শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৩

বিমর্ষ জামালরা

ভুলের মাশুল হারে

রাশেদুর রহমান

ভুলের মাশুল হারে
ছবি : রোহেত রাজীব

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মতোই খুব সাদামাটা ফুটবল খেললেন জামাল ভূঁইয়ারা। লাল আর সবুজ রঙের বেলুন উড়িয়েই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে বাফুফে। এমন সাদামাটা আয়োজন! তার চেয়েও সাদামাটা ফুটবল। শিষ্যদের খামখেয়ালিপনা ফুটবল দেখে কোনোভাবেই নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি কোচ জেমি ডে। রাগে-ক্ষোভে বার বারই ধমক দিয়েছেন। রেফারির সামান্য ভুলেও দুই হাত উঁচিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তার নিষ্ফল এসব আক্রোশ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের কয়েক হাজার দর্শককে ফুটবলীয় বিনোদন দিতে পারেনি। হতাশায় ঢাকা মন নিয়েই বাড়ির পথ ধরেছে তারা। জাতীয় দলের অনেক ফুটবলারই ছিল না ফিলিস্তিন দলে। খর্বশক্তির এই দলের কাছেও ২-০ গোলে হারল বাংলাদেশ। ঠিক আগের আসরের মতোই। গতবার সেমিফাইনালে ফিলিস্তিনের কাছে ঠিক ২-০ গোলেই হেরেছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা।

ছন্দবদ্ধ ফুটবল কোথায়। গত বছর কাতারের বিপক্ষে যে ফুটবল নতুন স্বপ্নের বীজ বুনেছিল। যে ফুটবল ভারতের অহঙ্কার ধুলোয় লুটিয়েছিল। তাহলে কী বছর না ঘুরতেই ফুটবলের অবস্থা তথৈবচ! কোচ জেমি ডে অবশ্য তা মানতে নারাজ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন ভালো দল। আর আমরাও অনেক সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।’ এরচেয়ে বেশি আর কী ব্যাখ্যাই বা দিতে পারতেন জেমি ডে!

ফিলিস্তিনের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবলের কৌশল নিয়েছিলেন জেমি ডে। ম্যাচের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের ডিফেন্স লাইনে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেন সাদ-মতিন-জামাল-মামুনুলরা। একের পর এক আক্রমণ করে গেলেও গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। ফিলিস্তিন খেলছিল নিজেদের মতো। অনেকটা গুটিয়ে। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ খানিকটা সময় নেয় তারা। কিন্তু প্রথম কাউন্টার আক্রমণেই সফল হয় দলটা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে ফিলিস্তিন। মোহাম্মদ দারবিশের বাড়ানো বলে ডান দিক থেকে ডি-বক্সে প্রবেশ করে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে পূর্ণরূপে পরাস্ত করেন খালেদ সালেম। প্লেসিং শটে গোল করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ফিলিস্তিনের খেলার ধার যেমন বেড়েছে ঠিক তেমনি বাংলাদেশের আক্রমণগুলো হয়েছে আরও অগোছাল, অপরিকল্পিত। দ্বিতীয়ার্ধেও একই কৌশলে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ততোক্ষণে কৌশল বদলে ফেলেছে ফিলিস্তিন। এবার মাঠ, পরিবেশ আর প্রতিপক্ষ সবই চেনা হয়ে গেছে তাদের। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে রেদওয়ান আবু রাকাশ অনেকটা দূর থেকে বল বাতাসে উড়িয়ে দেন। ফ্লাইট মিস করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। বল পেয়ে প্লেসিং শটে গোল করেন লাইস খারুব। এরপর ম্যাচে ফেরার তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি জামাল ভূঁইয়ারা। বাংলাদেশের খেলার মধ্যে কেবল দৃষ্টি কেড়েছেন ডিফেন্ডার রায়হান হাসান। তার দুর্দান্ত থ্রোগুলো ছিল ডি বক্সের আশপাশ থেকে নেওয়া ফ্রি কিকের চেয়েও ভয়ঙ্কর। কিন্তু রায়হানের থ্রো কাজে লাগিয়েও কোনো গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দর্শকদের মাঠে আসার নিমন্ত্রণ দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুব ভালো ফুটবল উপহার দেওয়ার। গ্যালারিপূর্ণ না হলেও অনেক দর্শকই এসেছিলেন গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে মোটেও কার্পণ্য করেননি তারা। কিন্তু জামালদের নিষ্ফল আক্রমণ কেবল বেদনাই বাড়িয়েছে দর্শকদের।

প্রথম ম্যাচে পরাজয় সেমিফাইনালের পথ কিছুটা হলেও কঠিন করে তুলল জামালদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প থাকল না লাল-সবুজের জার্সিধারীদের সামনে। এমনকি ড্র করলেও বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠতে পারে।


আপনার মন্তব্য