শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৫৪

বাফুফের ষড়যন্ত্রের শিকার শেখ জামাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাফুফের ষড়যন্ত্রের শিকার শেখ জামাল
টিভি রিপ্লেতেই প্রমাণ মিলছে বল টাচ লাইন ক্রস করার পর আবাহনীর ফুটবলার বাদশা তা ঠেকাচ্ছেন

এক পেশাদার লিগ ছাড়া চোখে পড়ার মতো কর্মসূচি নেই বাফুফের। কিন্তু এই লিগ যেভাবে হচ্ছে তাতে ফুটবলের বরং আরও বারোটা বেজে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়া হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি, বাংলাদেশের ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে ক্লাবগুলোই। সালাম মুর্শেদী নিজেও স্বীকার করেছেন এ কথা। কিন্তু এখানেও স্বজনপ্রীতি ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।

ফুটবলে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত বছর শেখ রাসেল রেফারির পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে অনেক মূল্যবান পয়েন্ট নষ্ট করেছে। রেফারির ভূমিকা দেখে মনে হয়েছে বাফুফে সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছে শেখ রাসেলকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেবে না। এবারও সেই দশা। ৯ অক্টোবর ছিল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব-ঢাকা আবাহনীর হাইভোল্টেজ ম্যাচ। শিরোপার জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অনেক। যারা জিতবে তারাই টেবিলে সুবিধাজনক স্থানে থাকবে। ম্যাচে কেউ জেতেনি। ১-১ গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়। প্রশ্ন উঠেছে, প্রকৃতপক্ষে ম্যাচটি কি ড্র ছিল? সেদিন যারা গ্যালারিতে ছিলেন তারা দেখেছেন কীভাবে শেখ জামালকে জয় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

কোনো বিতর্ক নয়। টিভির রিপ্লেতেই এই সত্য বের হয়ে এসেছে। সেদিনের ম্যাচটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছিল না। সুযোগ পেয়েও কেউ গোল করতে পারছিল না। ৫৭ মিনিটে নাবীব নেওয়াজ জীবনের গোলে আবাহনী এগিয়ে যায়। যদিও গ্যালারি থেকে মনে হয়েছে গোলটি ছিল অফ সাইডে। যাক, এ নিয়ে মাঠে তাত্ক্ষণিকভাবে শেখ জামালের কেউ প্রতিবাদ করেনি। করলেও নিশ্চয়ই গোল বাতিল করতেন না রেফারি আজাদ রহমান। ইনজুরি টাইমে জাহিদ পারভেজ গোল করলে ম্যাচটি ড্র করে শেখ জামাল। অথচ ৮৪ মিনিটেই শেখ জামাল গোল পেয়ে যায়। এ সময় রাফায়েলের শর্ট আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেল ফেরানোর পর সামনে দাঁড়ানো সলোমন কিং পোস্টে শর্ট নেন। তা গোল লাইন থেকে সেভ করেন আবাহনীর বাদশা। গ্যালারি থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল বাদশা সেভ করার আগে বল গোল লাইন ক্রস করে। বল ড্রপ খেয়ে আরও ভিতরে ঢুকছিল সেই সময় রক্ষা করেন বাদশা। নিশ্চিত গোল অথচ রেফারির বাঁশি বাজল না। একে তো অফ সাইড গোলে পিছিয়ে পড়া। তারপর আবার নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় শেখ জামাল চুপ থাকে কীভাবে? ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে শেখ জামাল সেদিন মাঠে হৈচৈ করেনি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলন ডেকে এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অভিজ্ঞ সংগঠক মনজুর কাদের। সম্মেলনকক্ষে রাখা হয়েছিল জায়ান্ট স্কিনের টিভি। কাদের বললেন, ‘আমি কিছুই বলব না, আপনারা টিভির রিপ্লে দেখে বিচার করুন কীভাবে আমাদের জয় কেড়ে নেওয়া হলো।’ সত্যি বলতে কি টিভির রিপ্লেতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জীবনের অফ সাইডে গোল ও গোল লাইন অতিক্রম করার পর বাদশার সেভ। কাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলো রেফারির বিতর্কিত ভূমিকায় আপনারা বাফুফে বা লিগ কমিটির কাছে কোনো প্রতিবাদ করেছেন কিনা? কথাটি শুনে কাদের কিছুটা উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। বললেন অবশ্যই আমরা প্রতিবাদ করব। কিন্তু রক্ষক যদি ভক্ষকের দায়িত্ব পালন করে বিচার কি পাওয়া যায়? তিনি বললেন, ‘এখানে বেচারা রেফারির দোষ দেব কী। তাকে তো আগেই ব্রিফ দেওয়া হয়েছিল কীভাবে বাঁশি বাজাতে হবে। ইনজুরি টাইমে পারভেজ গোল দিয়েছে। ইনজুরি টাইম কেন খেলানো হলো এজন্য রেফারি হয়তো তোপের মধ্যেও পড়েছিলেন। এমন বাঁশি বাজানো মানেই সালাউদ্দিন-সালাম গংরা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে দেবে না। সোজা কথা বলব, শেখ জামালকে নিয়ে বাফুফের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঞা। তিনি বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। টিভির রিপ্লে তো আর মিথ্যা হতে পারে না।’ শেখ জামাল ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‘বাফুফে আসলে ফুটবলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ ক্লাব পরিচালক মো. ইকবাল খোকন বলেন, ‘খেলায় হারজিৎ থাকবেই। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে কাউকে রুখে দেবে তা কি মানা যায়?’

কাদের বলেন, ‘আমরা ডিসিপ্লিনে বিশ্বাসী। তাই সেদিন কোচ আফুসির বদমেজাজি আচরণ আমরা মেনে নিইনি। ভবিষ্যতে যেন না ঘটে ক্লাব তাকে সতর্ক করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ শেখ জামালকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান ক্লাবের সভাপতি। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কারণে তারা এগিয়ে এসেছেন। এই নোংরামি চললে ফুটবলে কেউ কি এগিয়ে আসতে চাইবেন? প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর ক্লাবগুলো বসবে। তখনই আমরা চূড়ান্ত করব এই কমিটির অধীনে আমরা খেলব কিনা।’ অনুষ্ঠানে ক্লাব পরিচালক আবদুল্লাহ আল জহির স্বপন, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ জামালের সভাপতি সাফওয়ান সোবহানের একান্ত সচিব মো. ফয়েজুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য