শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০

গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, লাহোর

মাঠে হার, বাইরে জয়!

৫ উইকেটে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ

মেজবাহ্-উল-হক

মাঠে হার, বাইরে জয়!
রান আউট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরছেন তামিম ইকবাল এএফপি
সব শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে গড়িয়েছে প্রথম টি-২০ ম্যাচ। খেলায় হারলেও ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানের মাঠে খেলে বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশ

ব্যাট-বলের লড়াই ছাপিয়ে এই সিরিজে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান পেয়েছিল ‘নিরাপত্তা’। সিরিজ হবে কি হবে না, তা নিয়েও ছিল ঘোর সংশয়। তবে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গেছে গতকালের ম্যাচের মধ্য দিয়ে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম ম্যাচ। মাহমুদুল্লাহরা হেরে গেছেন ৫ উইকেটে। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ করে ১৪১ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ ওভারে জয় নিশ্চত করে স্বাগতিকরা। ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন শোয়েব মালিক।

বাংলাদেশ দারুণ শুরু করার পরও প্রথম দুই তারকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাস রানআউটের ফাঁদে পড়ায় বড় টার্গেট দিতে পারেনি পাকিস্তানকে। তার পরও বোলারদের দুর্দান্ত দাপটে শেষ পর্যন্ত লড়াই হয়েছে। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, উইকেটের আচরণ অনুযায়ী ২০-২৫ রান কম হয়েছে। তার পরও ফিল্ডিংয়ে দুটি ক্যাচ মিস না হলে এ ম্যাচেও হয়তো ভিন্ন চিত্র দেখা যেত।

তবে এখনো সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যায়নি। সমতা আনতে হলে আজ জয়ের বিকল্প নেই।  এখনো সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী টাইগার দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ‘আমরা বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেছি। পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’

এসবই তো ম্যাচের আলোচনা। মাঠের আলোচনা! এই সিরিজ আলোচিত তো বাইরের আলোচনার কারণে। মাঠের ক্রিকেটে হারলেও বাইরে কিন্তু জয় হয়েছে বাংলাদেশেরই। নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানে গিয়ে খেলে স্থানীয় দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন টাইগাররা। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিয়েছেন।  

 

এ সিরিজটি অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলেছে বেশ কিছু দিন। বিসিবির শর্ত ছিল, যত কম সময় পাকিস্তানে অবস্থান করা যায়! প্রথমে তো টেস্ট সিরিজ খেলতেই চায়নি বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তান ‘নাছোড়বান্দা’! শেষ পর্যন্ত তারা বিসিবিকে রাজি করিয়েই ছাড়ে। সেটা আবার বিসিবির কথাকে গুরুত্ব দিয়েই। পাকিস্তানে গিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের যাতে বেশি থাকতে না হয় এ জন্য সিরিজকে ‘তিন টুকরো’ করা হয়েছে।

 

প্রথম দফায় তিনটি টি-২০। আর তিন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ চার দিনের মধ্যে। তাই আজও বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ আছে। আগামীকাল ফাঁকা। সিরিজের শেষ টি-২০ আগামী পরশু। এর পরের সফরে একটি টেস্ট ও একটি ওয়ানডে। শেষ সফরে শুধু একটি টেস্ট।

 

এই সিরিজে বিসিবি ক্রিকেটারদের আগেই বলে দিয়েছিল, কেউ যেতে না চাইলে তাকে জোর করা হবে না। নিরাপত্তার কারণে দলের বড় তারকা মুশফিকুর রহিম যাননি।

 

এমনিতেই সাকিব আল হাসান নেই। সেটা দলের জন্য অনেক বড় একটা ধাক্কা। তার পর মুশফিক না যাওয়ায় টাইগারদের শক্তিমত্তা আরও কিছুটা কমে যায়।

তবে টি-২০ ম্যাচ খেলা যে এখানে কে আছে বা কে নেই তা দেখারও উপায় নেই।

 

তা না হলে ‘ক্রিকেটারদের আন্দোলন’ ও সাকিবের নিষিদ্ধের ঘটনার পর টালমাটাল অবস্থায় থাকা বাংলাদেশ দল কিনা ভারত সফরে গিয়ে প্রথম টি-২০-তেই জিতে গেল দারুণভাবে! ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। তবে পাকিস্তান সফরটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারল না টাইগাররা।

 

এই সফরে ‘নিরাপত্তা’ নিয়ে বরাবরই উদ্বিগ্ন ছিল বাংলাদেশ! তবে আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানের জন্যও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন নির্বাসিত থাকার পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পাকিস্তানে নিয়ে যেতে হচ্ছে বাইরের দলকে। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে যে ক্রিকেটবিশ্ব আবারও মুখ ফিরিয়ে নেবে!

বাংলাদেশ দলকে প্রেসিডেন্টের মতো নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এক সূত্র, ‘হোটেল থেকে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যেতে সময় লাগে ১০ মিনিটের মতো। পুরো রাস্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। বাংলাদেশ দলকে বহনকারী বাসের আগে-পিছে নিরাপত্তার বহর তো থাকছেই। সম্পূর্ণ রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশ। এখানে একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এলে যে রকম নিরাপত্তা দেওয়া হয় বাংলাদেশ দলের জন্য একই রকম ব্যবস্থা করেছি।’ সব শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে গড়িয়েছে প্রথম টি-২০ ম্যাচ। খেলায় হারলেও ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানের মাঠে খেলে বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদেরও মন জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মাঠের হার-জিৎ ছাপিয়ে এ ম্যাচে তাই সত্যিকার অর্থে জয় হয়েছে ক্রিকেটের।


আপনার মন্তব্য