শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৭

সুইং মাস্টার অ্যান্ডারসন ‘৬০৬’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সুইং মাস্টার অ্যান্ডারসন ‘৬০৬’

নতুন ও পুরনো বলে দুদিকেই সুইং করাতেন ওয়াসিম আকরাম। সেজন্য পাকিস্তান কিংবদন্তিকে বলা হতো ‘সুইং অব সুলতান’। ওয়াসিম আকরাম এখন অবসরে। টেস্ট ক্রিকেটে এখন আর সেরকম সুইং বোলার নেই। অন্যরা না পারলেও ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন দিব্যি সুইং করে চলেছেন। বছর ৩৯ ছুঁই, ছুঁই। এই বয়সেও তিনি ‘ইন সুইং’ ও ‘আউট সুইং’-এ দুর্বিষহ করে তুলছেন ব্যাটসম্যানদের। দুর্দান্ত সুইংয়ের জন্য ‘সুইং মাস্টার’ বলা হয় অ্যান্ডারসনকে। ১৪৪ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অ্যান্ডারসনই প্রথম পেসার, যিনি ৬০০ উইকেটের বিরল মাইলফলক গড়েছেন।

গলে গতকাল সুইংয়ে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। স্পেল ছিল ২৯-১৩-৪০-৬। ১৫৭ টেস্ট শেষে তার উইকেট সংখ্যা ৬০৬। তার উপরে মুত্তিয়া মুরলীধরন ১৩৩ টেস্টে ৮০০ উইকেট, শেন  ওয়ার্ন ১৪৫ টেস্টে ৭০৮ ও অনিল কুম্বলে ১৩২ টেস্টে ৬১৯ উইকেট। আশ্চর্য হলেও সত্যি তিনজনই স্পিনার। অ্যান্ডারসনই প্রথম পেসার যিনি ৬০০ উইকেটের মাইলফলক গড়েছেন। 

গলে প্রথম টেস্ট খেলেননি। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে ঘুম হারাম করেছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। প্রতিপক্ষ ইনিংসের ৬০ শতাংশ উইকেটই তুলে নেন। তার দুরন্ত বোলিংয়ে গলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ৩৮১। ২ উইকেটে ৯৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন পার করেছে সিরিজে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড। আগের টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো জো রুট ব্যাট করছেন ৬৭ রানে।

২০০৩ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লর্ডসে আলো ছড়ানো বোলিং করে জানান দেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। সেই শুরু। ৩৯ বছর বয়সেও ইংলিশ বোলিং বিভাগের মূল অস্ত্র তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে ক্রিকেটপ্রেমীরা আদর করে ডাকতেন ‘ক্রিকেটের বেকহ্যাম’। বেকহ্যাম যেমন সেট পিসে দুর্দান্ত ছিলেন। তেমনই অ্যান্ডারসনও সুইংয়ে মাস্টার। শচীন টেন্ডুকারকেই ২০১২ সালে এক সিরিজে ৫ বার সুইংয়ে পরাস্থ করে সাজঘরে পাঠিয়েছেন।

বর্ষিয়ান অ্যান্ডারসনকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা তুলনা করেন ওয়াইনের সঙ্গে। ওয়াইন যত পুরনো হয়, ততোই সুস্বাদু হয়। অ্যান্ডারসনও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুরধার হচ্ছেন।


আপনার মন্তব্য