Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪০

ভয়কে জয় করলেন ইমরুল মাহমুদুল্লাহ

ভয়কে জয় করলেন ইমরুল মাহমুদুল্লাহ
এশিয়া কাপে নিজেকে চেনাতে পারছিলেন না মাহমুদুল্লাহ। অবশেষে কাল সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠলেন তিনি। হাফ সেঞ্চুরি করে সাজঘরে ফিরে যান এই তারকা —এএফপি

টিম ম্যানেজমেন্টের খেয়ালি সিদ্ধান্তে সুযোগ পান দলে। হঠাৎ সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণের তাগিদ থেকেই জ্বলে উঠলেন ইমরুল কায়েশ। শুধু কি তাই, দলের প্রয়োজনে বহুবার জ্বলে উঠা ও বহু ম্যাচ জেতানোর নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও মেলে ধরেন নিজেকে। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আবুধাবির প্রচণ্ড গরমকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে এবং আফগান স্পিনারদের ভয়কে দূর করে অসাধারণ ব্যাটিং করে স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রাখেন। রশীদ খান ও মুজিব-উর-রহমানের দুর্ভেদ্য স্পিনকে সাধারণমানে নামিয়ে গড়েন রেকর্ড জুটি। একই সঙ্গে লিখে নেন নিজেদের নামের পাশে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস।     

অভিষেক ১০ বছর আগে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ব্যাটিং করেছিলেন ওয়ান ডাউনে। এরপর থেকে নিয়মিত ওপেন করেছেন। ৭১ ম্যাচে সব মিলিয়ে ৯ বার ওয়ান ডাউনে খেলেছেন ইমরুল। কিন্তু ওই পজিশনে ব্যাট করতে আগ্রহী ছিলেন না কখনোই। এবারও সুযোগ ছিল না রঙিন পোশাকে খেলার। সুযোগ পেয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের অদ্ভুত খেয়ালে। পরশু রাতে সৌম্য সরকারকে সঙ্গী করে উড়ে আসেন দুবাই। রঙিন শহর দুবাইয়ে পা রাখেন দুই ওপেনারের ব্যর্থতায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে গতকাল টিম ম্যানেজমেন্ট যে একাদশ সাজিয়েছেন, সেটা হাস্যেরসের সৃষ্টি করেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। যে ওপেনারদের নিয়ে এত শোরগোল, তাদের রেখেই সাজানো হয় একাদশ। সেখানে জায়গাও হয় ইমরুলের। কিন্তু ওপেনার কিংবা ওয়ান ডাউনে নয়, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। যা তার ক্যারিয়ারে আর কখনোই হয়নি। কেন খেলানো হলো ৬ নম্বর পজিশনে? সেটা আবার দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের আগে। একাই ইমরুলের অর্ডার পরিবর্তন করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট, ওয়ান ডাউন থেকে পাঁচে নামিয়ে আনেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকেও। দুই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যানকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করানো হয় বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার রশীদ খানকে সামাল দিতে। সাকিব ব্যর্থ হলেও শতভাগ সফল ইমরুল। ক্রিজে তিনি যখন আসেন, তার আগে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাজঘরে ফিরেন অহেতুক রান আউট হয়ে। স্কোর তখন ৮৪ রানে ৪ উইকেট। এরপর ক্রিজে এসে থিঁতু গাড়ার আগেই বিদায় নেন দেশসেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে দুই  দেশসেরা ক্রিকেটারের বিদায়ে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়ে টাইগার শিবির। সেখান থেকে রাতের ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ইমরুল। ষষ্ঠ উইকেটে জুটি হিসেবে পান ব্যাটিং শিল্পী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে।

মুশফিক ছাড়া টাইগার শিবিরে একমাত্র ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আগের তিন ম্যাচে সৃজনশীল ব্যাটসম্যানের  ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ১, ২৭ ও ২৫ রানের ইনিংস। এমন একজন অভিজ্ঞ সঙ্গীর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে  টেনে নিয়ে যান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। রশীদের লেগ স্পিন ও গুগলী এবং মুজিবের ফ্লিপার ও ক্যারম বলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুজনে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১২৮ রান। ১৫৩ বলের জুটিটি ষষ্ঠ উইকেটে যে কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা। আগের রেকর্ড ১৯৯৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ১২৩ রানের, করেছিলেন আল শাহরিয়ার রোকন ও খালেদ মাসুদ পাইলট। যদিও এই উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গ্রাহাম এলিয়ট ও লুক রঞ্চির, ২৬৭ রান। এশিয়া কাপে অবশ্য ষষ্ঠ উইকেট জুটির রেকর্ড দুই আফগান ব্যাটসম্যান আসগার আফগান ও সামিউল্লাহ সেনওয়ারীর, ১৬৪ রান বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১৪ সালে এশিয়া কাপে।

গত অক্টোবরে সর্বশেষ ম্যাচ খেলা ইমরুল সাজঘরে ফিরেন ৭২ রানে অপরাজিত থেকে। ৮৬ বলের ইনিংসটিতে কোনো ওভার বাউন্ডারি না থাকলেও ছিল ৬টি বাউন্ডারি। তার ও মাহমুদুল্লাহর গড়ে দেওয়া ভিতে বাংলাদেশ শেষ ১০ ওভারে যোগ করে ৭৭ রান। শেষ ৫ ওভারে ইমরুল আগ্রাসী ব্যাটিং করলে স্কোর বোর্ডে যোগ হয় ৪২ রান। ৭১ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ইমরুলের এটা ১৫ নম্বর হাফসেঞ্চুরি। গরমকে জয় করে ইমরুল যেমন দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। তেমনি রশীদ, মুজিবের সব ভয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নান্দনিক ব্যাটিং করেন মাহমুদুল্লাহ। ১৬০ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০ নম্বর পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসটি ছিল ৮১ বলে। ৭৪ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংসটিতে তিনটি চার ছাড়াও ছক্কা ছিল দুটি। দুটিই ছিল রশীদের টানা দুই ওভারে। মাহমুুদুল্লাহ ও ইমরুলের দৃঢ়তায় রশীদ গতকাল ১০ ওভারে রান দেন ৪৬। আগের ম্যাচে তার স্পেল ৯-৩-১৩-২। ইমরুল ও সৌম্যকে উড়িয়ে আনার কারণ দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তের ব্যর্থতা। অদ্ভূত একাদশ সাজানোয় দুই ওপেনারকে রেখে দেওয়ায় সৃষ্টি হয় হাসি তামাশার। আগের ম্যাচ দুটির মতো এবারও ব্যর্থ নাজমুল। চাপ সামলে খেলতে ব্যর্থ বাঁ হাতি ওপেনার সাজঘরে ফিরেন ৬ রানে। তবে সব চাপ সামাল দিয়ে রান করেছেন লিটন । ৪৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে রান করেন ৪১। ফাইনালের স্বপ্ন দেখা মাশরাফি বাহিনী শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর আবুধাবির ধীরলয়ের উইকেটে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালে খেলার স্বপ্নও বাঁচিয়ে  রেখেছেন একইসঙ্গে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২৪৯/৭ (৫০ ওভার) আফগানিস্তান : ২৪৬/৭ (৫০ ওভার)

পাকিস্তান : ২৩৭/৭ (৫০ ওভার)           ভারত : ২৩৮/১ (৩৯.৩ ওভার)


আপনার মন্তব্য