শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৯

‘টাইমলেস টেস্ট’ যুগের প্রতিচ্ছবি!

পাল্লেকেলেতে সেই একই উইকেট, বোলারদের হাহাকার

মেজবাহ্-উল-হক

‘টাইমলেস টেস্ট’ যুগের প্রতিচ্ছবি!

পাল্লেকেলের উইকেটে যেন সেই ‘টাইমলেস টেস্ট’ যুগের প্রতিচ্ছবি! বোলারদের জন্য উইকেটে কিছুই নেই। ব্যাটসম্যানরা যতক্ষণ ইচ্ছা কাটাতে পারবেন। ইচ্ছা মতো রান করতে পারবেন

   

ক্রিকেটে ‘টাইমলেস টেস্ট’ যুগ কি?

ক্রিকেটভক্ত মাত্রই সেটা জানেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে টেস্ট ক্রিকেটের চিত্রটাই অন্যরকম ছিল। এখনকার মতো তখন ধরাবাধা পাঁচ দিন ছিল না। ম্যাচের ফল না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলতেই থাকত।  যদি দুর্যোগ বা অন্য কোনো সমস্যা সামনে এসে হাজির না হয়, খেলা চলবে। ১৮৭৭ সালে টেস্ট শুরুর পর থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ছিল টাইমলেস টেস্ট যুগ।

১৯৩৯ সালে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের মধ্যকার একটি ম্যাচ ১০ দিন চলার পর দুই দলই ড্র মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। টেস্টের ইতিহাসে সেটি ছিল সবচেয়ে লম্বা সময়ের। এছাড়া ১৯৩০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কিংসটনে ইংল্যান্ডের একটি ম্যাচ ৯ দিন ধরে চলার পর ড্র হয়েছিল। 

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিংবা অন্য খেলার সঙ্গে তুলনা করতে গিয়েই টেস্ট ক্রিকেটকে টাইম-ফ্রেমে বাঁধা হয়। এখনকার পাঁচ দিনের টেস্টে অনেক নিয়ম। উইকেট কেমন হচ্ছে তা নিয়েও খোঁজ-খবর রাখে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি।

যদিও স্বাগতিক প্রতিটি দেশই নিজেদের পছন্দের উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চিন্তা করে। তারপরও আইসিসির ন্যূনতম মান বজায় রাখতে হয়। কিন্তু পাল্লেকেলের উইকেটের পিচ সেই মান রক্ষা করতে পারেনি।

পাল্লেকেলের উইকেটে যেন সেই ‘টাইমলেস টেস্ট’ যুগের প্রতিচ্ছবি! বোলারদের জন্য উইকেটে কিছুই নেই। ব্যাটসম্যানরা যতক্ষণ ইচ্ছা কাটাতে পারবেন। ইচ্ছা মতো রান করতে পারবেন।

পাল্লেকেলের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের চিত্রই বলে দিচ্ছে, রান উৎসবের প্রথম ম্যাচ যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই যেন শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। গতকাল ১ উইকেটে ২৯১ রান করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। সেঞ্চুরি করেছেন দুই ওপেনার দিমুথ করুণারত্ন ও লাহিরু থিরিমানে।

প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির পর গতকালও ১১৮ রানের আরেকটি ইনিংস খেলেছেন লঙ্কান দলপতি। পুরো দিনে কেবল করুণারত্নর উইকেটটিই নিতে পেরেছে বাংলাদেশের বোলাররা। আরেক ওপেনার থিরিমানে ১৩১ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

লঙ্কান দলপতিকে আউট করেছেন তরুণ পেসার শরীফুল ইসলাম। এটিই তার প্রথম টেস্ট। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সেরা বোলারেরর সাদা পোশাকে জাতীয় দলে অভিষেক হলো এমন একটি ‘মরা উইকেটে’!

প্রথম টেস্ট শেষে পাল্লেকেলের উইকেট নিয়ে রিপোর্ট করেছিল ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। পাঁচ দিনে যেখানে রান হয়েছে ১২৮৯, সেখানে উইকেট পড়েছে মাত্র ১৭টি। উইকেটে ভারসাম্য নেই। আইসিসির নির্দেশিত মান বজায় না থাকায় একটি ডি-মেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে পাল্লেকেলে ভেন্যুর নামের পাশে। তারপরও কি উইকেটের কোনো পরিবর্তন হয়েছে?

অন্তত প্রথম দিনের ব্যাটিং দেখে তা মনে হচ্ছে না! ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা, লঙ্কানরা আতঙ্ক থেকেই এমন ‘তক্তা মার্কা’ উইকেট বানিয়েছে। কেননা  গত জানুয়ারিতে তারা ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। তাদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও সবশেষ সিরিজেও টেস্টে একটি ম্যাচ হেরেছিল (সিরিজ ড্র ছিল)। তাই এই মুহূর্তের আর কোনো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড।

এমন উইকেটে ম্যাচের ফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদি না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে জয়টা উপহার না দেন!  এটাও ঠিক প্রথম দিনের উইকেট দেখে বাকি চার দিন সম্পর্কে অনুমান করা কঠিন। চার দিনে আরও ১২টি সেশন খেলার বাকি। যেকোনো সময় বদলেও যেতে পারে ম্যাচের চিত্র।

তবে প্রথম দিনের উইকেট দেখে এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে, ‘তক্তা মার্কা’ পিচ তৈরি করে লঙ্কানরা সেই টাইমলেস টেস্ট যুগকেই যেন সামনে টেনে নিয়ে এসেছে! খেলা চলছে তো চলছেই। উত্তেজনা নেই। উত্তাপ নেই। ব্যাটসম্যানরা লম্বা সময় খেলবেন, রান করবেন, ম্যাচ ড্র হবে।