শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২৩:১৭

অনন্য মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অনন্য মাশরাফি

বিপিএলের এবারের প্রোমো কি হতে পারে? মার-মার, কাট-কাট না, ধীরলয়ের কোনো বিজ্ঞাপন। মারকাটারি কিংবা কচ্ছপ গতি; যাই হউক না কেন, বিপিএলের সবচেয়ে বড় ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ কিন্তু একজন! মাশরাফি বিন মর্তুজা। কুমার সাঙ্গাকারা, ক্রিস গেইল, সাকিব আল হাসানদের মতো বিশ্বখ্যাত তারকা ক্রিকেটার থাকতেও মাশরাফি কেন ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হবেন, নানা জনের প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু একটি মাঝারি মানের দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যেভাবে ফাইনালে টেনে তুলেছেন, তাতে ফুল মার্কস দিলেও বোধকরি কম হবে! তারকা ক্রিকেটার না থাকার পরও মাশরাফির কুশল দল পরিচালনায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস প্রথমবার খেলতে নেমেই পৌঁছে গেছে ফাইনালে। এখন শুধু বাজিমাতের অপেক্ষা। কিন্তু মাশরাফি দাঁড়িয়ে আছেন একটি বিরল রেকর্ডসের দ্বারপ্রান্তে। কুমিল্লাকে শিরোপা উপহার দিতে পারলে মাশরাফিই হবেন একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলের তিন তিনটি আসরের শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়বেন। পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে মাশরাফিই বিপিএলের এবারের আসরের সবচেয়ে বড় ‘বিজ্ঞাপন’ কোনো সন্দেহ নেই।

বিপিএলের প্রথম দুই আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি। তার অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা। এরপর ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমশি এবং ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকায় নিষিদ্ধ হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। শুধু গ্ল্যাডিয়েটর্সই নয়, বাতিল হয়ে পড়ে বিপিএলের প্রথম দুই আসরের সবগুলো দল। তৃতীয় আসরে নতুন দল হিসেবে আবির্ভাব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ প্রক্রিয়ায় কুমিল্লা লটারিতে পায় ‘আইকন’ ক্রিকেটার মাশরাফিকে। তখনই অন্য দলগুলো থেকে এক ধাপ এগিয়ে যায় কুমিল্লা। মাঠের পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। মাশরাফি ‘ফিল্ড মার্শাল’-এর ভূমিকায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বল হাতে ও ব্যাটিংয়ে। তার উপস্থিতি পুরো দলে এতটাই প্রাণের সঞ্চারণ ঘটে যে, ঢাকা ছাড়ার আগে ক্যারিবীয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল মন্ত্রমুগ্ধের মতো বলেছেন, ‘মাশরাফি অসাধারণ একজন অধিনায়ক। ড্রেসিং রুমে তার উপস্থিতি দলকে চাঙ্গা রাখে। ক্রিকেটারদের আলাদা চোখে দেখেন না। একজন অধিনায়কের সবচেয়ে বড় গুণ এটাই।’ শুধু রাসেল নন, দলের সবাই মুগ্ধ মাশরাফির নেতৃত্বে। দলের চেয়ারম্যান নাফিসা কামাল বিপিএল শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন, তার টার্গেট মাশরাফি। মাশরাফিকে পেলে দল অনেকদূর যাবে ভাবনাতেই হয়তো নাফিসা এমনটা বলেছিলেন। ব্যক্তি মাশরাফি, ক্রিকেটার মাশরাফি কিংবা অধিনায়ক মাশরাফিই এমন আত্মবিশ্বাস জুুগিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে।

ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার মাশরাফি যিনি ছয়-ছয়টি অপারেশনের পরও ক্রিকেট খেলছেন এবং তা দাপটের সঙ্গে। এতটাই দাপুটে ক্রিকেট খেলছেন যে, ক্রিকেট বোর্ড চোখ বন্ধ করে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দলের দায়িত্বভার তুলে দেয় তার হাতে। এরপর তো সব ইতিহাস। অধিনায়কত্বের কৌশলের মায়াজালে ইংল্যান্ডের মতো দলকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে প্রথমবার নিয়ে যান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। এছাড়াও গত ডিসেম্বর থেকে নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশকে এমন এক জায়গায় উন্নীত করেন, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে পেছনে ফেলে নিশ্চিত করেছেন ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন; যাকে বলা হয় সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমদের কারিগর। সালাউদ্দিন এক সময় সহকারী কোচ ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। তিনি দেখেছেন সাকিব ও মুশফিকের দল পরিচালনা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কোচ হয়ে এখন দেখছেন মাশরাফিকে। অধিনায়ক মাশরাফি অনেক বড় ‘ট্যাকটিশিয়ান’ বললেন সালাউদ্দিন, ‘একজন অধিনায়কের ভালো যে গুণগুলো থাকা দরকার, তার সবগুলোই রয়েছে মাশরাফির। দলের সবাই তার কাছে সমান। কাউকে ছোট কিংবা বড় ভাবেন না। সারাক্ষণ চাঙ্গা রাখেন ক্রিকেটারদের। একজন অধিনায়কের অনেক বড় গুণ এটা। মাঠের বাইরে মাশরাফিকে যতটা বন্ধুবত্সল মনে হয়, মাঠের ভিতরে একেবারে বিপরীত। মাঠে নামলে হারার কথা ভাবেন না। সব সময়ই ইতিবাচক চিন্তা করেন। জয়ের কথা ভাবেন। প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের খুব ভালো রিড করতেও পারেন মাশরাফি।’ মাশরাফি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অসাধারণ একজন দলনেতা। যার পরশ পাথরে টাইগাররা দিন দিন শরীর থেকে কার্বন ঝেড়ে সোনায় পরিণত হচ্ছেন। মাশরাফির পরশ পাথরের ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কুমিল্লাও। মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই হয়তো তার নেতৃত্বে ইতিহাস লিখবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।


আপনার মন্তব্য