Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫১

অপেক্ষার অবসান মাহমুদুল্লাহর

আসিফ ইকবাল

অপেক্ষার অবসান মাহমুদুল্লাহর

এক-দুদিনের অপেক্ষা নয়, আবার ৫-১০ টেস্টেরও নয়। সময়ের হিসেবে ৮ বছর ৯ মাস! টেস্টের সংখ্যাটা ৩৫। এই দীর্ঘ সময় ও লম্বা বিরতির অবসান সব সময় যে মধুর হয়, তেমন নয়। ধ্রুপদী ব্যাটসম্যান ও ব্যাটিং শিল্পী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপেক্ষার অবসান কিন্তু মধুরই হয়েছে। শুধু কি তাই, টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক তিন অংকের জাদুকরি ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে নাম লিখে নিয়েছেন সোনালি কালিতে। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল শীতের বিকালে ১০১ রানের হার না মানা যে ইনিংসটি খেলেছেন মাহমুদুল্লাহ, সেটা ছিল সমালোচকদের শত প্রশ্নের মধুর উত্তর। একই সঙ্গে ক্যারিয়ার বাঁচানোও!

টেস্ট অভিষেক ৯ বছর আগে অনিন্দ্য সুন্দর ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্ত মাটিতে। তবে শক্ত পোক্ত ছিল না অভিষেকটা। তারপরও টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছেন তার উপর। মাহমুদুল্লাহ প্রতিদানও দিয়েছেন ক্যারিয়ারের পাঁচ নম্বর টেস্টে তিন অংকের জাদুকরি ইনিংস খেলে। সেঞ্চুরিটি আবার যে সে উইকেটে ছিল না, নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনের সবুজ ঘাসের উইকেটে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১১৫ রানের লড়াকু ইনিংসটি অমিত প্রতিভাবান এক ব্যাটসম্যানের আগমনী বার্তা জানিয়েছিল। ১০৫ মাস আগের সেই বার্তা অবশ্য এক সময় পথ হারিয়ে ফেলে নানামুখি চাপে। যদিও মাহমুদুল্লাহ এই সময়ের পথ চলায় আরও অনেক জমকালো ইনিংস খেলেছেন। সেসব ওয়ানডে ক্রিকেটে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে ব্রাত্যই হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথম ও একমাত্র টাইগার ক্রিকেটার হিসেবে টানা দুই সেঞ্চুরি করে সমৃদ্ধ করেছেন ক্রিকেট ইতিহাস।

মাহমুদুল্লাহ যখন লম্বা ইনিংস খেলেন, তখনই সেটা হয়ে যায় কোনো চিত্রকর্ম! ব্যাটকে তুলি বানিয়ে ২২ গজের উইকেটের চারিদিকে বাহারি সব স্ট্রোকের ঝলকানিতে নতুন নতুন শিল্পকর্ম রচনা করেন। গতকাল মিরপুরে যখন ব্যাটিংয়ে নামেন ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ, তখন স্কোর বোর্ডে লেখা ২৫ রানে ৪ উইকেট নেই। এমন বিধ্বংসী অবস্থাকে মেরামত করতে যে ধৈর্য, আস্থা ও সাহসিকতার প্রয়োজন হয়, ৩৩ বছর বয়স্ক মাহমুদুল্লাহ অসীম সাহসিকতায় সামাল দেন কাইলি জার্ভিস, চাতাদের গতি ও সুইংকে। মো. মিথুনকে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১১৮ রান। সপ্তম উইকেট জুটিতে তরুণ মেহেদী হাসান  মিরাজকে নিয়ে লেখেন ৭৩ রানের জুটি। দুই দুটি জুটিতেই শতভাগ অবদান মাহমুদুল্লাহর। প্রতিপক্ষের ধারালো বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলে তুলে নেন ৪১ টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

১০১ রানের হার না মানা ইনিংসটি তিনি খেলেন ১২২ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায়। প্রথম সেঞ্চুরির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে দ্বিতীয়টি পেতে মাহমুদুল্লাহকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৫ টেস্ট, ৮ বছর ৯ মাস। যা বাংলাদেশের ১৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল সবচেয়ে কম বয়সী টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে অভিষেকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকানো আশরাফুল দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন ৩ বছর ৩ মাস পর, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে। এর মাঝে খেলেছিলেন ২২ টেস্ট। বর্তমান টেস্ট ক্রিকেটারদের মধ্যে ইমরুল কায়েসের সর্বশেষ সেঞ্চুরির ব্যবধান ১৬ টেস্ট। দুই টেস্ট সেঞ্চুরির দীর্ঘতম অপেক্ষার ব্যবধান আবার নিউজিল্যান্ডের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম প্যারোরের। ৭৮ টেস্ট ক্যারিয়ারে ব্ল্যাক ক্যাপস ক্রিকেটার সেঞ্চুরি করেছেন সাকল্যে দুটি। দুই সেঞ্চুরির ব্যবধান ছিল ৫৭ টেস্ট।

প্রথমটির পর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেতে অপেক্ষায় ছিলেন ৮ বছর ৯ মাস। তাই লেগ স্পিনার মাভুতাকে কাভারে ঠেলে প্রয়োজনীয় ২ রান নেওয়ার আগেই শূন্যে যেভাবে লাফিয়ে উঠেন, তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, কত দীর্ঘ রজনী পার করেছেন এই মুহূর্তটির! তাই সেঞ্চুরি শেষে বলেই ফেললেন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে, ‘আমার সব সেঞ্চুরি বিদেশের মাটিতে। দেশের মাঠে সেঞ্চুরি করতে চাই। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’


আপনার মন্তব্য