শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৯

স্পিন স্বর্গে পেস পরীক্ষা

ম্যাচ প্রিভিউ

মেজবাহ্-উল-হক

স্পিন স্বর্গে পেস পরীক্ষা

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম টাইগারদের জন্য ‘পয়মন্ত’ ভেন্যু হলেও সর্বশেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মতো ‘নবীন’ দলের কাছেও বিশাল ব্যবধানে হারতে হয়েছে। তার আগে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্টে জয়ের রেকর্ডও আছে।

অম্ল-মধুর স্মৃতি নিয়েই আজ চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

সাগরিকার উইকেট পরীক্ষিত স্পিন-স্বর্গ। এটা কারও অজানা নয়। এমন উইকেটে একাদশ নির্বাচনে একটু এদিক সেদিক হলেই যে ঝামেলায় পড়তে হয় তা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচেই হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান তুলনামূলকভাবে স্পিনে বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী, তাদের বিরুদ্ধে দলে মাত্র একজন পেসার নিয়ে দল গঠন করে বিপদে পড়েছিলেন টাইগাররা। কিন্তু ক্যারিবীয়রা পেস বোলিংয়ে শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে বোলিংয়ে স্পিনকেই যে গুরুত্ব দিতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশের আছে স্পিন-ত্রয়ী -সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভরসা পেস আক্রমণ। তাদের আছে কেমার রোচ এবং শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের মতো বিশ্বমানের পেসার। তাই এই টেস্টে আসল লড়াইটা হবে স্পিন বনাম পেসের মধ্যে।

চট্টগ্রামে সব সময়ই স্পিনাররা বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের বাইশগজের রেকর্ডও তা নির্দেশ করে।

সাদা পোশাকে এই উইকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ১৬ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৬০। নিষেধাজ্ঞার পর প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তাই সাকিবের দিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তাইজুল ইসলাম। এই স্পিনারের ৭ ম্যাচে উইকেট ২৬টি। যদিও বেশ কিছুদিন থেকে নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছেন তিনি। কিন্তু অধিনায়ক মুমিনুল হক মনে করেন, আগের চেয়ে এখন আরও বেশি কার্যকর হবে তার বোলিং।

মেহেদী হাসান মিরাজ তো চট্টগ্রামের উইকেটে বরাবরই ভয়ংকর। সাগরিকায় ৫ ম্যাচে তার উইকেট ২২টি। এ ম্যাচেও টাইগারদের অন্যতম ভরসার নাম মিরাজ।

বাংলাদেশ স্পিনে শক্তিশালী হলেও প্রতিপক্ষের রাকিম কর্নওয়ালকে নিয়ে ভাবনার  যথেষ্ট কারণ আছে। এ ক্যারিবীয় স্পিনার প্রস্তুতি ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন। তাকে নিয়ে বাধ্য হয়েই আলাদা পরিকল্পনা করেছেন বাংলাদেশ দল।

আলোচনায় না থাকলেও বাংলাদেশের পেসাররা কিন্তু ভালো করছেন। ফর্মে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডে সিরিজে দারুণ বোলিং করেছেন। তাই মুস্তাফিজও আস্থা রাখছেন রাসেল ডমিঙ্গো। টাইগার কোচ জানান, প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা বিবেচনায় নিয়ে স্পিন-পেস মিলেই একটি আদর্শ বোলিং ইউনিট তৈরি  করতে হবে।

করোনার মধ্যে বাংলাদেশ টেস্ট না খেললেও ক্যারিবীয়রা ইংল্যান্ডে গিয়ে পেস বোলিং দাপট দেখিয়ে স্বাগতিকদের হারিয়েছে। সে কারণেই প্রতিপক্ষের পেসারদের নিয়ে বেশ সতর্ক বাংলাদেশ। তাই বলে রোচ-গ্যাব্রিয়েলদের ভয় করতে হবে এমনটা মনে করেন না মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘ক্যারিবীয় টেস্ট দলের বোলিং অ্যাটাক মোটামুটি নয়, অনেক বেশি কার্যকরী। সবাই অভিজ্ঞ। এর আগে সর্বশেষ এই চট্টগ্রামে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ খেলেছি সেখানেও এই বোলিং অ্যাটাকই ছিল। তবে সবাই ওদের বোলিং সম্পর্কে জানে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করছি দল হিসেবে আমরা ভালো কিছুই করব।’

স্পিন-স্বর্গ হলেও চট্টগ্রামে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন ব্যাটসম্যানরা। এই ভেন্যুতে এর আগে বাংলাদেশ টেস্টে যে দুটি জয় পেয়েছে দুটিতেই ম্যাচসেরা হয়েছেন ব্যাটসম্যান। আর দুই ম্যাচেই সেরা হয়েছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। টাইগার ক্যাপ্টেনের সবচেয়ে পছন্দের ভেন্যুও এটি। মুমিনুলের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯ সেঞ্চুরির মধ্যে ৬টি চট্টগ্রামে। তাই টাইগার দলপতি একদিকে দল নিয়ে যেমন ভাবছেন তেমনি নিজের ব্যাটিং নিয়েও আলদা ছক কষেছেন। গতকাল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগে সেসব দুর্বলতা ছিল তা নিয়েও কাজ করছি। আশা করি ভালো কিছুই হবে।’

চট্টগ্রাম টেস্টে প্রধান ফোকাস থাকবে স্পিনারদেরও ওপরই। কিন্তু এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এমন সাগরিকার স্পিন স্বর্গে পেসারদের চরম পরীক্ষাই দিতে হবে।


আপনার মন্তব্য