শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৫

নিজেকে ফিরে পাওয়া তাসকিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিজেকে ফিরে পাওয়া তাসকিন

দীর্ঘকায় পেসারদের তালিকায় সবার উপরের দিকেই থাকবেন কোর্টনি ওয়ালশ। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উঁচু ওয়ালশ বল হাতে যতটা ভয়ঙ্কর ছিলেন, খেলার বাইরে ঠিক ততটাই নির্বিরোধী ও শান্ত চরিত্রের। ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার খেলা ছেড়েছেন বহুদিন আগে। প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচশ’র বেশি উইকেট নেওয়া ওয়ালশ এখন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। তার বোলিং শিষ্য মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামরা। ক্যারিবীয় লিজেন্ডের ছায়ায় ঘষে মেজে নিজেদের শানিত করে তুলছেন তরুণ তাসকিন, মুস্তাফিজ, শফিউলরা। সঙ্গীরা যেখানে শুধু ওয়ালশের সান্নিধ্য পাচ্ছেন, সেখানে সঙ্গীদের তুলনায় একটু বেশিই ভাগ্যবান তাসকিন। ডান হাতি ফাস্ট বোলার ওয়ালশের বাইরে   ‘ওস্তাদ’ হিসেবে পেয়েছেন আরেক বিশ্বসেরা ফাস্ট বোলার ও ‘রিভার্স সুইং’ মাস্টার ওয়াকার ইউনুসকে। ওয়ালশ টাইগারদের বোলিং কোচ। পাকিস্তানি লিজেন্ডারি ফাস্ট বোলার ওয়াকার হেড কোচ সিলেট সিক্সার্সের। বিপিএলে তাসকিন খেলছেন সিলেটে। দুই লিজেন্ডারি ফাস্ট বোলারের ক্ষুরধার কোচিংয়ে নিজেকে আমূল পাল্টে ফেলেছেন তাসকিন। গতি, বাউন্স ও সুইংয়ের মিশেলে দুর্দান্ত বোলিং করছেন ২৩ বছর বয়স্ক তাসকিন। ৭ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

অভিষেকেই আলো ছড়ানো তাসকিন গতির ঝড় তুলে লন্ডভন্ড করেছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। দুরন্ত বোলিং করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ পেস কান্ডারী হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ৫ টেস্ট, ৩২ ওয়ানডে ও ১৯ টি-২০ খেলা তাসকিন। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে তার বোলিং অ্যাকশন রিপোর্টেড হওয়ার পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেন ডান হাতি পেসার। ছিটকে পড়েন জাতীয় দল থেকে। গত এক বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা তাসকিন টাইগারদের পক্ষে সর্বশেষ টি-২০ ম্যাচ খেলেন গত মার্চে কলম্বোয় নিদাহাস টুর্নামেন্টে। টেস্ট খেলেন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এবং শেষ ওয়ানডে খেলেন ওই সফরেই। জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়লেও  নিজেকে ফিরে পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাসকিন। বিপিএলে এবার নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। মেলে ধরে সিলেট সিক্সার্সের পক্ষে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১৪টি। অবশ্য ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের উইকেটও ১৭টি।

পাকিস্তানি লিজেন্ড ওয়াকারের ছোট ছোট পরামর্শে গতির সঙ্গে লেট সুইং এবং সর্বোপরি নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দেশি ও বিদেশি ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে চলেছেন তাসকিন। আসরের প্রথম ম্যাচে ছিলেন উইকেট শূন্য। দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে উপহার দেন জয়। পরের ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ২৮ রানে ৩টি, কুমিল্লার বিপেক্ষে উইকেটশূন্য, রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩৪ রানে ২টি, ঢাকার বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে ৩২ রানে এবং রংপুরের বিপক্ষেও ফিরতি ম্যাচে ৪২ রানের খরচে নেন ৪ উইকেট। গোটা টুর্নামেন্টে আগ্রাসী বোলিং করে নজর কেড়ে নিয়েছেন নির্বাচক প্যানেলের। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজসহ বিশ্বকাপেও খেলার দাবিদার তিনি। বিপিএলে সিলেটের অন্যতম অস্ত্র তাসকিন তার সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ওয়াকার ইউনুস বলেছেন আরও সাহস নিয়ে বোলিং করতে। তার উপদেশেই বোলিং করে সাফল্য পাচ্ছি।’

ব্যাটিংয়ে দেশি ব্যাটসম্যানরা লড়াই করছেন বিদেশিদের সঙ্গে। কিন্তু তাসকিন, মাশরাফি, শফিউল, রুবেল, মুস্তাফিজরা দুর্দান্ত বোলিং করে পেছনে ফেলেছেন বিদেশিদের। তাসকিনতো পেছনে ফেলেছেন সবাইকে।


আপনার মন্তব্য