Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৮

বিশ্বকাপের ১৫ সৈনিক

মেজবাহ্-উল-হক

বিশ্বকাপের ১৫ সৈনিক

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কি এটা?

২০১১ সালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা! আলোচনার তুঙ্গে থাকার পরও ফিটনেসের কারণে কোচ জেমি সিডন্সের স্কোয়াডে তার জায়গা হয়নি। এবার ঠিক একইভাবে কাঁদলেন তাসকিন আহমেদ। সেই মাশরাফির বিশ্বকাপ দলেই জায়গা হলো না গতি তারকার!

 তাসকিনের জন্য নড়াইল এক্সপ্রেসের সহমর্মিতা কতটা, তা নতুন করে বলার নেই। ২০১৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে তাসকিন বোলিং অ্যাকশনের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই ম্যাচের আগের দিন বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মাশরাফির সে কি কান্না!

‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’ -এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নির্বাচনে এই বিষয়টি মাথাই রেখেই হয়তো নড়াইল এক্সপ্রেসকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাছাড়া এখানে মাশরাফির একার কি-ইবা করার আছে? দল নির্বাচন করেছে তো নির্বাচক প্যানেল!

তাসকিন সুযোগ না পেলেও দলে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ পেসার আবু জায়েদ রাহী। কপাল পুড়েছে অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসেরও। সুযোগ পেয়েছেন স্পিন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। গতকাল ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলের বাকি ১৩ জনকে নিয়ে আর কোনো সংশয়ই ছিল না। অভিজ্ঞতা-পারফরম্যান্স এবং কন্ডিশন সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ১৫ ক্রিকেটারকে।

বিশ্বকাপের এই দলটিকেই এ যাবত কালের সেরা বাংলাদেশ দলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ‘বিশ্বকাপের জন্য আমরা দল তৈরি করেছি, অবশ্যই এই মুহূর্তে এটা সেরা দল। এখানে কিন্তু একজন বাদে বাকি সবারই অভিজ্ঞতা আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার। আবু জায়েদ রাহীরই শুধু অভিষেক হয়নি। সেই হিসেবে আমি মনে করি যে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে আমরা ভালো করবো।’

তবে তাসকিনের সুযোগ না পাওয়ার পেছনে কারণ তার ফিটনেস ঘাটতি। প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘আমরা ওকে নিয়ে অনেক দিন থেকেই চিন্ত করছি। সেই ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশের হয়ে। আমরা যখন ওকে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য চিন্তাভাবনা করেছিলাম তখন আবার ইনজুরিতে পড়েছিল। এখন পর্যন্ত সে পুরোপুরি ফিট না।’

মাশরাফি, মুস্তাফিজ, রুবেল ও সাইফউদ্দিনের পর পঞ্চম পেসার হিসেবে বিবেচনায় ছিলেন রাহীর সঙ্গে শফিউলও। কিন্তু একজনকে তো বাদ দিতেই হবে। এ প্রসঙ্গে মিনহাজুলের ভাষ্য, ‘আমাদের নির্বাচক প্যানেলের আলোচনায় শফিউলকেই এগিয়ে  রেখেছিলাম। এরপর যখন টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ হয়। আমরা একজন সুইং বোলারের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করেছিলাম এবং তখন রাহীর কথাটা মাথায় এসেছে। সেই হিসেবে সুইং বোলার হিসেবে রাহীকে রাখা হয়েছে।’

আর মোসাদ্দেককে নেওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে, ‘রিয়াদের কাঁধের ইনজুরি আছে। তাই সে বোলিং নাও করতে পারে। সেই কথা চিন্তা করে যেন ব্যাকআপ হিসেবে একজন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার দরকার হয় তাই সৈকতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলেছে।’ সব শেষ নিউজিল্যান্ড সফরে মোটেও ভালো করতে পারেননি সৌম্য সরকার ও লিটন কুমার দাস। তারপরও তাদের বিকল্প কাউকে কেন চিন্তা করা হয়নি? তবে লিটন ও সৌম্য অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মিনহাজুল বলেন, ‘ফর্ম নিয়ে তো আমরা অবশ্যই চিন্তায় আছি। আরেকটি ব্যাপার হলো যে বিশ্বকাপের আগে এখনো তিন মাস সময় আছে। তবে এমন না যে পারফর্ম করেনি এরা। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগেই আমাদের এখানে যে প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে এখানে আমরা ওদেরকে ভালো অবস্থানে পেয়ে যাব।’

সপ্তাহ দুয়েক পরেই আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হবে বাংলাদেশ দল। তারপর সেখান থেকে বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ডে যাবেন মাশরাফিরা। সব মিলে আড়াই মাসের সফর। এই দীর্ঘ সময়ে যে কেউ নতুন করে ইনজুরিতে পড়তে পারেন। তাই বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনার জন্য তো ২২ মে পর্যন্ত সময় আছেই। সে কারণেই স্কোয়াডের বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তাদের মধ্যে তাসকিন, শফিউল, ইমরুল তো অবশ্যই আছেন।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছেন টাইগাররা। সে কারণেই এবার বাংলাদেশের প্রত্যাশার মাত্রাটা অনেক বেশি। প্রধান নির্বাচকও দল ঘোষণার পর আশার কথাই শোনালেন, ‘আমি মনে করি এখন আমাদের যে অভিজ্ঞ ওয়ানডে দল... আমরা কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি। এটা কিন্তু একটা প্লাস পয়েন্ট। এই অভিজ্ঞতার কারণেই আমাদের প্রত্যাশা বেশি। আমি মনে করি এই দলের অবশ্যই সামর্থ্য আছে এক থেকে চারের মধ্যে থাকার।’

 সোজা কথায় এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ইংল্যান্ড যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিদেনপক্ষে সেমিফাইনাল। এখন সময়ই বলে দেবে বিশ্বকাপে কেমন করবে লাল-সবুজরা।


আপনার মন্তব্য