মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা

টাইগারদের ব্যস্ততার বছর

২০১৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের বছর ছিল ২০১৫ সাল। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার পরও টাইগাররা ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট শক্তিতে সিরিজে হারিয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশ্বে সমীহ জাগানিয়া এক দলে পরিণত হলেও আইসিসির এফটিপি-তে (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) পরের বছরই ছিল সবচেয়ে অবহেলিত দল। অনেক দিন কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। আর অনেক দিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললে বিশ্বের সেরা দলের পক্ষেও ভালো খেলা কঠিন। তার একটা বড় প্রভাবই পড়েছে নিউজিল্যান্ড সফরে। তবে ২০১৭ সালে ব্যস্ত সময় কাটবে টাইগারদের। বছর জুড়েই থাকছে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

নিউজিল্যান্ড সফর

বাংলাদেশ দল এখন নিউজিল্যান্ডে। এই সফর দিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বছর। যদিও নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে সিরিজটি ২০১৭-এর মধ্যে পড়ছে না। তবে বাংলাদেশ নতুন বছর শুরু করবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আজকের টি-২০ ম্যাচটি দিয়ে। এই সফরে আরও দুটি টি-২০ এবং দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ৬ ও ৮ জানুয়ারি মাউন্ট মাউনগানুইতে হবে বাকি দুটি টি-২০। ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১২ জানুয়ারি। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ও সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচ ২০ জানুয়ারি থেকে।

প্রতীক্ষিত ভারত সফর

এই সফর অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কেন ৮ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে মাত্র একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। টাইগাররা ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পরও সে বছরের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এক টেস্ট খেলেছিল। তারপর ১৬ বছর ফিরতি টেস্ট খেলতে ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা সফর

শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শুধু লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের দেওয়া প্রস্তাব লুফে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে সম্ভবত মার্চেই হবে সিরিজটি। তবে এই সফরটি আইসিসির এফটিপি-তে ছিল না। দুই বোর্ডের সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরে তিন ওয়ানডে, দুটি টি-২০ ও দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। তবে ভারতের বিরুদ্ধে হায়দরাদে টেস্ট খেলার পর সোজা শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা টাইগারদের।

ত্রিদেশীয় সিরিজ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডে একটি ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ইউরোপের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা সফর করে দেশে ফেরার পরও বাংলাদেশ চলে যাবে আয়ারল্যান্ডে। বাংলাদেশ, স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়া এই ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় দলটি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড। এই সিরিজে ৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তবে যদি ফাইনালে ওঠে। কেননা সিরিজে প্রতিটি দল অন্য দলের সঙ্গে দুটি করে ম্যাচ খেলবে। তারপর শীর্ষ দুই পয়েন্টধারী দল ফাইনাল খেলবে। ১২ মে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের         প্রথম ম্যাচ। ১৭ মে দ্বিতীয় ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ১৯ মে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো আবার মাঠে নামবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আর নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৪ মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

আইসিসির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু হবে ১ জুন। বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে চলে যাবে ইংল্যান্ডে। ১ জুন আইসিসির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ৫ জুন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামবে ৯ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

তা ছাড়া এই বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে স্থগিত হওয়া সিরিজটি খেলতে বাংলাদেশে আসবে অসিরা। নিরাপত্তা নিয়েও আর সমস্যা থাকার কথা নয়। কেননা ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল যখন বাংলাদেশ সফর করছিল তখন অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা দল বাংলাদেশে এসেছিল। তা ছাড়া ইংলিশ ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ সফরের পর যেভাবে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশংসা করেছে তাতে অস্ট্রেলিয়ার না আসার কোনো কারণ থাকতে পারে না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সর্বশেষ খবর