শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:১৮

হোয়াইটওয়াশ নম্বর ১৪

পরিসংখ্যানের হিসাবে ১৪ নম্বর হোয়াইটওয়াশ এটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয়। ক্যারিবীয়দের প্রথম হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ দিয়েছিল ২০০৯ সালে তাদের মাটিতে। এবার দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ দিল ঘরের মাটিতে

আসিফ ইকবাল

হোয়াইটওয়াশ নম্বর ১৪

তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদদের নতুন বছরটা বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। রানের ফাল্গুধারা ছুটিয়েছেন সবাই। বল হাতেও পেছনে ছিলেন না মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজরা। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জয়োৎসবেও মেতেছেন ক্রিকেটাররা। ২০২১ সালের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ পরিষ্কার ব্যবধানে। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে তুলে নিয়েছে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের ১৪ নম্বর হোয়াইটওয়াশ। যা আবার ২৫তম সিরিজ জয়ও। সব মিলিয়ে ৩৭৯ ম্যাচে গতকালের ১২০ রানের জয়টি ছিল বাংলাদেশের ১৩১ নম্বর জয়।

পরিসংখ্যানের হিসাবে ১৪ নম্বর হোয়াইটওয়াশ এটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয়। ক্যারিবীয়দের প্রথম হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ দিয়েছিল ২০০৯ সালে তাদের মাটিতে। এবার দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ দিল ঘরের মাটিতে। দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করতে মিরপুরের প্রথম দুই ম্যাচে ৬ ও ৭ উইকেটে এবং গতকাল চট্টগ্রামে জয় পায় ১২০ রানে। গতকালই প্রথম ম্যাচটিতে ব্যাটসম্যানরা স্কোর করেন। ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি হয়েছে ৪টি। টাইগারদের পক্ষে হাফসেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। মজা বিষয় হচ্ছে সাকিব ৫১ রান করলেও তামিম, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ করেন ৬৪ রান করে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এটা ৪১ নম্বর ম্যাচে ১৮ নম্বর জয় এবং টানা অষ্টম। সবচেয়ে বেশি জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭৫ ম্যাচে ৪৭টি। আর দুই অংকের জয় রয়েছে শুধুমাত্র ১০টি। অপরাপর টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে জয় অস্ট্রেলিয়া ১, আফগানিস্তান ৫, ইংল্যান্ড ৪, ভারত ৫, আয়ারল্যান্ড ৭, পাকিস্তান ৫, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭টি।     

বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে খেলে ১৯৮৬ সালে। এরপর গত ৩৫ বছরে ৩৭৯টি ওয়ানডে খেলেছে। জয় পেয়েছে ১৩১টি এবং হার ২৪১টি। পরিত্যক্ত ৭ ম্যাচ। বাংলাদেশ প্রথম সিরিজ জয় করে ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। প্রথম হোয়াইটওয়াশ করে ২০০৬/৭ মৌসুমে। কেনিয়াকে হারায় ৪-০ ব্যবধানে। বাংলাদেশ ওয়ানডে জিতেছে সবগুলো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে। তবে হোয়াইটওয়াশ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। সবচেয়ে বেশি হোয়াইটওয়াশ করেছে জিম্বাবুয়েকে ৫ বার। দুবার করে হোয়াইটওয়াশ করেছে কেনিয়া (৪-০ ও ৩-০), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৩-০ ও ৩-০), নিউজিল্যান্ড (৪-০ ও ৩-০) এবং একবার করে আয়ারল্যান্ড (৩-০), স্কটল্যান্ড (২-০) ও পাকিস্তানের (৩-০) বিপক্ষে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের দলগত সর্বোচ্চ স্কোর ৩৩৮/৮, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৯ সালের ২০ বিশ্বকাপে নটিংহামশ্যায়ারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলগত সর্বোচ্চ ২০১৯ সালের ১৭ জুন টনটনে ৮ উইকেটে ৩২২ রান। সবচেয়ে বড় জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬৯ রানে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় ১৬০ রানে। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ লিটন দাসের ১৭৬, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৩০* তামিম ইকবালের, ২০১৮ সালে প্রোভিডেন্সে। সেরা বোলিং মাশরাফি বিন মর্তুজার ২৬ রানে ৬ উইকেট, কেনিয়ার বিপক্ষে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ। এখন প্রস্তুতি টেস্ট সিরিজের। ৩-৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম টেস্ট চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এবং দ্বিতীয় টেস্ট মিরপুরে ১১-১৫ ফেব্রুয়ারি।  

 

সাকিব আল হাসান

ম্যান অব দ্য সিরিজ

আমি মনে করি এ জয়ের পেছনে কোচিং স্টাফ এবং টিমমেটদের অনেক অবদান আছে। প্রথম ম্যাচের পর সবকিছুই সহজ হয়ে গেছে। আমি জানতাম, আমার কেবল কিছু ম্যাচ টাইম প্রয়োজন। প্রথম ম্যাচের পরই আমার আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছিল।

সিরিজ যতই এগিয়েছে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সিরিজে পেসাররা স্পিনারদের অনেক সহযোগিতা করেছে। বর্তমানে আমাদের দারুণ একটা ওয়ানডে সেট-আপ দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেকের মধ্যেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা আছে। প্রত্যেকেই আরও উন্নতি করতে চায়।

দলের মধ্যে প্রতিটা স্থানেই দারুণ একটা প্রতিযোগিতা চলছে।

 

 

তামিম ইকবাল

অধিনায়ক

আমাদের প্লেয়াররা দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে জয়ের ক্ষুধা যেভাবে দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছে সবাই। তারপরও সবার মধ্যেই নিজের সেরাটা দেওয়ার মধ্যে কোনো কমতি ছিল না।

আমরা আজ (গতকাল) শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্য থেকে একটা সেঞ্চুরি আশা করেছিলাম। সুযোগ ছিল আমাদের। আগের দুই ম্যাচেও আমরা সেঞ্চুরি পাইনি। আগে আমরা ফাস্ট বোলারের জন্য দুশ্চিন্তায় থাকতাম। এখন আমাদের হাতে বেশ কিছু ফাস্ট বোলার আছে। অনেকেই অপেক্ষায় আছে।

 

 

 

মুশফিকুর রহিম

ম্যান অব দ্য ম্যাচ

দলের যখন রান প্রয়োজন, সেসময় রান করাটা দারুণ একটা অনুভূতি উপহার দেয়। আমাদের প্লেয়াররা দারুণ ব্যাটিং করেছে। বোলাররাও অসাধারণ বোলিং করেছে। আগের দুই ম্যাচে আমি খুব বেশি সুযোগ পাইনি। আজ (গতকাল) আমি অপরাজিত থাকতে পারলে বেশি খুশি হতাম। ক্রিকেট আমার কাছে সবকিছু। গত ১০-১২ মাস ধরেই আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। প্রত্যেকেই দারুণ খেলেছে। শুরু থেকেই আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। টেস্টে ওরা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) আমাদের চেয়ে অভিজ্ঞ দল। আগেরবার আমরা সহজেই জয় পেয়েছিলাম। তবে তারা জানে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে।


আপনার মন্তব্য