখা হয়, সেখানে জবির এই শিক্ষার্থী সবার ভুল ভাঙিয়ে প্রমাণ করেছেন-নারীরাও প্রতিবাদ করতে পারে। একজন তরুণী শিক্ষার্থী কীভাবে দুজন ছিনতাইকারীকে কৌশলে ধরে ফেললেন সেটাই বর্তমানে আলোচিত বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, পারিশা প্রমাণ করে দিলেন বর্তমান সমাজে নারীদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তারাও সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনলাইন দুনিয়ায় পারিশা ছিনতাইকারীকে ধরার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সমাজের চোখ খুলে গেছে। সমাজ বুঝতে শুরু করেছে, নারীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে সক্ষম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সংগঠন পারিশার সাহসিকতার প্রশংসায় মুখর। তা ছাড়া তার অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য ‘ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়।

পারিশা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। জানা যায়, তিনি গত ২১ জুলাই সন্ধ্যার দিকে মিরপুর থেকে বাসে চড়ে পুরান ঢাকার সদরঘাট যাচ্ছিলেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় জ্যামে থাকা অবস্থায় তিনি জানালার পাশে ফোনে কথা বলছিলেন। এমন সময় ছোঁ মেরে তার ফোন নিয়ে যায়, এক ছিনতাইকারী। তিনি দ্রুত বাস থেকে নেমে তার পেছনে ধাওয়া করেন। কিন্তু ধরতে পারেন না। এরপর তিনি হতাশ হয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। এমন সময় আরেক ছিনতাইকারীকে আরেকজনের ফোন ছিনতাই করতে দেখেন। তিনি তার পেছনে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। তাকে মারধর করেন এবং তার থেকে ফোনটি নিয়ে নেন। কিন্তু তিনি তার নিজের ফোন কাছে পাননি। এই ছিনতাইকারীর মাধ্যমে কৌশলে তিনি আরেকজন ছিনতাইকারীকে ধরেন। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ নিয়ে আসেন এবং তাদের ধরিয়ে দেন। এই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে প্রশংসায় ভাসছেন পারিশা। কীভাবে তিনি এই সাহসিকতার কাজটি করলেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে মোবাইল ফোনে আমার গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন ছিল। ফোনটা আমার অনেক প্রয়োজন ছিল। ফোনে আমি মাস্টার্সের থিসিসের কাজ করেছিলাম। তাই আমি সাহসিকতার সঙ্গে ধরতে পেরেছি। পারিশা আক্তার বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অটো সাহস চলে আসে। মোবাইলে আমার থিসিসের সমস্ত তথ্য জমা ছিল। এ মোবাইল ছাড়া আমার থিসিস কখনোই সম্ভবপর হবে না। তাই মোবাইল আমার খুবই দরকার ছিল। সেই সময় এ কারণেই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিলাম। প্রথমদিকে অনেকে তাকিয়ে দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি, সবাই ভিডিওতে ব্যস্ত ছিল। কেউ কেউ এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছে শেষ দিকে। পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। আমার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরাও আমাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তারা আমার থিসিসের সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর