শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০০

ভিলিয়ার্সের অভিষেকের দিনে নায়ক রুশো

আসিফ ইকবাল, সিলেট থেকে

ভিলিয়ার্সের অভিষেকের দিনে নায়ক রুশো
প্রথম ম্যাচ বলেই দৃষ্টি ছিল ডি ভিলিয়ার্সের দিকে। বিপিএলে অভিষেক হলো এই গ্রেট ক্রিকেটারের। তবু সব আলো কেড়ে নিলেন রুশো। অনবদ্য ব্যাটিংয়ে আবারও চলতি আসরে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। জয়ে ফিরে রংপুর রাইডার্স -রোহেত রাজীব

জাদুকরী কোনো ব্যাটিং করেননি। ছিল না চোখ ধাঁধানো স্ট্রোকের ফুলঝুরি। তারপরও ২১ বলের উপস্থিতিতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনিই মাঠের রাজা। এবি ডি ভিলিয়ার্স; বিপিএলে প্রথম খেললেন গতকাল। খেলেছেন ৩৪ রানের ছোট্ট একটি ইনিংস। অথচ ওই ইনিংসই বদলে দিয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। পাল্টে দিয়েছে ম্যাচের চিত্র। উদ্দীপ্ত করেছে ক্রিকেটারদের। উপহার দিয়েছে রংপুর রাইডার্সকে ৪ উইকেটের অবিশ^াস্য এক জয়। ম্যাচটি ডি ভিলিয়ার্সের। কিন্তু ম্যাচ সেরা তারই স্বদেশি রিলি রুশো। 

লাক্কাতুরা চা বাগান আর পাহাড়ঘেরা সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম। অপরূপ সৌন্দর্যের স্টেডিয়ামে গতকাল শীতের বিকালে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স ও সিলেট সিক্সার্স। অনেক সমীকরণ মারপ্যাচ ছিল দুই দলের লড়াইয়ে। নক আউট পর্বে খেলার সমীকরণের ম্যাচে ‘জয়’ দরকার ছিল দুই দলের। হেভিওয়েট লড়াইয়ের আড়ালে ছিল তারকাদের লড়াই। ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্সের তারকা খ্যাতির সঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নারের দ্বৈরথ। মাশরাফি, শফিউলের সঙ্গেও ছিল তাসকিনের বোলিং যুদ্ধ। ক্রিস গেইল, সাব্বির রহমানের রানে ফেরার লড়াইটাও ছিল। এত-এত সমীকরণের ম্যাচটি মন ভরিয়ে দিয়েছে ১৫ হাজার দর্শকের। ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন বাহারি সব চার-ছক্কা। দেখেছেন রিভার্স সুইং, বাউন্সার, ইয়র্কার। মনভরে উপভোগ করেছেন সাব্বিরের নয়নাভিরাম ৮৫ রানের ইনিংস। দেখেছেন রিলি রুশোর ম্যাচ জেতানো ৬১ রানের ইনিংসও। বিস্মিত করেছে পাহাড়সম চাপের মুখে ফরহাদ রেজার ৬ বলে ১৮ রানের ¯œায়ুক্ষয়ী ইনিংস। গেইলের টানা ব্যর্থতা, সাব্বিরের আসর সেরা ব্যাটিং, তাসকিন আহমেদের দুরন্ত বোলিং কিংবা রুশোর প্রত্যয়ী ব্যাটিং- সবকিছুতে আড়াল করেছে ডি ভিলিয়ার্সের ৩৪ রানের ছোট্ট ইনিংসটি। ২১ বলের ইনিংসটিতে ছিল ২ চার ও ২ ছক্কা। কিন্তু ছোট্ট ইনিংসটির ‘মানুষ’ ডি ভিলিয়ার্স পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছেন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা রংপুর রাইডার্সকে। প্রোটিয়াস ক্রিকেটারের উপস্থিতিতে উদ্দীপ্ত হয়েছেন মাশরাফি, মিথুন, ফরহাদরা। সিলেটের ছুড়ে দেওয়া ১৯৫ রানের টার্গেটকেও তাই কঠিন মনে হয়নি। ম্যাচ শেষে মিডিয়ার মুখোমুখিতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ রুশোর সহজ সরলভাবেই স্বীকার করেছেন ডি ভিলিয়ার্সের উপস্থিতি পাল্টে দিয়েছে গোটা দলকে, ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স বিশ^মানের ক্রিকেটার। তার সঙ্গে খেলতে পেরে নিকে ভাগ্যবান মনে করছি। এটা সত্যি, তার উপস্থিতিই গোটা দলকে পাল্টে দিয়েছে। উদ্দীপ্ত করেছে।’ গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুরে এবারও তারকার অভাব নেই। খেলছেন গেইল, আলেক্স হেলস, রবি বোপারা, রুশোর মতো বিশ^খ্যাত ক্রিকেটার। এদের নিয়ে টানা শিরোপা জয়ের টার্গেটে বিপিএলের ছয় নম্বর আসর খেলছে মাশরাফির রংপুর। অথচ আসর শুরু করেছিল হার দিয়ে। পরের দুই ম্যাচ জিতে ট্রাকে ফিরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু চার নম্বর ম্যাচ থেকে পথচ্যুত হয়ে পড়েন মাশরাফিরা। চতুর্থ ম্যাচ থেকে ‘জয়’ শব্দটি অধরা হয়ে পড়ে রংপুরের কাছে। টানা তিন ম্যাচ হেরে নক আউট পর্বে খেলার স্বপ্ন কঠিন হয়ে পড়ে দলটির। তখনই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জাদুর কাঠি নিয়ে উড়ে আসেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরিম্যানের জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় পাল্টে যায় রংপুরের চেহারা। হারের বৃত্ত ভেঙে বিপিএলে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ে। ৭২ ঘণ্টা আগে স্বাগতিক সিলেটের কাছে ওপরের সারির ব্যাটসমানদের ব্যর্থতায় হেরেছিল মাশরাফিরা। গতকালের ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল প্রতিশোধের ম্যাচে। এমন সমীকরণের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান করে সিলেট। রংপুরের জয়ের আগে আসরে এটাই ছিল দলগত সর্বোচ্চ স্কোর। সিলেটের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সাব্বির বিচ্ছিন্ন হন ১৫ রানে। দলীয় ৫২ রানে সাজঘরে ফেরেন আফিফ হোসেন। এরপর অধিনায়ক ওয়ার্নারের সঙ্গে জুটি বেঁধে সাব্বির যোগ করেন ৪০ বলে ৫১ রান। বিপিএলে শেষ ম্যাচ খেললেন ওয়ার্নার। প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে মন জয় করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। কাল শেষ ম্যাচে খেলেছেন ২১ বলে ১৯ রানের ইনিংস। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করেছেন সাব্বির ও পুরান। দুজনে ৩৯ বলে যোগ করেছেন ৮২ রান। দলীয় ১৯.১ ওভারে শফিউলের বলে রুশোর তালুবন্দী হওয়ার আগে সাব্বির খেলেন চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে সাব্বির থেমে যান ৮৫ রানে। ৫১ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৬টি ছক্কা ও ৫টি চার। পুরান ছিলেন টর্নেডো মেজাজে। ৪৭ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন ক্যারিবীয় ব্যাটসমান মাত্র ২৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায়। টার্গেট ১৯৫ রান। এবার সর্বোচ্চ ১৮৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে চিটাগং ভাইকিংসের। ওভারপ্রতি প্রায় ১০ রানের টার্গেট ছোট্ট ডিঙিতে উত্তাল আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার নামান্তর। সেই কাজটিই করেছে রংপুর রুশোর ৬১, ডি ভিলিয়ার্সের ৩৪, হেলসের ৩৩ ও ফরহাদের অপরাজিত ১৮ রানে ভর করে। আকাশসম টার্গেটে খেলতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন ফর্মে ফিরতে মরিয়া গেইল। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ রান যোগ করেন হেলস ও রুশো। তিন তিনবার জীবন পেয়ে দলকে তৃতীয় জয় উপহার দিতে রুশো খেলেন ৩৫ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংস। ডি ভিলিয়ার্স ৩৪ রান করেন মাত্র ২১ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায়। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ২৪ রান। ১৯ নম্বর ওভারে ১৯ রান নিয়ে জয় সহজ করে ফেলেন ফরহাদ ও মাশরাফি। হারলেও অসাধারণ বোলিং করে ৪২ রানের খরচে ৪ উইকেট নেন তাসকিন। আসরে তার উইকেট ১৪টি।


আপনার মন্তব্য