শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৭

‘পেলে’ তার নাম নয়!

মেজবাহ্-উল-হক

‘পেলে’ তার নাম নয়!

‘পেলে’ নামটি বাবা-মায়ের দেওয়া নয়। তিনি যখন স্কুলে পড়তেন তখন স্থানীয় ক্লাব ‘ভাস্কো দা গামা’ এর গোলরক্ষক বিলের ভীষণ ভক্ত ছিলেন। কিন্তু বিলের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। ‘বিলে’ তার উচ্চারণে হয়ে যেত পেলে! সে কারণেই স্কুলের বন্ধুরা তাকে ‘পেলে’ নামে খেপাতেন। পরবর্তীতে স্কুল বন্ধুদের খ্যাপানো সেই ‘পেলে’ নামেই নিজেকে বিশ্ব মঞ্চে পরিচিত করেন।

ব্রাজিলকে তিনবার বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দিয়েছেন। তার নামের পাশে ১৩৬৩ ম্যাচ এবং ১২৮১ গোল। সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার তিনি। সবচেয়ে বেশি ৯২টি হ্যাটট্রিক করেছেন। ফুটবলের ইতিহাসে পেলেই সেরা এবং অদ্বিতীয়!

পুরো নাম অ্যাডসন আরান্টেস দো নাসিমেন্টো। ফুটবল বিশ্বে তিনি পেলে নামেই পরিচিত। জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর। ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে একজন। ১৯৯৯ সালে আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে ‘ফিফা শতাব্দীর সেরা ফুটবলার’ নির্বাচিত হয়েছেন।

একই বছর বিশ্ব অলিম্পিক কমিটি পেলেকে ‘শতাব্দীর সেরা অ্যাথলেট’ ঘোষণা করেন। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস (আইএফএফএইচএস) পেলেকে সেরা ফুটবলারের খেতাব দেন।

ঘরোয়া ফুটবলে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেলে। লিগের ৬৯৪ ম্যাচে তার গোলের সংখ্যা ৬৫০। ক্যারিয়ারে ১৩৬৩ ম্যাচে ১২৮১ গোল করে গিনেস বুক অব রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন।

মাত্র ১৫ বছরেই তিনি ব্রাজিলের জনপ্রিয় ক্লাব সান্তোসে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে খেলেন। ১৬ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলকে ১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা জিতিয়ে দিয়েছেন। ব্রাজিলের হয়ে তিনি ৯২ ম্যাচে ৭৭টি গোল করেছেন।

স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও পেলে ছিলেন একজন প্লে- মেকার। নিজে গোল দেওয়ার চেয়ে গোল করানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তার ড্রিবলিং ছিল অসাধারণ। পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন ফুটবলপ্রেমীদের। ১৯৭৭ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকে একাই মাত করে দিয়েছেন।

পেলের বাবা দোনদিনহোও ছিলেন তারকা ফুটবলার। খেলেছেন ফ্লুমিনেন্সের হয়ে।

সান্তোসের হয়ে পেলে সেরা সময় কাটিয়েছেন ১৯৬২ সালে। সেবার মহাদেশীয় কাপের ফাইনালে (বর্তমান নাম ক্লাব বিশ্বকাপ) ফাইনালে ইতালির বেনফিকাকে ৫-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সান্তোস। হ্যাটট্রিক করেন পেলে। ওই আসরে ৩৭ গোল করেছিলেন ব্রাজিলীয়ান কিংবদন্তি।

ফুটবল কিংবদন্তির নাম নিয়ে আছে মজার এক ঘটনা! ‘পেলে’ নামটি বাবা-মায়ের দেওয়া নয়। তিনি যখন স্কুলে পড়তেন তখন স্থানীয় ক্লাব ‘ভাস্কো দা গামা’ এর গোলরক্ষক বিলের ভীষণ ভক্ত ছিলেন। কিন্তু বিলের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। ‘বিলে’ তার উচ্চারণে হয়ে যেত পেলে! সে কারণেই স্কুলের বন্ধুরা তাকে ‘পেলে’ নামে খেপাতেন। পরবর্তীতে স্কুল বন্ধুদের খ্যাপানো সেই ‘পেলে’ নামেই নিজেকে বিশ্ব মঞ্চে পরিচিত করেন। বাবা-মায়ের দেওয়া ‘অ্যাডসন আরান্টেস দো নাসিমেন্টো’ নামটা আড়ালেই থেকে যায়।

এক নজরে

জন্ম : ২৩ অক্টোবর, ১৯৪০

উচ্চতা : ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি

প্লেয়িং পজিশন : ফরোয়ার্ড, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার

যুব ক্যারিয়ার

রেকর্ড

►            ব্রাজিল জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল।

►             বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক, ৯২টি।

►             ১৩৬৩ ম্যাচে ১২৮৩ গোল করে গিনেস         ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

►             সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড় (১৭ বছর ২৪৯ দিন)

►             বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক : ১৭ বছর ২৪৪ দিনে, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে।

►            বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার।

►             এক বছরে সবচেয়ে বেশি গোল, ১৯৫৯ সালে ১২৭টি গোল।


আপনার মন্তব্য