শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৪১

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট শুরু কাল

সবুজ উইকেটে লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সবুজ উইকেটে লড়াই
উপুড় হয়ে পাল্লেকেলের উইকেট দেখছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। সেদিকে তাকিয়ে আছেন লঙ্কান কোচ মিকি আর্থার। পাল্লেকেলের সবুজ উইকেটেই আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট -এএফপি

কলম্বো ও গলে টেস্ট খেলেছে। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ১২টি। কিন্তু ক্যান্ডিতে খেলেনি একটিও। টেস্ট না খেললেও ক্যান্ডির বৃহত্তম স্টেডিয়াম পাল্লেকেলেতে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে টাইগারদের। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি টেস্ট খেলতে মুমিনুলরা এখন ক্যান্ডিতে। ২১-১৫ এপ্রিল এবং ২৮ এপ্রিল-২মে টেস্ট দুটি খেলবে পাল্লেকেলেতে। টেস্ট দুটি খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মুমিনুল বাহিনী। কাতুনায়েকের ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব মাঠে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে মুমিনুলরা গতকাল পা রাখেন ক্যান্ডিতে। সেখানে গতকাল ও আজ অনুশীলন করে আগামীকাল টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে চেপে ধরতে সবুজ ঘাসের উইকেট বানাচ্ছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। যদিও পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার টেস্ট পারফরম্যান্স উজ্জ্বল নয়। ৭ টেস্টে জয় মাত্র একটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। হার ৩টি এবং ড্র ৩টি।     

গত বছরের সেপ্টেম্বরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন ইস্যুতে দুই পক্ষ অনঢ় থাকায় শেষ পর্যন্ত সিরিজটি স্থগিত হয়। এবার কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে অবস্থান পাল্টায় ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা। এতেই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ১২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় পা রাখে টাইগাররা। তিনদিন নেগোম্বোতে হোম কেয়ারেন্টাইনে ছিল। এরপর দুদিন নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে অনুশীলন করে। ১৭ ও ১৮ এপ্রিল নিজেরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে। যেখানে তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন। এছাড়া নুুরুল হাসান সোহান, অধিনায়ক মুমিনুলও রান করেছেন। স্পিনারদের মধ্যে সফল ছিলেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুলও উইকেট নিয়েছেন। তবে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন পেসার তাসকিন, রুবেল, আবু জায়েদ রাহী, শরীফুল, শহীদুল, মুকিদুলরা।

পাল্লেকেলেতে এখন পর্যন্ত একটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে ওয়ানডেটি জিতেছিল। ডাক ওয়ার্থ লুইস মেথডের ম্যাচটিতে টাইগাররা জিতেছিল ৩ উইকেটে। ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩০২ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। ডিএল মেথডে ২৭ ওভারে ১৮৩ রানের টার্গেট বাংলাদেশ টপকেছিল ৭ উইকেট হারিয়ে। এই ভেন্যুতে তিনটি টি-২০ খেলে হেরেছে সবগুলো। ২০১২ সালে দুটি খেলেছে টি-২০ বিশ্বকাপে। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫৯ রানে এবং পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল ৮ উইকেটে। ২০১৩ সালে স্বাগতিকদের কাছে হেরে যায় ১৭ রানে। তাই কোনোভাবেই বলা যাচ্ছে না পাল্লেকেলে একেবারেই অপরিচিত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে।

করোনাকালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সফর করছে। গত মাসে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ খেলেছে এবং দুই বিভাগেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। নিউজিল্যান্ড সফরে শুধু ব্যাটিং ও বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়ের মান ছিল যাচ্ছেতাই। গোটা সিরিজে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ক্যাচ মিস করেছেন কমপক্ষে ১০টি। সহজ সহজ ক্যাচ মিস করার কারণ ব্যাখ্যায় বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ বলেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের পরিষ্কার আকাশের জন্য ক্যাচ মিস হয়েছে।

গত দুই বছরে বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই। ৯ টেস্টের ৮টিতেই হেরেছে এবং সবগুলোই বড় ব্যবধানে। একটি জয় ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মুমিনুলরা ৫ টেস্টে খেলেছে সবগুলোতে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফেবারিট হয়েও হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্সের গ্রাফ খুব ভালো নয়।